রাঙামাটিলিড

জমে উঠেছে রাঙামাটিতে কোরবানির পশুর হাট

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
আর দুইদিন পরই পবিত্র ঈদ উল আযহা। ঈদকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও বসেছে কোরবানির পশুর হাট। প্রথমদিকে ক্রেতা সমাগম কিছুটা কম হলেও কোরবান কাছে আসতেই ধীরে ধীরে জমে উঠতে শুরু করেছে শহরের একমাত্র কোরবানির পশুর হাটটি।

বুধবার শহরের পুরাতন বাস স্টেশনস্থ রাঙামাটি পৌর ট্রাক টার্মিনাল পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, আশেপাশের বিভিন্ন এলাকাসহ রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিক্রয়ের জন্য গরু নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। ইজারাদারদের নির্ধারিত বাঁশের কাঠামোতে তাঁরা গরু ও ছাগল বেঁধে রাখছেন। গরুর হাটে দেশি গরুর উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে বেশি। বিক্রেতারা গরুর দাম হাঁকছেন ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া ৫০-৫৫ হাজার টাকায়ও মিলছে গরু। ছাগলের দাম চাওয়া হচ্ছে ২০-২৫ হাটে বিক্রেতার সংখ্যা যথেষ্ট থাকলেও ক্রেতা সমাগাম তেমনটা চোখে পড়েনি। তবুও প্রখর রোদ এবং বৃষ্টির মধ্যেই ব্যবসায়ীরা কোরবানির পশু বাজারে নিয়ে আছেন।

ক্রেতা জাহিদুল ইসলাম রনি বলেন, বাজারে এখনো তেমন গরু উঠেনি আর দামটাও তুলনামূলক বেশি। গরুর পরিমাণ বাড়ার সাথে সাথে দামটাও কমবে বলে আশা করি।

আরেক ক্রেতা মাসুদ রানা বলেন, গরুর বাজার অনেকটা উর্ধ্বমুখী। অন্যান্য বছরের তুলনায় দামের পার্থক্য অনেক। তবে যেহেতু গরুর বাজার শুরু হলো বেশিদিন হয়নি তাই হয়তো বিক্রেতারা এখনই দাম ছাড়তে চাইছেন না। পাহাড় থেকে আরো গরু আসলে দাম হয়তো আরো কমে যাবে।

দাম নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ থাকলেও বিক্রেতারা দামের ব্যাপারে বললেন ভিন্ন কথা। গরু ব্যবসায়ী মো. বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বাজারে গরুগুলোর যে দাম চাওয়া হচ্ছে তা মোটেও বেশি নয়। করোনার কারণে গরু আনা নেয়া খরচ থেকে শুরু করে গরুর খাদ্য, ঔষুধ খরচ সবকিছুর দাম বেড়ে গেছে। তাই গরুর যে দাম চাওয়া হচ্ছে তা ঠিকই আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জুরাছড়ি থেকে গরু নিয়ে আসা বিক্রেতা শুভেন্দু চাকমা বলেন, বাজারের পরিস্থিতি তেমন একটা খারাপ নয়। ক্রেতারা দাম বেশি বললেও অনেকেই গরু কিনেছেন। আমি ১২টি গরু এনেছিলাম, ৮টি বিক্রি করে ফেলেছি। তবে করোনার কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কিছুটা কম, আগামীকাল থেকে হয়তো বাড়তে শুরু করবে।

ট্রাক টার্মিনাল গরুর বাজার থেকে ট্রাকে করে গরু জেলার বাইরে নিয়ে যেতেও দেখা গেছে। অনেক খামারি বেশি দাম পাওয়ার আশায় অন্যান্য জেলায় গরু পাঠিয়ে দিচ্ছেন বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে হাটের ইজারাদার জানান, ধীরে ধীরে রাঙামাটির গরু বাজারে ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

one × 3 =

Back to top button