আলোকিত পাহাড়ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

ছোট শহরের বড় স্বপ্ন ‘স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ’

বলা হয়ে থাকে ‘মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়’। সেই বড় স্বপ্ন নিয়ে এক ছোট শহরে পথচলা শুরু ‘স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ’র।  পার্বত্য শহর রাঙামাটির তিন তরুন আহমেদ ইসতিয়াক (আজাদ), রমজান আলী, কামাল উদ্দীন এবং চাকুরির সুবাধে রাঙামাটিতে আসা কামাল হোসেন, এই চার তরুণ উপলব্ধি করলেন, এই শহরের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্যে একটি মানবিক স্কুলের প্রয়োজন, যেখানে বিনামূল্যে পাঠদানের পাশাপাশি সামাজিক, নৈতিক-মানবিক ও সাংস্কৃতিক দীক্ষাও পাবে শিশু শিক্ষার্থীরা, সেই সুবাদে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে রাঙামাটি বাস টার্মিনাল লাগোয়া শান্তিনগর এলাকায় একটি ছোট্ট ঘর ভাড়া নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ’।

তিন বছরের প্রানান্ত পরিশ্রম আর ভালোবাসা দিয়ে অসংখ্য শিশু কিশোরের মনে আলোর দ্যোতনা ছড়ানো এই চার তরুণের স্বপ্নের বিদ্যাপীঠ আরো একটি ডানা মেলেছে ২০২০ সালে,নিজেদের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠান ‘স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ-২’ এর যাত্রা শুরু করে শহরের ভেদভেদী এলাকায়।

‘স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন’র ব্যানারে অসংখ্য সামাজিক সাংস্কৃতিক কাজের পাশাপাশি এই বিদ্যাপীঠ পরিচালনা করে শহরবাসি দৃষ্টি কেড়েছেন তারা।

শুরুতে স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন থেকে ৪৫% বিদ্যালয় পরিচালনার খরচ পেলেও ২০১৮ সাল থেকে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে চলছে বিদ্যাপীঠের দুটি শাখা। প্রথম ক্যাম্পাসে ৪৫ জন এবং দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে ৩০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পড়ছে। এদের মধ্যে স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ-১ এর শিক্ষার্থীরা শিশু শ্রেণী থেকে ১ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়লেও,আগামী বছর দ্বিতীয় শ্রেণী খোলা হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠকরা। অন্যদিকে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে উপরের ক্লাসের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন বিকাল ৪ টা থেকে ৬ পর্যন্ত পাঠ সহায়তা প্রদান করা হয় বিনামূল্যে,যাতে স্বপ্নযাত্রীর সদস্য ও শুভাকাংখী ৮ জন শিক্ষক হিসেবে বিনা পারিশ্রমিকে সময় দেন।

সংগঠনটির রাঙামাটি জেলার সদস্যদের মাসিক ফি ও কিছু শুভাকাংখীর সহযোগিতায় কিছুটা বিদ্যাপীঠ পরিচালিত হচ্ছে। তবে এই সহযোগিতা বিনামূল্যের দুটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য যথেষ্ট নয় মোটেই। প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের মাঝে বই, খাতা, স্কুল ব্যাগ, শীতবস্ত্র, ঈদ বস্ত্র, পহেলা বৈশাখে জামা বিতরণ করা হয় এবং নিয়মিত নাস্তা প্রদান করা হয়। বছরে ২বার মূল্যায়ন পরীক্ষা নেওয়া হয়। প্রতি বছরে বিভিন্নভাবে বিদ্যাপীঠের বাচ্চাদের অংশগ্রহনে বিকাশমূলক নানা অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়ে থাকে, বছরে বেশ কয়েকবার অভিভাবকদের সাথে মত বিনিময় সভা করা হয়।

স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ’র কর্ণধার ও স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন রাঙামাটি জেলা’র সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইসতিয়াক (আজাদ) বলেন, গরীব অসহায় শিশুদের প্রাণের ‘স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ’ সুন্দর ও সফলভাবে এখনো চলমান আছে, যারা এই পর্যন্ত সাপোর্ট দিয়ে আসছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা সবসময় আছে এবং থাকবে, সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি সবসময় যাদের নিয়ে আগামীর পথচলা আমার ফাউন্ডেশনের স্বপ্নবাজ ভাইবোনদের।

আমাদের পরিচালনা গতিশীল করতে ‘সমন্বয় কমিটি’ গঠন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি , আমাদের লক্ষ্য আমরা প্রত্যেকটি উপজেলায় একটি করে বিদ্যাপীঠ গঠন করব।’

পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে এখন স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠের দুটি শাখা। তাদের স্বপ্ন জেলার প্রতিটি উপজেলায় নিজেদের নিয়ে যাওয়ার। এই স্বপ্ন কতটুকু পূর্ণতা পাবে,তা হয়তো সময়ই ঠিক করে নেবে,তবে এই স্বার্থপর সময়ে অসহায় গরীব শিশুদের নিয়ে এমন সৎ ভাবনা ক’জনই বা ভাবে। এই অসাধারণ উদ্যোগটিকে এগিয়ে নিতে আপনার আমার সহযোগিতা হয়তো একটি চলমান স্বপ্নকে নিয়ে যাবে পূর্ণতার পথে…..

সহযোগিতার জন্য :
স্বপ্নযাত্রী বিদ্যাপীঠ, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা, মোবাইল-০১৪০১৫০০০৬৮

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

three × two =

Back to top button