রাঙামাটিলিড

ছেলেকে ‘শিক্ষা দিতে’ প্রার্থী হলেন বাবা নিজেই,ছেলে বলছেন বাবা ‘জামাত সমর্থক’ !

বাঘাইছড়ির আমতলীতে চেয়ারম্যান পদে পিতা-পুত্রের লড়াই

শুভ্র মিশু
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বাবা-ছেলে। ছেলে গত মেয়াদে চেয়ারম্যান থাকলেও ছেলেকে হারাতে মূলত লড়ছেন পিতা। তবে নৌকার প্রার্থী রাসেল চৌধুরীর দাবি, তার বাবা সুলতান আহমদ জামায়াতের সমর্থনে নৌকাকে হারানোর জন্যই নির্বাচন করছেন। আর বাবা সুলতান আহমদের দাবি, আচরণগত শিক্ষা দিতেই পুত্রের বিরুদ্ধে তার নির্বাচন।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আমতলী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী রাসেল চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রাসেল চৌধুরীর বাবা সুলতান আহমদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী) মুজিবুর রহমান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছাত্রদল নেতা আল আমিন। একই পরিবারের বাবা ও ছেলের নির্বাচন নিয়ে যেমন আলোচনায় রয়েছে ইউনিয়নটি তেমনিভাবে ভোটারদের কাছেও গুরুত্ব পাচ্ছে পিতা-পুত্র দুইজনই।

পিতা সুলতান আহমদের দাবি বাবা-ছেলে হলেও দুইজনই আলাদা পরিবারে বসবাস করছেন। মূলত গত পাঁচ বছরে পুত্রের আচরণে ক্ষিপ্ত হয়েই নির্বাচন করছেন তিনি। ছেলের কোন ধরণের আচরণে ক্ষিপ্ত তা খোলাসা না করলেও, পুত্র এলাকার জনসাধারণের সঙ্গে পুরো সময়টাতেই অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে নিজে চেয়ারম্যান হয়ে পুত্রকে জনসাধারণের সাথে কিভাবে আচরণ করতে হয় সে বিষয়ে শিক্ষা দিতেই নির্বাচন করছেন বলে দাবি তার।

আর পুত্র রাসেল চৌধুরীর দাবি, পিতা আগে থেকেই ছিলেন জামায়েত ইসলাম সমর্থক। তার সাথে ও তার ছোট ভাইয়ের রাজনৈতিক আদর্শের মিল না থাকায় তারা ও পিতা সুলতান আহমদ আলাদা থাকেন। পিতা মূলত জামায়েত ইসলামের আদর্শে এবং সমর্থনে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে নির্বাচন করছেন।

সুলতান আহমদ জানান, আমি চশমা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছি। গত নির্বাচনে আমার ছেলে রাসেলকে নির্বাচিত করতে ভূমিকা রেখেছি। কিন্তু গত পাঁচ বছরে সে সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করেছে। তার আচরণে ভোটারদের মত আমিও ক্ষিপ্ত। তাকে আমি চেয়ারম্যান হয়ে কিভাবে মানুষের সাথে আচরণ করতে হয় তা তাকে শিখাতে চাই। জয়ের বিষয়ে আমি আশাবাদী।

আওয়ামীলীগ সমর্থিত নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করা রাসেল চৌধুরী জানান, আমতলী ইউনিয়নটা মূলত আগে থেকে জামায়েত বিএনপি অধ্যুষিত। মূলত আমার পিতা জামায়াতের সমর্থন নিয়েই নির্বাচন করছে। তার সঙ্গে আমার পারিবারিক কোন শত্রুতা কিংবা মিত্রতা কোনটার কারণেই তিনি নির্বাচন করছেন না। আর গত নির্বাচনে তিনি সরকারি চাকরি করতেন আমার গত নির্বাচনের বিজয়ে তার ভূমিকা রাখার প্রশ্নই উঠে না। গত পাঁচ বছরে এই ইউনিয়নে আমূল উন্নয়ন হয়েছে। বাকি সিদ্ধান্ত ভোটাররা নিবেন, জয়ের বিষয়ে আমি আশাবাদী।

তবে পিতা সুলতান আহমেদ এবং পুত্র রাসেল চৌধুরী যাই বলুন না কেনো, পিতাপুত্রের পরষ্পরের বিরুদ্ধে  এই নির্বাচন নিয়ে মুখরোচক নানান আলোচনা শুরু হয়েছে এলাকাজুড়ে !

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × one =

Back to top button