ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত চিকিৎসক !

দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় স্বাস্থ্য বিভাগের সকলের ঈদের ছুটি বাতিল করেছে কর্তৃপক্ষ। অথচ লংগদু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র মেডিকেল অফিসার ডা. ফকরুল ইসলাম ছুটি ছাড়াই শনিবার কর্মস্থলে অনুপস্থিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ডা. ফকরুল ইসলাম শনিবার সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেননি। কর্মচারীদের কাছে জানতে চাইলে তাঁরা বলেন ঈদের ছুটিতে গেছেন ডা. ফকরুল। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী জানালেন আজ(শনিবার) সকালের গাড়িতে ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে গেছেন তিনি।

সরেজমিনে শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর বারোটা পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অবস্থান নিয়ে দেখা যায়, ডাক্তার ফকরুল ইসলামের অফিস কক্ষ ফাঁকা। পাশেই বসেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ চাকমা, তিনিও গত চারদিন যাবৎ অনুপস্থিত। এদিকে সকাল থেকে রোগীদের উপচেপড়া ভিড় সামাল দিচ্ছেন উপসহকারী মেডিকেল অফিসার অপরিসীম চাকমা ও সমীরণ চাকমা। হাতের আঙ্গুলের ক্ষত ড্রেসিং করতে ২ ঘন্টা অপেক্ষায় আছেন উপজেলার ভাইট্টাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম। ভিড়ের কারণে ডাক্তারের সাক্ষাত পাচ্ছেন না তিনি। এদিকে চারদিন যাবৎ জ্বর নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা এক রোগী ওয়ার্ডে ডাক্তারের দেখা না পেয়ে বহিঃবিভাগে এসে সাক্ষাতের অপেক্ষায় বসে আছেন। বয়স্ক এ রোগী জানালেন, জ্বর কিছুটা কমেছে। দুু’দিন পর ঈদ বাড়ি যেতে হবে, তাই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে এখানে বসে আছি।

টিকেট কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১১০ জন রোগী সেবা নিতে এসেছেন। হাসপাতালের বহিঃবিভাগ খোলা থাকে দুপুর ২টা পর্যন্ত। ততক্ষণে রোগীর সংখ্য দেড়শ পার হবে বলে জানালেন কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা কর্মচারীরা।

রোগীর এত ভিড় সামাল দিতে ব্যস্ত থাকায় উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসারদের সাথে কথা বলার সুযোগ না হলেও ফার্মাসি বিভাগে কর্মরত তপন দত্ত জানান, বেশির ভাগ রোগী জ্বর ও পেটের সমস্যা নিয়ে আসছেন। এর সাথে ইমারজেন্সি রোগীরাও আছেন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিসসূত্রে জানা যায়, উপজেলায় চিকিৎসকের মোট পদ ১৬টি। এরমধ্যে ৪টি পদে একজন কর্মকর্তা ও তিনজন মেডিকেল অফিসারের পদপূর্ণ আছে। এ চারজনের মধ্যে আবার দু’জন আছেন ডেপুটেশনে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে। ফলে একজন কর্মকর্তা ও একজন মেডিকেল অফিসার পুরো উপজেলার দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বাকি ১২টি পদই শূন্য পড়ে আছে। এসব পদে মাঝে মধ্যে ডাক্তারদের পোস্টিং দিলেও জয়েন না করেই চলে যান সবাই।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ চাকমা মুঠোফোনে জানান, ডা. ফকরুল চলে গেছেন এটা আমি জানি না। উনি যাবে এটাও বলেননি। আমি সবাইকে বলে দিয়েছি ছুটি বন্ধ। কেউ যদি চলে যান তবে নিজের রিস্কে যাবেন এটাও বলেছিলাম আমি। তবে আমি(শনিবার) আজ লংগদু যাচ্ছি এবং সাথে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিটও নিয়ে যাচ্ছি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button