রাঙামাটি

ছুটিতে পর্যটকমুখর পার্বত্য শহর রাঙামাটি

মিশু মল্লিক
সাপ্তাহিক ছুটি এবং রবিবার ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি মিলিয়ে টানা তিনদিনের ছুটি শুরু হয়েছে। তিনদিনের ছুটিতে পর্যটকমুখর হয়ে উঠেছে পার্বত্য শহর রাঙামাটি। শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ভুলে প্রকৃতির কোলে নিজেদের সঁপে দিতে হ্রদ পাহাড়ের শহর রাঙামাটিতে ছুটে এসেছেন হাজারো পর্যটক। বুকিং হয়ে গেছে শহরের প্রায় বেশিরভাগ হোটেল-মোটেল। রাঙামাটি শহর এখন পর্যটকে পরিপূর্ণ এক শহরে রূপ নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার পর্যটকদের উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও শুক্রবার সকাল থেকে প্রচুর পরিমাণ পর্যটকবাহী যানবাহন প্রবেশ করতে শুরু করে শহরে। শহরের বাস স্ট্যান্ড রিজার্ভ বাজারে দেখা যায় পর্যটকবাহী গাড়ির দীর্ঘ সারি। অনেকে দলগতভাবে বাস নিয়ে আবার অনেকে ব্যাক্তিগত গাড়ি নিয়ে বেড়াতে এসেছেন রাঙামাটি। এইসময় কিছুটা যানজটও তৈরি হয় শহরের এই প্রাণকেন্দ্রে।

শহরে নেমেই নাস্তা করার জন্য লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে দেখা যায় পর্যটকদের। রিজার্ভ বাজার খাজা হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক মোঃ রুবেল বলেন, আজ থেকে টানা ছুটি শুরু হওয়ায় সকাল থেকেই প্রচুর পর্যটক রাঙামাটি প্রবেশ করেছেন। আর এটা গাড়িগুলোর শেষ গন্তব্য রিজার্ভ বাজার হওয়াতে সবাই গাড়ি থেকে নেমে আমাদের এবং আশেপাশের রেস্টুরেন্টগুলোতে নাস্তার জন্য ভিড় করছেন।

পর্যটকদের উপস্থিতির কারণে বুকিং হয়ে গেছে শহরের প্রায় অধিকাংশ হোটেল মোটেলগুলো। যারা আগে বুকিং দিয়ে আসেন নি তারা শহরে এসেই হোটেল বুকিং দিচ্ছেন। তাই গতকাল পর্যন্ত যেসকল হোটেল-মোটেলে কিছু রুম খালি ছিল সেগুলোও দ্রুত বুকিং হয়ে যাচ্ছে।

হোটেল মতি মহলের সত্ত্বাধিকারী মো. শফিউল নেজাম বলেন, সকাল থেকে ভালোই পর্যটক আসছে দেখতে পাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমাদের ৭০ শতাংশ রুম বুকিং আছে। আশা করছি আজ দুপুরের মধ্যে হোটেলের শতভাগ বুকিং হয়ে যাবে। আর আবহাওয়া যেহেতু ভালো রয়েছে তাই আমরা আশা করছি আমাদের এবারের ব্যবসাটা ভালোই হবে।

হোটেল নাদিশা ইন্টারন্যাশনালের ম্যানেজার মো. শাহীন সুলতান বলেন, পূজার ছুটি এবং তারপর আবার টানা তিনদিনের ছুটিতে রাঙামাটিতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ। যথেষ্ট পরিমাণ পর্যটক এসেছে রাঙামাটিতে। ৩ তারিখ থেকে আমাদের হোটেল শতভাগ বুকিং রয়েছে। যদি রাঙামাটির হোটেলগুলোর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পর্যটক আসে তাহলে রুম না পেয়ে অনেককে ঘুরে চলে যেতে হতে পারে।

রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৃজন কান্তি বড়ুয়া বলেন, দুর্গাপূজার বিজয়া দশমী, সপ্তাহিক ছুটি এবং ঈদে মিলাদুন্নবীর ছুটি মিলিয়ে আমরা বেশ কদিন ছুটি পেয়েছি। রাঙামাটিতে পর্যটক সমাগত বেশ ভালোই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের প্রায় ৬০-৮০ শতাংশ আবাসিক কক্ষগুলো বুকিং রয়েছে। আমরা ইতিমধ্যে আমাদের সেবার যে বিষয়গুলো আছে সবগুলো প্রস্তুত করে রেখেছি। আবাসিক কক্ষ, রেস্তোরাঁ, এবং নৌযানগুলো আমরা পর্যটকদের জন্য তৈরি করে রেখেছি। এখান থেকে যারা সুবলংসহ অন্যান্য স্পটগুলোতে যাচ্ছেন তারা আনন্দ উপভোগ করতে পারছেন এবং উৎফুল্ল মনে ফেরত আসছেন। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাট আমাদের খুব বিপাকে ফেলেছে। এমন একটা সময় বিদ্যুতের সমস্যা হচ্ছে যখন পর্যটকরা এসেছেন। এতে তারাও খুব বিরক্ত আমরাও বিব্রত।

পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কাপ্তাই হ্রদে নৌ-ভ্রমণ। তাই বেশিরভাগ পর্যটকই সকাল থেকে ট্যুরিস্ট বোট ভাড়া করে বেরিয়ে পড়ছেন কাপ্তাই হ্রদ ভ্রমণে। শহীদ মিনার পর্যটন অবতরণ সহায়ক ঘাটে গিয়ে সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট-বড় অনেকগুরো ট্যুরিস্ট বোট রয়েছে। পর্যটকরা বোট নিয়ে সুবলং ঝর্ণা, কাপ্তাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন।

রাঙামাটি পর্যটন ঘাটের ইজারাদার এবং ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রমজান আলী বলেন, গরমের বিদায় শীতের আগমন এবং টানা ছুটি মিলিয়ে রাঙামাটিতে এখন পর্যটক সমাগত খুবই ভালো। আমাদের সমিতি থেকে পর্যটকদের আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা করছি। আগামী দুইদিন বন্ধ থাকাতে আশা করছি পর্যটকদের এই ¯্রােত চলমান থাকবে।

ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সিনিয়র সদস্য এবং ট্যুরিস্ট গাইড মো. নাসির বলেন, রাঙামাটি পর্যটন নগরী হওয়ায় টানা তিনদিনের ছুটিতে যথেষ্ট পর্যটক আসছে। ট্যুরিস্টরা যাতে নির্বিঘেœ কাপ্তাই লেকে ঘুরতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা বোট মালিক সমিতি থেকে পদক্ষেপ নিয়েছি। ট্যুরিস্টরা যাতে কোনরুপ হয়রানির শিকার না হন সেই ব্যপারে আমরা সজাক দৃষ্টি রেখেছি।

কুমিল্লা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক সাইমন হাসান বলেন, আমি আমার এসএসসি পরীক্ষা শেষ করে পরিবার নিয়ে রাঙামাটি বেড়াতে এসেছি। ঝুলন্ত সেতু দেখে খুব ভালো লাগছে। পরিবার নিয়ে খুব আনন্দ করছি।

চট্টগ্রামের রাউজান থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক নাহিদুল ইসলাম বলেন, রাঙামাটি বেড়াতে এসে খুবই ভালো লাগছে। হ্রদ পাহাড়ের এই মিশেল আর কোথাও দেখা যায় না। রাঙামাটিতে আসলে প্রকৃতিকে দারুণভাবে উপভোগ করা যায়।

আরেক পর্যটক মো. কামাল বলেন, আমরা ঢাকা থেকে বন্ধুরা মিলে বাইক রাইড করে এসেছি। রাঙামাটির পরিবেশ আসরেই অতুলনীয়। দূর থেকে লেক দেখতে খুব ভালো লাগে। একপাশে পাহাড় এবং একপাশে কাপ্তাই হ্রদ মিলে দারুণ এক পরিবেশ।

ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, লাভ পয়েন্ট, ডিসি বাংলো পার্ক, সুবলং ঝর্ণা, কাপ্তাই লেকসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলোতে পর্যটকদের সমাগম সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × 3 =

Back to top button