ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

ছাত্রলীগ সভাপতি-সম্পাদককে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা ছাত্রলীগ নেতাদের !

রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র বিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ এনে তাদের প্রতি অনাস্থা এবং তাদের দুজনকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করে বিকল্প আরেকটি জেলা কমিটি ঘোষণা করেছে জেলা ছাত্রলীগের একাংশ। মঙ্গলবার সকালে জেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ বাপ্পা বলেন, বর্তমান জেলা কমিটি অনেক আগেই মেয়াদ পেরিয়েছে। সভাপতি সম্পাদক একের পর এক অনৈতিক,সংগঠনের চেতনা ও গঠনতন্ত্র বিরোধী কর্মকান্ডের মাধ্যমে সবাইকে বিব্রত করছে। তারা গঠনতন্ত্র অনুসরণ না করে উপজেলা কমিটি বিলুপ্ত করছে। যা তাদের এখতিয়ারের বাইরে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, এছাড়া বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির বিভিন্ন অভিযোগও রয়েছে। যার কয়েকটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
লিখিত বক্তব্যে আরো জানানো হয়, সভায় দুই তৃতীংশের সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত মতে বর্তমান কমিটিকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা এবং জেলা ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল আলম রাশেদ ও যুগ্ম সম্পাদক মঈনুদ্দীন শাকিলকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করা হয়।

ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাশেদ-সম্পাদক শাকিল

নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া সাইফুল আলম রাশেদ বলেছেন, বর্তমান কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকের ব্যর্থতার দায় পুরো ছাত্রলীগ নিতে পারেনা। তারা দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। সর্বশেষ সংগঠনেরর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীও পালন করেনি তারা,অথচ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কথা বলে চাঁদাবাজি করেছে। আবার পুলিশের গাড়ী থেকে আসামী ছিনতাই,রাণীরহাট থেকে গাড়ী ছিনতাই করে আনা,টেন্ডারবাজি,চাঁদাবাজি,সর্বশেষ যুবলীগের এক নেতাকে কোপানোর মতো জঘণ্য অপরাধ করেছে। শুধু তাই নয়, সম্প্রতি সেক্রেটারি সরকারি স্থাপনা ভাংচুর করায় তার বিরুদ্ধে মামলাও হয়েছে। এরই প্রেক্ষিতে এই ‘অযোগ্য ও ব্যর্থ’ সভাপতি-সম্পাদককে আমরা অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছি।’

‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষিত সভাপতি-সম্পাদক

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাইফুল আলম রাশেদ, সহ-সভাপতি পলাশ বড়ুয়া, রুপন দাশ, যুগ্ম সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বাপ্পা, মঈনুদ্দীন শাকিল, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সুপায়ন চাকমা, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক অপু শ্রীং লেপচা, কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আহমেদ ইমতিয়াজ রিয়াদ, বাঘাইছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো. এমরান সহ সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ।

তবে সংবাদ সম্মেলনের যৌক্তিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চাকমা বলেছেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে এই ধরণের কোন নিয়মই নেই। এটা শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কমিটিই করতে পারে। তারা বিএনপি-জামাত ও জনসংহতি সমিতির ক্রীড়নক হয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য এসব করছে বলে আমরা মনে করছি। স্থানীয় রাজনীতির গ্রুপিং এর কারণেও এটা হয়ে থাকতে পারে।’ তবে একই সাথে তারা নিজেরা বৈঠক করে সংবাদ সম্মেলন আয়োজনকারিদের বিরুদ্ধে পাল্টা সাংগঠনিক পদক্ষেপ নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ জেলা সম্মেলনে কাউন্সিল না করেই ফিরে যায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। পরদিন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক সম্মেলন করে সুজনকে সভাপতি ও প্রকাশকে সাধারন সম্পাদক করে ৬ সদস্যের জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেন। এরপর পরই দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর চালায় বিদ্রোহী নেতাকর্মারা। এর প্রায় দুই বছর পর ২০১৭ সালে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় জেলা ছাত্রলীগের। কিন্ত মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও একাধিকবার তারিখ ঘোষণা করেও সম্মেলন করতে পারেনি জেলা ছাত্রলীগ। বরং সাংবাদিকদের মারধর,সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিছিল সমাবেশ হুমকি,পুলিশের গাড়ী থেকে আসামী ছিনতাই,ব্যবসায়িক বিরোধের কারণে গাড়ী ছিনতাই,কলেজ ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রিয়াদকে মারধর এবং সর্বশেষ গত সোমবার যুবলীগের এক নেতার পায়ের রগ কেটে দেয়ার অভিযোগ আছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে। আবার সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চাকমার বিরুদ্ধে কদিন আগেই রাঙামাটি জেলা পরিষদের রেস্টহাউজ ভাংচুরের অভিযোগে মামলা করেছে পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা। এই মামলায় জামিনে আছেন প্রকাশ চাকমা। এইসব ঘটনায় বিব্রত জেলা আওয়ামীলীগও।

পদ ‘স্থগিত’ হওয়া ৪ নেতা

চার নেতার পদ স্থগিত !
এদিকে দুপুর একটায় বিদ্রোহীদের সংবাদ সম্মেলনের তিনঘন্টা পর বেলা ৩.৪১ মিনিটে ‘সুজন প্রেসিডেন্ট’ নামের একটি মেইল পাঠানো পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নতুন ঘোষিত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল আলম রাশেদ,ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মঈনউদ্দিন শাকিল,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরী বাপ্পা এবং সহসভাপতি রূপন দাশ এর সাংগঠনিক পদ স্থগিত করার কথা জানিয়েছেন ‘অবাঞ্চিত’ ঘোষিত সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজন ও সাধারন সম্পাদক প্রকাশ চাকমা। ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সাথে চার ছাত্রলীগ নেতার ছবিও যুক্ত করে দেয়া হয় !

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button