ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

ছাত্রলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যা,মেয়র রফিককে গ্রেফতারের দাবি

খাগড়াছড়িতে প্রতিপক্ষের চিহিৃত দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছে ওয়ার্ড ছাত্রলীগের নেতা মোঃ রাসেল (১৮)। শনিবার সন্ধ্যায় শহরের পিডিবি সংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার জন্য খাগড়াছড়ি পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র রফিকুল আলমের সমর্থকদের দায়ী করেছে আওয়ামীলীগ ও ছাত্রলীগ। ঘটনার প্রতিবাদে শহরে বিক্ষোভ করে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা প্রশাসনকে ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।
জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জেলা সদরের পিডিবি সংলগ্ন ব্রীজ এলাকায় ওৎপেতে থাকা চিহিৃত দূর্বত্তরা শালবন ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সদস্য মো: রাসেলের ওপর হামলা চালায়। তখন রাসেলের সাথে থাকা আরো ৩/৪জন ছাত্রলীগ কর্মী পালিয়ে আতœরক্ষা করে। পরে একা পেয়ে রাসেলকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্বার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্ষক্ষরণের কারণে অবস্থা শংকটাপন্ন হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু চট্টগ্রাম যাওয়ার পথেই মো: রাসেল শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
রাতে রাসেলের লাশ এনে খাগড়াছড়ি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়। রবিবার সকালে ময়না তদন্ত শেষে পুলিশি হেফাজতে শালবন এলাকায় পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। লাশ পেয়ে স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। ছড়িয়ে পড়ে শোকের মাতম।
খাগড়াছড়ি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ড. নয়নময় ত্রিপুরা জানান, পেটে ও বুকে উপর্যপুরি ছুরিকাঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়েই তার মৃত্যু ঘটেছে।
নিহত মো: রাসেল খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে। সে শালবনের হরিনাথপাড়া গ্যাফের বাসিন্দা শ্রমজীবী নুর হোসেনের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা আওয়ামীলীগের নেতা নুর হোসেন (রাইটার) জানান, অত্যন্ত বিনয়ী ও ছাত্রলীগের ত্যাগী কর্মী ছিল রাসেল। পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, পৌরসভার গডফাদার মেয়র রফিকুল আলম ও তার ছোট ভাই দিদারুল আলমের নির্দেশে তাদের ক্যাডার মোমিনসহ কয়েকজন এই খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে ছাত্রলীগ নেতা রাসেল হত্যার প্রতিবাদে খাগড়াছড়িসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করেছে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। সকালে জেলা আওয়ামীলীগের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ বের করা হয়। খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশ সদস্যরা বিক্ষোভটি থামিয়ে দেয়। পরে সেখানেই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি টিকো চাকমার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ছাত্রলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় খাগড়াছড়ি পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র রফিকুল আলম ও তার ছোট ভাই দিদারুল আলম জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়। আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনের ঘটনার নির্দেশদাতা ও সরাসরি জড়িতদের গ্রেফতারের দাবী জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছেন আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনসমূহের নেতাকর্মীরা।
এসময় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু, জেলা আওয়ামীলীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক জুয়েল চাকমা, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য পার্থ ত্রিপুরা জুয়েল, পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক জাবেদ হোসেন, সদর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নুরুল আজম, আওয়ামীলীগ নেতা মেহেদি হাসান হেলাল, জেলা যুবলীগের সভাপতি যতন বিকাশ চাকমা প্রমূখ।
এদিকে দূর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত ছাত্রলীগ নেতা মো: রাসেলের লাশে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর (প্রতিমন্ত্রী মর্যাদাসম্পন্ন) চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। তিনি রাসেলের শালবনের বাড়িতে যান। তার মা-বাবাসহ স্বজনদের শান্তনা দেন। এবং সব ধরণের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতিকে কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্বজন ও প্রতিবেশিরাও। এসময় নিহত রাসেলের বাবা নুর হোসেন টাস্কফোর্স চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে মেয়রের লোকজন তাদেরকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিলো।
টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা হত্যার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার নির্দেশদাতা মেয়র রফিকসহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী জানান।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহাদাত হোসেন টিটো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এই ঘটনায় জড়িতদের সনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেফতারে পুলিশ মাঠে রয়েছে। তবে এখনো কোন মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানান তিনি। এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

মেয়র রফিকুল আলমের বক্তব্য
খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম সাংবাদিকদের কাছে বলেছেন, ‘রাসেল আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়। তাকে খুনের সাথে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রনোদিতভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে। মূলত: মাদক সেবনের ঘটনার জেরে এই খুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’ তদন্ত সাপেক্ষে হত্যার বিচার দাবি করেছেন তিনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button