পাহাড়ের রাজনীতিরাঙামাটিলিড

ছাত্রলীগের সম্মেলন চেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস প্রকাশ চাকমা’র

জিয়াউল জিয়া ॥
রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমা নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন দাবি করে নাতিদীর্ঘ এক আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। শনিবার সকালে তিনি তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ার পর নেতাকর্মীরা ব্যাপক লাইক ও শেয়ার করতে দেখা যায়। তাঁর এমন দাবিকে নেতাকর্মীরা স্বাগত জানান। এর আগে ২০১৫ সালের ২ জুন রাঙামাটি ছাত্রলীগের সবশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় সাত বছর ধরে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর জব্বার সুজন ও সাধারণ সম্পাদক প্রকাশ চাকমার নেতৃত্বাধীন কমিটি দায়িত্ব পালন করছেন।

স্ট্যাটাসের কমেন্ট সেকশনে ইকবাল আহম্মেদ তালুকদার রেজোয়ান লিখেছেন, রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক গতি চলমান রাখার জন্য, নতুন নেতৃত্ব তুলে আনার জন্য আপনার যে উললব্ধি তাকে আমরা সম্মান জানায়, আপনাকে স্যালুট প্রিয় Prakash Chakma দাদা।

প্রকাশ চাকমা তাঁর স্ট্যাটাসে লিখেন,

‘নতুনত্বের উন্মাদনায় উদ্যম, সময়ের দুরন্ত-প্রতিবাদী-সাহসী তরুণদের মন কখনো ভাঙতে নেই……তারুণ্যের মাঝে মুজিব দর্শনের চেতনা জাগিয়ে দিতে-

পাহাড়ের রাজপথে ‘জয় বাংলা’র অদম্য শ্লোগানকে তরান্বিত করতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, রাঙ্গামাটি জেলা শাখার বার্ষিক সম্মেলন এখন সময়ের দাবী।

উচ্চ আদর্শের বিপ্লবী চেতনার জাগরণী চরিত্র-একমাত্র উঠতি বয়সী তরুণদের মাঝেই দেখতে পাই।
সময়ের আহ্বানে-

উদীয়মান তরুণদের দেশপ্রেমে উৎসাহিত করতে, আদর্শিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে…….
শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকা উদ্যমী তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া উচিত।

‘তারুণ্যের জয়গান’ কবিতায় অবিরুদ্ধ মাহমুদ যথার্থই অনুধাবন করেছেন-

আমি দুরন্ত তরুণ,
আমি অশান্ত জাগ্রত বরুণ।
আমি দুর্দম্য-দুর্বার, তীক্ষ্ণ-তিক্ত,
নতুনত্বের উন্মাদনায় আমি সিক্ত।
আমি মানি না ধৈর্যের বাঁধ,
আমি যে চেতনায় উদ্দাম প্রতিবাদ।
আত্ম প্রত্যয়ে আমি যে সীমাহীন,
আমার হাতেই বাজে প্রতিবাদী বীণ।’

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২ জুন রাঙামাটি জেলা সম্মেলনের দিন কোন কমিটি ঘোষণা করা না হলেও পরের দিন ৩ জুন রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পক্ষে পাঁচ সদস্যের জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন। পাঁচ সদস্যের ছাত্রলীগই বহাল ছিলো দুই বছরেরও বেশি সময়। এর প্রায় আড়াই বছর পর ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারি জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার আড়াই বছর পর ঘোষিত এই কমিটি নিয়ে বেশ সমালোচনা উঠে। যে কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত, প্রেমিক-প্রেমিকা, নেতাদের পুত্র কন্যা, রাঙামাটিতে না থাকা অনেককেই ঠাঁই দেয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। গত সাত বছর ধরে যুবলীগ নেতার রগ কেটে দেয়া, পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেয়াসহ নানান বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য সমালোচিত ছিল জেলা ছাত্রলীগ। ছাত্রলীগের নানান অপকর্মে কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে জেলা আওয়ামীলীগও।

গত ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি মেয়াদ শেষ হওয়ায় ২ মার্চ রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের নতুন জেলা সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল। এরপর ২০১৯ সালের ২৯ জুন রাঙামাটি জেলা আওয়ামী লীগের এক বিশেষ সভায় রাঙামাটির সংসদ সদস্য জুলাই মাসে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের ঘোষণা দিলেও আজও সম্মেলন হয়নি।

এদিকে রাঙামাটির ১০টি উপজেলার মধ্যে ৪টি উপজেলা ছাত্রলীগের মেয়াদ আগেই শেষ হয়েছে। যেসব উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন হয়েছে অর্থের বিনিময়ে সভাপতি ও সম্পাদক করার অভিযোগ রয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে। পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা এসব অভিযোগ তোলেন।

২০১৯ সালের ২৭ জুলাই রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে আলোচনা সভা শেষে কাউন্সিল শুরুর আগেই জেলা সভাপতি-সম্পাদকের বিরুদ্ধে ‘পালিয়ে যাওয়া’র অভিযোগ করেছিলেন তৎকালীন কলেজ কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক। দীর্ঘদিন কলেজ কমিটি না থাকায় নতুন নেতৃত্ব উঠে আসা নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। গত ২৮ ডিসেম্বর কাপ্তাই উপজেলা ছাত্রলীগের সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে আলোচনা সভা হলেও এতোদিনেও হয়নি কমিটি।

রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজমুল হক (বাবু) বলেন, দীর্ঘ ৭ বছর ধরে কোন সম্মেলন না হওয়ার কারণে কর্মীরা খুব একটা সক্রিয় নয়। সদর, শহর কমিটির বেশির ভাগই বিয়ে করার কারণে সেভাবে আর সক্রিয় না। আবার নেতৃত্ব তৈরির পাঠশালা রাঙামাটি কলেজ কমিটির সম্মেলন হলেও কমিটি না থাকায় নেতৃত্ব শূন্য হয়ে যাচ্ছে। ছাত্র রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখতে হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জেলা ছাত্রলীগের সম্মেলন জরুরি। এখন এটি সময়ের দাবি মাত্র।

রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সাইফুল আলম (রাশেদ) বলেন, ছাত্রলীগের সম্মেলন এখন সময়ের দাবি। আমরা অনেক বার উদ্যোগ নিলেও কি কারণে যেন এটি আটকে আছে। দীর্ঘদিন সম্মেলন না হওয়ার কারণে নেতৃত্ব শূন্য হচ্ছে জেলা ছাত্রলীগ। সম্মেলন না হওয়ার কারণে অনেক নেতৃত্ব ঝরে পড়েছে। এর দায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিটির প্রতি অনাস্থার কারণে সম্প্রতি ছাত্রলীগের ৭৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে ভাড়া করে ছেলেদের নিয়ে অনুষ্ঠান করেছে। জেলা সদরের অনেকের সাথে কোনও সমন্বয় না করেই এক তরফাভাবে সভাপতি-সম্পাদক এই অনুষ্ঠান করে। ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরের অনেকেই আমরা সেদিন দেখতে পেরেছি। এভাবে তো ছাত্র সংগঠন চলতে পারে না।

এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকে ফোন করা হলে তারা কেউ ফোন ধরেন নি।

তবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও রাঙামাটি জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আল আমিন সিদ্দিক সুজন বলেন, বিষয়টি মাত্র শুনলাম। বিষয়টি মৌখিকভাবে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি-সম্পাদককে অবহিত করবো এবং আমি খুব শীঘ্রই রাঙামাটি আসবো। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন কমিটি না হওয়া আসলেই দুঃখজনক। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক সম্মেলনের বিষয়টি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে বললে অবশ্যই আরও আগে হতো। কেন্দ্র হতে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটিগুলো বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি গঠনের কাজ চলছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button