রাঙামাটিলিড

ছাত্রদল সভাপতি সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা

রাঙামাটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটি জেলা ছাত্রদল সভাপতি ও সংগঠনটির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহম্মেদ সাব্বিরের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন রাঙামাটির কলেজগেইট এলাকার বাসিন্দা মোস্তাফিজুর রহমান নামের এক ব্যক্তি। একই মামলায় মোস্তাফিজ নিজের স্ত্রী মনিকা আক্তারকে প্রধান আসামী করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিগত ২৯ জুলাই রাত আনুমানিক ৮টার দিকে রাণী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে গাড়ি থামিয়ে তার স্ত্রী মনিকা আক্তার ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। মনিকা হত্যার জন্য চিৎকার করে আদেশ দিলে আরো অজ্ঞাতনামা ৬/৭ জন মুখোশধারী তার উপর ধারালো অস্ত্র চাপাতি, রড, চাইনিজ কুড়াল নিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন।’ এসময় একজনের মুখোশ খুলে গেলে তিনি সাব্বিরকে চিনতে পারেন বলেও জানিয়েছেন লিখিত অভিযোগে।

‘অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামে তাকে চিকিৎসা দেয়া হয়। তার মাথায় ও কানে মোট ৪৭ টি সেলাই করা হয়েছে’ বলে তিনি অভিযোগ করেন এজাহারে।

প্রধান আসামী মনিকা আক্তার

মনিকা আক্তারকে ১ নং এবং ছাত্রদল সভাপতি সাব্বিরকে ২নং আসামী করে অজ্ঞাত ৬/৭ জনকে আসামী করে রাঙামাটি কোতোয়ালী থানায় গত ২২ সেপ্টেম্বর এ মামলা দায়ের করা হয়। বাদীর অভিযোগ আমলে নিয়ে ৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৩২৭/৫০৬/৩৪ ধারায় মামলা গ্রহণ করা হয়। মামলা নং- ১৬, ২২/০৯/২০২১খ্রি:।

মামলা বাদী মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, ‘আমার স্ত্রী মনিকা আক্তার, ফারুক আহমেদ সাব্বিরসহ অজ্ঞাত ৬/৭ জন সন্ত্রাসীর যোগসাজশে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই হামলা করে। প্রথমে মনিকাই আমাকে ধারালো কিরিচ হাতে মাথায় আঘাত করে। পরে সাব্বিরসহ সহযোগিরা মাথায় কানে শরীরে এলোপাথাড়ি আঘাত করে। একজন চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কানে আঘাত করলে আমার কান প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে একটু লেগে থাকে। উপর্যুপুরি আঘাতে আমি জ্ঞান হারাই।’

মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, এরপর ১১ সেপ্টেম্বর ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৪০ লক্ষ টাকার জন্য আবার আমাকে বাসায় কাঠের বাটাম দিয়ে ব্যাপক মারধর করে এবং ওই ঘটনার পর ১২ সেপ্টেম্বর আমি তাকে তালাক নোটিশ প্রদান করি।’ নিজে অসুস্থ থাকার কারণে মামলা দায়েরে বিলম্ব হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে তিনি তার স্ত্রী মনিকা আক্তারকে তালাক দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফারুক আহমেদ সাব্বির জানান, ‘আমি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার। যিনি মামলা করেছেন তিনি আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। এই ধরণের হামলার কোন ঘটনার সাথে আমি জড়িত ছিলাম না। তিনি মামলা করেছেন,আমিও বিষয়টি আইনগতভাবেই মোকাবেলা করব।’

রাঙামাটির কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মো: কবির হোসেন মামলার বিষয় নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মামলা হয়েছে, তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button