নীড় পাতা / পাহাড়ের রাজনীতি / চাকরিতে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি কোটা’ পুনর্বহাল চায় টিআইবি
parbatyachattagram

চাকরিতে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি কোটা’ পুনর্বহাল চায় টিআইবি

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠি কোটা’ পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৈষম্য বিলোপে আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা, তাদের স্বতন্ত্র পরিচয়ের স্বীকৃতি দেওয়াসহ ১৩ দফা সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

রোববার রাজধানীর ধানমণ্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। ‘বাংলাদেশের আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠী : অধিকার ও সেবায় অন্তর্ভুক্তির চ্যালেঞ্জ ও করণীয়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয় সংবাদ সম্মেলনে।

সব সরকারি চাকরিতে পাঁচ শতাংশ কোটা ছিল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য, যারা আদিবাসী নামে পরিচিত। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে আদিবাসীসহ অন্যান্য কোটা বহাল থাকলেও গত বছর আন্দোলনের মুখে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিল করেছে সরকার।

টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিচ্ছন্নতাকর্মী দলিতদের জন্য ৮০ শতাংশ কোটা থাকলেও যথেষ্টসংখ্যক হরিজন না পাওয়ায় সাধারণ কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার বিধান করা হয়েছে। আদিবাসী ও দলিতদের জন্য কোটা পুনর্বহাল ও সংরক্ষণের সুপারিশ করেছে টিআইবি।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আদিবাসী ও দলিত জনগোষ্ঠী নানাভাবে আইনি ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। বৈষম্যমূলক আচরণে তারা পিছিয়ে পড়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, গবেষণা ও পলিসি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল হাসান প্রমুখ। গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গবেষণা ও পলিসি বিভাগের সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার আবু সাঈদ মো. জুয়েল মিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বৈবচয়নের ভিত্তিতে আদিবাসী ও দলিত অধ্যুষিত ২৮ উপজেলায় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে টিআইবির প্রতিবেদন প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আদিবাসী ও দলিতরা নানা ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির শিকার। তাদের ভোটাধিকার ও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অধিকার হরন করা হচ্ছে। বসবাস ও চাষাবাদের অধিকার খর্ব হচ্ছে। তাদের মালিকানাধীন জমি প্রভাবশালীরা দখল করে নিচ্ছে। ভূমি বেদখলের বিচার পাচ্ছেন না আদিবাসীরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদিবাসী ও দলিতরা আলাদা জনগোষ্ঠী হলেও তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না। বিদ্যালয়ে ভর্তিতে বাধা, নিজ ধর্ম শিক্ষার বিষয়ে পড়ার সুযোগ না দেওয়া, নিজ মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার ঘটনা ঘটছে। আদিবাসী ও দলিতদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তিতেও অনিয়ম করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, সামাজিক সুরক্ষায় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা আদিবাসী ও দলিতরা পায় না। আদিবাসী ও দলিত প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা নারী, অসুস্থদের অগ্রাধিকার না দিয়ে সচ্ছলদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। দলিত ও আদিবাসীদের ধর্মীয় উৎসবে সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম থেকে সহায়তা দেওয়া হয় না। উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও অন্তর্ভুক্ত করা হয় না তাদের। (সংবাদ কৃতজ্ঞতা : সমকাল)

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটি যুব রেড ক্রিসেন্ট’র সহশিক্ষা কার্যক্রমের  প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

যুব রেড ক্রিসেন্ট রাঙামাটি ইউনিট’র সহশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় দুইদিন ব্যাপী রেড ক্রস/ রেড ক্রিসেন্ট মৌলিক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

20 − seventeen =