প্রকৃতিপুরাণব্রেকিংলাইফস্টাইললিড

চাকমাদের ‘আল পালনী’ আজ

আষাঢ় মাসের ৭ তারিখ পালিত হয় দিনটি

প্রতি বছর আষাঢ় মাসের ৭ তারিখ চাকমা সম্প্রদায়ের প্রতিটি জুমিয়া বাড়িতে আল পালনী উৎসব পালন করা হয়! আল পালনী এটি একটি চাকমা ভাষার শব্দ! বাংলা শব্দ হাল পালন থেকে চাকমাদের আল পালনী উৎসব এর উৎপত্তি! চাকমা সম্প্রদায় বিশ্বাস করে প্রতি বছর আষাঢ় মাসের এই দিনে পৃথিবী ঋতুবতি হয়! অর্থাৎ ফসল উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হয়!
তাই এ দিনে ভূমির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে ভূমিতে কোন ধরণের আঘাত করা হয়না!  এদিনে কৃষিজ সকল যন্ত্রপাতির যেমন- হালের গরু, লাঙল,জোয়াল, দা, কোদাল,কাস্তে এদেরই বিশ্রাম এর দিন! এই দিনে প্রতিটি বাড়িতে জুম চাষের সমস্ত যন্ত্রপাতিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে বিশ্রাম দেওয়া হয়! কোনভাবেই ভূমিতে আঘাত কিংবা কর্ষণ করা হয়না! এই দিনে প্রতিটি জুমিয়া বাড়িতে উৎসবের ধুম পড়ে যায়! বিভিন্ন ধরনের পিঠা বানানো হয়! উত্তম ভোজের আয়োজন করা হয়! প্রতিটি জুমিয়া বাড়িতে অতিথি আপ্যায়ন করা হয় পিঠা দিয়ে!
এই দিন প্রতিটি চাকমা পরিবারে উন্নত খাবার রান্না করে মা লক্ষীকে পূজা দেওয়া হয় ভালো ফলন এর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এবং আগামীবছর যেনো আরও ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং প্রতিটি বাড়িতে মায়েরা আনন্দের সাথে ছড়া আওড়ায়- “আম ধোজ্জন থুপ থুপ! হমলে পাগিবাক? আজাঢ় মাজ সাত তারিগত বেবেই রে বো দিবাক। বেবেই যুদি বো যাত! আরো বেড়েত্তি, রাঙা চাঙা মরত পোবো মরে দেগেত্তি” (অনুবাদ: আম ধরেছে থোকা থোকা! কবে যে পাকবে? আষাঢ় মাসের ৭ তারিখে দিদির বিয়ে। দিদি যদি শ্বশুরবাড়ি যাও আবার এসো বেড়াতে, নতুন জামাইকে এনো আমাকে দেখাতে)।
লেখক : উন্নয়নকর্মী
MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button