আলোকিত পাহাড়লিড

ঘর পেলো সেই উৎপলেন্দু চাকমা

লংগদু প্রতিনিধি
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী উৎপলেন্দু চাকমার পরিবারের জন্য একটি ঘর বরাদ্ধ দিয়েছে লংগদু উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাইনুল আবেদীন মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে প্রতিবন্ধি উৎপলেন্দু চাকমার আবেদনপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেন । এ সময় ইউএনও উৎপলেন্দু চাকমাকে আশ্বস্থ করেন জুন মাসের মধ্যেই ঘর নির্মাণ কাজ শেষ করা হবে।
‘একটি ঘর পেলে বেশি উপকার হবে’ শিরোনামে গত ৮ মে দৈনিক কালের কন্ঠে এবং ভিন্ন ভিন্ন শিরোনামে দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম ও পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম-এ সংবাদ প্রচার হলে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও লংগদু উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে মানবিক এই প্রতিবেদনটি। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান নিজেই উদ্যোগী হয়ে বিষয়টি খোঁজ করেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘর করে দেয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। পরদিন রবিবার ওই গণমাধ্যমগুলোর লংগদু প্রতিনিধি আরমান খানের মাধ্যমে উৎপেলেন্দুর খোঁজ নেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি উপজেলার লংগদু ইউনিয়নেরবড়াদমগ্রামেগিয়ে দেখা মেলে প্রতিবন্ধী উৎপলেন্দু চাকমার পরিবারের সাথে। অর্ধেক মাটির দেয়াল আর বাকিটুকু বাঁশের বেড়া দিয়ে একটা ঘরে বসবাস করছে পরিবারের ছয় সদস্য। চালার টিন পুরানো হয়েছে বৃষ্টি আসলেই পানি পরে পুরো ঘর ভিজে যায়। বৈশাখের ঝড়ে এমন নড়বড়ে ঘরে ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করেন তারা। ঘরটি মেরামত করবেন সেই সামর্থ্য নাই উৎপলেন্দু চাকমার।
আলাপচারিতায় জানা যায়, উৎপলেন্দু চাকমার বড়ভাই নির্মলেন্দুচাকমা ও উৎপলেন্দুর এক ছেলেসহ তিনজন প্রতিবন্ধী (অন্ধ) তারা। বড় ভাই প্রতিবন্ধী হওয়ায় বিয়ে করেননি। তাই ছোটভাই উৎপলেন্দুর পরিবারের সাথেই তার বসবাস। তারা তিনজন প্রতিবন্ধী হলেও ভাতা পান শুধু উৎপলেন্দু চাকমা। উৎপলেন্দুর চার ছেলে মেয়ে। এক মেয়ে বিয়ে দিয়েছেন প্রতিবেশী দিঘীনালা উপজেলায়। বাকিরা সবাই পরিবারের সাথেই আছেন।
প্রতিবন্ধী উৎপলেন্দুর কঠিন জীবন সংগ্রামে তার সহযোগী স্ত্রী রিনা চাকমা। রিনা চাকমার রোজগারেই টিকে আছে পরিবারটি। সরকারি তেমন কোনো সুযোগসুবিধার খবর তারা রাখেননা। ফলে তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়েও আসেননা। প্রশ্ন করেছিলাম উৎপলেন্দু চাকমা কে কী চান আপনি সরকারের কাছে? কী হলে আপনার বেশি উপকার হবে ? জবাবে বলেছেন, ‘একটা ঘর হলে বেশি উপকার হবে’।
একটা নতুন ঘর পাবেন শুনে খুশি উৎপলেন্দু চাকমা ও তার পরিবার। উৎপলেন্দু চাকমা বলেন, নতুন ঘর পেলে সামনের বর্ষায় আর ভিজতে হবেনা। ভগবান আপনাদের মঙ্গল করুক।
এ বিষয়ে লংগদু উপজেলা নির্বাহীঅফিসার মাইনুল আবেদীন বলেন, প্রতিবন্ধী উৎপলেন্দু চাকমার জন্য একটি ত্রাণের ঘর বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে, যা মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার। আমরা আশা করি আগামী জুনের মধ্যেই তার জন্য ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button