করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

ঘরবন্দী জীবন যেভাবে কাটছে তাদের

করোনা অতংকে প্রায় সারা পৃথিবীর মানুষ  আজ ঘরে বন্দী। যার ব্যতিক্রম নয় বাংলাদেশও। বাংলাদেশের মানুষ এখন করোনা আতংকে অনেকটা গৃহবন্দী। রাঙামাটিতে যারা করোনার আগে সরাদিন নানা কাজে ঘরের বাহিরে থাকতেন, তারাও সরকারি নির্দেশনার কারনে ঘরেই দিন পার করছে।

মন না চাইলেও বাধ্য হয়ে নিজে, দেশ ও দেশের মানুষকে বাঁচাতে ঘরেই থাকছেন। যেখানে নিজের প্রয়োজনে বা মানুষের জন্য ছুটে বেড়ানো মানুষগুলো আজ ঘরে বন্দী হয়ে কেমন দিন পার করছে আজ তা জানাচ্ছেন তাঁরা।

রাঙামাটিতে অনেকে সারাদিন কর্মব্যস্ততার মধ্য দিয়ে দিন পার করতো আজ তাঁরা অনেকটা অলস সময় পার করছে। কেউ কবিতা পড়ে, বই পড়ে, টিভি দেখে, সিনেমা দেখে, পরিবারের লোকদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় পার করছেন। অনেকের মতে জীবনে এতো সময় কখনও পরিবারকে দেই নাই করোনার কারনে দিতে হচ্ছে বা ঘরেই থাকতে হচ্ছে। এরপরও তাদের প্রত্যাশা ভালো থাকুক দেশ ও দেশের মানুষ।

সমাজকর্মী ক্যামেলিয়া দেওয়ান বলেন, আগে নানা কাজে বাহিরে যেতাম এখন পুরোপুরি বাসায় সময় পার করি। বাচ্চাদের নিয়ে টিভি দেখে আর সংসারের নানা কাজ করে দিন পার করি।

সবসময় যে মানুষটা মাঠে থাকতো সেও আজ ঘরেবন্দী, সাবেক জাতীয় দলের খেলোয়াড় বরুন বিকাশ দেওয়ান। তিনি বলেন, করোনার কারনে বাসা থেকে বের হতে পারিনা সারাদিন বাসায় ফুল গাছের কিছু পরিচর্যা করি। বিকালে বাড়ির উঠানে দৌড়াদৌড়ি করে কিছু ব্যায়াম করে দিন পার করি।

গবেষক শাওন ফরিদ বলেন, সারাদিন বাসায় থাকি। বই পড়ি গবেষনার কিছু অসমাপ্ত কাজ আছে তা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি বাসায় বসেই। পরিচিতজনদের সাথে ফোনে কথা বলি, পরিবারের সকলের সাথে গল্প করে সময় চলে যায়।

নারী নেত্রী টুকু তালুকদার বলেন, করোনার সময়ে এখন বাসায় রান্না করে, সিনেমা ও খবর দেখে সময় পার করি পাশাপাশি ফুলের বাগানে সময় দেই এ ভাবেই আমার সময় অতিবাহিত হচ্ছে।

সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অমলেন্দু হাওলাদার বলেন, সারাদিন বাসায় থাকি উঠানে কিছুটা ব্যয়াম করি। পরিবারের সবার সাথে লুডু খেলে সময় পার করি।

প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, অগে সারাদিন বাহিরে থাকতাম নানা কাজে এখন ঘরের বাহিরে যাবার কোন সুযোগ নাই। সারাদিন বাসায় থাকি বই পড়ে, টিভি দেখেই সময় পার করি। খুব মন চায় একটু বাহিরে যাই কিন্তু যেতে পারি না। হয়তো সবকিছু স্বাভাবিক হলে আবারো বের হবো।

শুধু শহরের চেনামুখ এই ছয়জনই নয়,রাঙামাটি শহর,পুরো জেলা কিংবা পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি,বান্দরবান, সবখানেই সবার এখন চেনা জীবন, একই ছন্দে বহমান। সবার প্রতীক্ষা, কবে শেষ হবে কভিড ১৯ এর এই মৃত্যুর মিছিল,আবার স্বাভাবিক হবে জীবন,পুরনো ছন্দে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

10 − nine =

Back to top button