খাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

গোপনে ‘সমঝোতা’, হয়নি থানায় জিডি!

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় বন বিভাগের হেফাজত থেকে জব্দকৃত সেগুনকাঠ চুরি হলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এরমধ্যে কিছু কাঠ এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে উদ্ধার হলেও তার বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে গোপনে ‘সমঝোতা’র পথেই হাটা হচ্ছে। তবে সে বাড়ির মালিক ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগে অবৈধভাবে পাচারের জন্য সংরক্ষণ করা সেগুন কাঠ জব্দ করে বন বিভাগ। জব্দকৃত কাঠ উপজেলার জামতলি বন বিভাগের কার্যালয়ে হাজাছড়া রেঞ্জের হেফাজতে রাখা হয়। সম্প্রতি জব্দকৃত কাঠের মজুদ থেকে ২০ মাথা (পিস) সেগুন কাঠ চুরি হয়। চুরিকৃত কাঠের পরিমাণ প্রায় ৪০ ফিট; যার স্থানীয় বাজার মূল্য ৫০ হাজার টাকা। কাঠ চুরির পর সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; এমনকি থানায় কোন সাধারণ ডায়েরিও করা হয়নি। এর মধ্যে জামতলি এলাকার মৃত নুরমোহাম্মদের ছেলে মো. আলম মিয়ার বাড়ি থেকে স্থানীয়দের সহযোগীতায় চুরি হওয়া ৯ পিস সেগুন কাঠ উদ্ধার করে বন বিভাগ। বাকি কাঠের কোন খোঁজ মেলেনি এখনো। তারপরও আলমের বিরুদ্ধে কোনা আইনি ব্যবস্থাও নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

মো. জয়নাল মিয়া (২৮) জানান, কাঠ চুরির পর কিছু কাঠ উদ্ধারের ঘটনা এবং চুরির সাথে কে কে জড়িত এমন একটি ভিডিও তিনি তাঁর ফেসবুক আইডিতে আপলোড দিয়েছিলেন। সরকারি সম্পদ চুরি হওয়ার বিষয়ে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন এমন মানষীকতা থেকেই তিনি তা করেছিলেন। কিন্তু এরপর কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা তার জানা নেই।

অপরদিকে আলম ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে সংশ্লিষ্ট হাজাছড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. সোলেমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কাঠ চুরির পর থানায় জিডি করতে চেয়েও করা হয়নি। কারণ, ঘটনার সাথে জড়িতরা স্থানীয় এবং স্থানীয় কিছু লোকজনের অনুরোধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এক প্রশ্নের জবাবে সোলেমান বলেন, ‘কিছু কাঠ ফেরত পেয়েছি, বাকি কাঠও ফেরত দেওয়ার কথা; যদিও এখনো পাইনি। না পেলে তখন একটা পদক্ষেপ নিতে হবে।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close