খাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

গুজবে প্রাণ গেল ধ্বনিকার, হাম আক্রান্তের জন্য দায়ী কুসংস্কার !

হঠাৎ করে প্রত্যন্ত গ্রামে হামের প্রকোপের কারণ অনুসন্ধানে গতকাল (সোমবার) সরেজমিনে আবারো যাওয়া হয় রথিচন্দ্র কার্বারী পাড়াতে। অনুসন্ধানে জানা যায়, হামে আক্রান্ত হওয়ার জন্য দায়ী সে এলাকার মানুষের কুসংস্কার। আর চিকিৎসা না করানোর জন্য দায়ী গুজব এবং করোনা আতংক। এ কারণেই আক্রান্ত এলাকায় মেডিক্যাল টিম চিকিৎসা দিতে যাওয়ার পরও আক্রান্ত অধিকাংশ শিশুদের টিমের কাছে নিয়ে চিকিৎসা দেয়নি তাদের অবিভাবকরা। সে এলাকার বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধ্বনিময় ত্রিপুরা জানান, স্বাস্থ্যকর্মীরা এলাকায় টিকা দিতে গেলেও স্থানীয়রা টিকা নেয়না। তাদের ধারনা, টিকা দিলে শিশুদের জ্বর হবে এবং বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
পাড়াটির শেষপ্রান্তে বাগান চন্দ্র ত্রিপুরার (৫৫) বাড়ি। তাঁর ঘরে ঢুকে দেখা যায় হামে আক্রান্ত ৩ বোন মেঝেতে শুয়ে আছে; জ্বরও রয়েছে তাদের। এরা হংকারতি ত্রিপুরা (৮), সুকইতি ত্রিপুরা (৬) এবং লমিতা ত্রিপুরা (৪)। তাদের পিতা বাগান চন্দ্র জানান, ৬দিন আগে এরা আক্রান্ত হয়েছে। মেডিক্যাল টিম এসেছিল সেখানে নেওয়া হয়নি কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজন হলে নেওয়া যায় তিনজনকে কিভাবে নিয়ে যেতাম।’ হাসপাতালে নিচ্ছেননা কেন সে প্রশ্নেরও একই উত্তর।
বাজার থেকে ঔষধ হাতে ফিরছিলেন তজেন ত্রিপুরা (৩৫)। জানতে চাইলে জানান, তার ৭বছর বয়সি ছেলে নিপুন ত্রিপুরা হামে আক্রান্ত। তিনিও রবিবার মেডিক্যাল টিমের নিকট ছেলেকে নিয়ে যাননি। হাসপাতালেও ছেলেকে না নিয়ে বাজারের ঔষধ ফার্মেসীতে গিয়ে ছেলের জন্য কিছু ঔষধ কিনে বাড়ি যাচ্ছেন।
আরেক বাড়িতে হামে আক্রান্ত শনিতা ত্রিপুরা (১৭)। শনিতার পিতা বিনর কান্তি ত্রিপুরা (৪৫) জানান, এলাকার সবার মধ্যে একটি কথা আলোচিত হচ্ছিল। দেশে করোনা ভাইরাস; এখন তাদের শিশুদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাদের করোনা হয়েছে মনে করে সরকার রোগীদের গুম করে ফেলবে; গুলি করে রোগীদের মেরেও ফেলা হতে পারে। এমনকি এক রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে এর পর থেকে সে রোগীর আর খোঁজ মিলছেনা। এমন গুজব আর আতংকের কারণেই মূলত এলাকার লোকজন চিকিৎসা করানো থেকে বিরত ছিল।
সর্বশেষ রবিবার পান্থই ত্রিপুরাকে মেডিক্যাল টিম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময়ও তার পরিবারের মধ্যেও আতংক কাজ করছিল। কিন্তু সোমবার সকালে এলাকায় খবর পৌছে পান্থই অনেকটা সুস্থ; এর পর থেকে কিছুটা আতংক কাটতে থাকে এলাকার মধ্যে।
ধ্বনিকা জীবন দিয়ে চোখ খুলে দিয়ে গেল এলাকার
হামে আক্রান্ত হয়ে শরিবার বিকালে মারা যাওয়া ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী ধ্বনিকা ত্রিপুরার স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, হামে আক্রান্ত ছিল ধ্বনিকা এবং তার বড় ভাই অলেন্দ্র ত্রিপুরা (১৫)। মৃত্যুর আগে ধ্বনিকার আঁকুতি ছিল ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য। তখন তার পরিবারের পক্ষ্য থেকে বলা হয়েছিল, হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে চিকিৎসার কথা বলে কোথায় নিয়ে যাবে আর খোঁজ পাওয়া যাবেনা। বরং তার ভাল হওয়ার জন্য পূজা অর্চনা করা হচ্ছে। এমন অবস্থায় ধ্বনিকা মারা গেলে খবর পায় প্রশাসন। সোমবার এলাকায় মেডিক্যাল টিম, এর পর একজনকে হাসপাতালে। সর্বশেষ রোগী নিখোঁজ না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ধ্বনিকার বড় ভাই অলেন্দ্রকে সোমবার সকালে হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়। বিষয়টি হাসপাতালে থাকা অলেন্দ্রর পিতা অমিন্দ্র ত্রিপুরাও স্বীকার করেছেন।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close