ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

গাছেই বিদ্যুতের বিপদজনক লাইন !

রাঙামাটি শহরের কলেজগেইট-টিটিসি এলাকায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে ত্রুটির অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় ওই এলাকার এক ব্যবসায়ী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ ও যেনোতেনভাবেই কাজ করছে। এতে করে যেকোনো বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছে পথচারী ও স্থানীয়রা।

পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে রাঙামাটি শহরে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের অধীন শহর এলাকায় ১১ কেভি লাইনের উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়। কাজটি হাতে পেয়েছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স নূর-ই-এলাহি এন্ড ব্রাদার্স। এ কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। গত ২২ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১১ কেভির লাইনের কাজ করা হয়। এসময় শহরের বিভিন্ন সকাল আটটা থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

বুধবার দুপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, রাঙামাটি শহরের কলেজ গেইট-টিসিটি মোড় দিয়ে নামার আগেই রয়েছে বৃষ্টি হার্ডওয়্যার নামে একটি দোকান রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে একটি বয়স্ক বড় আম গাছ। এই গাছের মাঝখানের ডালপালা কেটে গাছের মাঝে দিয়ে টেনে নেওয়া হয়েছে ১১ কেভির বিদ্যুৎ লাইনের তার। লক্ষ্য করে দেখা গেছে, বৈদ্যুতিক স্ট্যান্ডগুলো বসানো হয়েছে কেটে ফেলা গাছের ডালে। ডালের সাথে বৈদ্যুতিক স্ট্যান্ডগুলো বেঁধে রাখা হয়েছে হালকা জিআই তার দিয়ে। এতে করে ভারী বাতাসে যে কোনো সময় তার ছিঁড়ে স্ট্যান্ডগুলো নিচে পড়ে পথচারীরা হতাহতের আশঙ্কায় রয়েছে। অন্যদিকে ভারী বাতাসে বৈদ্যুতিক তারে সংঘর্ষে ভয়াবহ আগুনের আশঙ্কাও রয়েছে।

টিটিসি এলাকার বৃষ্টি হাডওর্য়ারের সত্ত্বাধিকারী পাভেল দাশ মালিক বলেন, ‘আমার দোকানের ওপরে এই আম গাছটি। তারা যখন গাছের ডাল কেটেছিল, তখন সেটি খুব ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাটছিল। আমি বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানানো পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। যেকোন সময় যেকোনো ধরণের মারাত্মক ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘প্রথমত গাছটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে কাটা হয়েছে এবং গাছের মধ্যদিয়ে যেভাবে ১১ কেভির লাইন স্থাপন করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ।’

আরেক ব্যবসায়ী বিপ্লব গুপ্ত বলেন, ‘পিডিবি আম গাছটি সম্পূর্ণ কেটে বৈদ্যুতিক খুঁটি দিয়ে সোজাসুজি ভাবেই কাজ করতে পারত। এখন গাছের ভিতর দিয়ে করাতে অনেকটা ঝুঁকি বেড়েছে। যেকোনো সময় বৃষ্টিবাদলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তারা (পিডিবি) যেভাবে গাছের ডালে বৈদ্যুতিক স্ট্যান্ডগুলো তার দিয়ে বেঁধে রেখেছে, এতে করে গাছের ওপর চাপ পড়ছে। অন্যদিকে এর পাশেই একটি বহুতল ভবন রয়েছে।’

ওই এলাকার বাসিন্দা রকি চাকমা বলেন, ‘গাছের ওপর এবং গাছের মধ্যদিয়ে যেভাবে বিদ্যুতের সংযোগের তার নেওয়া হয়েছে তা বিপদজনক। এভাবে বিপদভাবে পিডিবি কাজ করতে পারে না। তারা এটা অন্যায় করেছে।’

কলেজ গেইট ব্যবসায়ী লিটন দে জানান, প্রতিবছরই বজ্রপাত হলে গাছের সাথে এই লাইনে আগুন ধরে। যেভাবে ১১হাজার কেভির লাইন দিয়েছে, এখন প্রবল বাতাস এলে গাছের সাথে বৈদ্যুতিক তার লেগে যাবে। এতে করে বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকেই যায়।’

কাজের ত্রুটির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড রাঙামাটি বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার বলেন, ‘এটি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। এই কাজটি তারাই দেখভাল করছেন।’

অন্যদিকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করে তাদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

কাজের প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী সুমন্ত কুমার দেবনাথ জানিয়েছেন, আমরা চট্টগ্রামেই মূলত অফিস করি। রাঙামাটিতে তেমন যাওয়ার সুযোগ হয় না। যেহেতু কাজের ত্রুটির বিষয়টি জেনেছি, এ ব্যাপারে অবশ্যই তদারকি করব।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button