ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

‘গরমে জান যারগই’

তীব্র গরমের মধ্যেই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অতিষ্ট রাঙামাটিবাসী। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাত থেকে আটবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার মধ্যেই ছিলো। সূর্যের তাপে তীব্র গরমে মধ্যে দুর্বিষহভাবে পুরোটা দুপুর কাটিয়েছে শহরবাসী। এমন গরমের দিনে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নানান প্রশ্ন তুলে ফুসে উঠেন অনেকেই। তারা বলছেন, বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়াতে নানান সমস্যার সম্মুখীন হতে তাদের। এরমধ্যে হ্রদের পানি আছে ভরপুর। তাহলে এত কষ্ট কেনো পোহাতে হচ্ছে সাধারণত মানুষকে।

সোমবার দুপুরে রাঙামাটি শহরের বনরূপা বাজারে চায়ের দোকানে এক দিনমজুর বিড়ি ফুঁকতে ফুঁকতে হঠাৎ বলে উঠেন, ‘গরমে জান যারগই’। ওই দিনমজুরের সাথে আলাপকালে তিনি বলে উঠেন, ‘কাপ্তাই হ্রদে পানিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করেও রাঙামাটির মানুষ কারেন্ট (বিদ্যুৎ) না থাকায় গরমে মরতেছে। এগুলো কোন কথা?’

‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে জনগণের ভোগান্তি বেড়ে গেছে’ এমন দাবি কলেজ গেইট এলাকার প্রবেন চাকমা বলেন, সূর্যের যে তাপ পড়ছে, এতে করে রাস্তায় হাঁটাচলা করাই কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এরমধ্যে সকালের পর থেকে বারবার বিদ্যুৎ আসা যাওয়াতে করছে। এখন গরমের দিনে বাসায় অবস্থান করেও শান্তি নেই।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহেল বড়–য়া নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই তীব্র গরমের মধ্যে পরীক্ষার হলে বসে পরীক্ষা দিতে দিচ্ছে আমাদের। বনরূপা বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ পারভেজ জানান, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে আমাদের বেচাকেনা করতেও অসুবিধা হচ্ছে। এরমধ্যে গরমের যন্ত্রণা তো আছেই। রিজার্ভ বাজার এলাকার বাসিন্দা মিশু দে বলেন, ‘এটি এখন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখা গেছে কোনো দিন আধঘন্টার মধ্যে দুই থেকে তিনবারও বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। এতে শিক্ষাথীদের পড়ালেখা করতে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।’ তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘সাধারণত হ্রদে যখন পানি কমে যায়। স্বাভাবিকভাবে তখন বিদ্যুৎ উৎপাদনও কমে যায়। কিন্তু এখনতো হ্রদের পানি টুইটুম্বুর, তাহলে এমন হচ্ছে কেন? বিষয়টি নিয়ে অতিসত্বর সংশিল্ট কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে। না হয় দিনদিনই এ ভোগান্তি আরও বেড়ে যাবে।’

রাঙামাটির স্থানীয় সংসদ সদস্য ফিরোজা বেগম বলেন, ‘এটা রাঙামাটিবাসীর জন্য দুর্ভাগ্যের বিষয়। এই নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিং এ প্রকৌশলীকে বারবার বলা হয়েছে। কিন্তু তারপরও এমন কেনো করছে সেটা আমরা বুঝছি না।’ চিনু এমপি আরও বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে ব্যয়ে সংকট থাকলে সেটা নিয়মমাফিক ভাবে বিভ্রাট হবে। কিন্তু পাঁচ মিনিট পরপরও বিদ্যুৎ যাওয়া আসা করলে মানুষ তো অতিষ্ট হবেই। একজন এমপি হয়ে বারবার বলা সত্ত্বেও এমন কাজ প্রায়ই হচ্ছে।’

রাঙামাটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার জানান, ‘১৩২ কে. বি. গ্রিড ফেল করার কারণে রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি-বান্দরবান ও চট্টগ্রাম জেলায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবারহ প্রদান করতে আমাদের বিকেল চারটা পর্যন্ত সময় লেগেছে। সকাল থেকে বারবার লাইন কানেকশন দেওয়ার পরও লাইন ফেল করার কারণেই বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button