নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ : কাজ শেষ না করেই পুরো বিল পকেটে !
parbatyachattagram

২০ লক্ষ টাকার কাজটির টেন্ডারেও অনিয়ম !

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ : কাজ শেষ না করেই পুরো বিল পকেটে !

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের একটি উন্নয়নমূলক কাজ শেষ না করে পুরো টাকা উত্তোলন কর্রে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইতিমধ্যে ঘটনা তদন্তে মাঠে কাজ করছে দূর্নীতি দমন কমিশন।

মঙ্গলবার(২৫ জুন) দুপুরে খাগড়াছড়ির সবুজবাগ এলাকায় প্রকল্প এলাকা সরেজমিন পরিদর্শনে যান দুদক’র রাঙামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। যার নেতৃত্ব দেন দুদকের উপ পরিচালক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন দুদকের সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম ও আবুল বাশার।

জানা যায়, গত অর্থ বছরে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ শহরের সবুজ বাগ এলাকায় জৈনক আবুল কাশেমের বাসা থেকে রফিকের বাসা পর্যন্ত প্রায় ৯০ ফিট দৈর্ঘ্যরে একটি আরসিসি সীমানা প্রাচীর নির্মানের কথা ছিল। প্রকল্পটি টেন্ডার ছাড়া কমিটির মাধ্যমে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী আবুল কাশেম প্রকাশ কেসিসি কাশেমকে দেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী। কিন্তু সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, কাজ হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। তাও আরসিসি ঢালাই দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কথা থাকলেও সেখানে দেয়া হয়েছে ইটের গাঁথুনি। তবে কাজের কাজেই প্রকল্পের পুরো টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা বেবি আক্তার দুদক’কে বলেন, শুরু থেকে এই নিয়ে অভিযোগ করলেও কেসিসি কাশেম এটি ব্যক্তিগত অর্থে করছেন বলে আমাদের জানান। কিন্তু পরে শুনি এটি পরিষদের কাজ।

দূর্নীতি দমন কমিশনের রাঙামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, ‘কাজ করার আগে প্রকল্পের পুরো টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। মূলত অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে কাজটি করা হয়। যে ৩০ শতাংশ কাজ হয়েছে তা আরসিসি ঢালাই দিয়ে করার কথা থাকলেও সেটি হয়েছে ইটের গাঁথুনি দিয়ে। যতটুকু হয়েছে তাও ঠিকাদারী কাজের সাথে জড়িত আবুল কাশেমের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ। দুদকের নাম ভাঙ্গিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে এই আবুল কাশেম বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি-ধমকিসহ বিভিন্ন চাঁদাবাজির করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে টেন্ডারবিহীন কাজ না করে প্রকল্পের পুরো টাকা উত্তোলন, কাজের তদারকি না করা সম্পর্কে দুদকের কর্মকর্তারা জানতে চাইলে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নির্বাহী প্রকৌশলী জীবন রোয়াজা বলেন, শুরুতে এটি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করার জন্য লিখিতভাবে বললেও পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্যরা প্রকল্প কমিটির মাধ্যমে কাজটি করান। উর্দ্ধতনদের কর্মকর্তারা বললে তখন আমার আর কিছু করার থাকেনা।

দুদকের রাঙামাটি সমন্বিত কার্যালয়ের উপ পরিচালক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ সম্পুন্ন অনৈতিক উপায়ে কাজটি করেছেন। এবং কাজটির লক্ষ্য হলো টাকা আত্মসাৎ। আমরা সরেজমিন এসে তার সত্যতা পেয়েছি। এখন আমরা যাচাই বাছাই করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেব। পরিদর্শনকালে ৭দিনের মধ্যে কাজটি সম্পূন্ন করার নির্দেশনা দেন। এর আগে দুদকের তদন্ত দল জেলা পরিষদে গিয়ে প্রকল্প সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটি যুব রেড ক্রিসেন্ট’র সহশিক্ষা কার্যক্রমের  প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

যুব রেড ক্রিসেন্ট রাঙামাটি ইউনিট’র সহশিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় দুইদিন ব্যাপী রেড ক্রস/ রেড ক্রিসেন্ট মৌলিক …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 × 2 =