খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় মসজিদের দায়িত্বে প্রশাসন

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
মেয়াদউত্তীর্ণ কমিটি, মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জালসহ অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগে খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে। খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে নির্বাচন পরবর্তী কমিটি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে আদালত। সাধারণ মুসল্লীদের পক্ষে স্থানীয় গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তির দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে খাগড়াছড়ির যুগ্ম জেলা জজ মাহমুদুল ইসলাম এ আদেশ জারি করেন। গেল বছরের ১ ডিসেম্বর যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলায় বাদীপক্ষ মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বাতিল ও গঠনতন্ত্র মোতাবেক আহ্বায়ক কমিটি গঠনের আদেশের প্রার্থনা করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. গিয়াস উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ৩১ অক্টোবর আদালত খাগড়াছড়ি কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদের বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ পরিচালনা কমিটির কার্যক্রম অবৈধ ঘোষণা করে পরবর্তী নির্বাচন ও পরিচালনা কমিটি না হওয়া পর্যন্ত মসজিদের পরিচালনার দায়িত্ব অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক)-কে দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের কৌশলী অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন কবির জানান, ২০১৭ সালের ৩১অক্টোবর তিন বছরের জন্য মো. জাহেদুল আলমকে সভাপতি ও মো. সোলায়মানকে সম্পাদক করে ২১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। উক্ত কমিটির মেয়াদ গত ৩০/১০/২০২০খ্রি. তারিখে শেষ হলেও আরো দুই বছরের বেশি সময় পার করেছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের বেশি সময়ে এ কমিটির সভাপতি ও সম্পাদক মসজিদের বিভিন্ন আর্থিক কর্মকান্ডে প্রচুর অনিয়ম করে। এতে মুসল্লীদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। জাহেদুল আলমকে ফের সভাপতি করার জন্য তাঁর আপন ছোট ভাই রফিকুল আলম নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব দিয়ে নির্বাচনের নামে প্রহসনের অপচেষ্টা করে। সবশেষ প্রার্থীদের প্রতিদ্বন্দিতার সুযোগ না দিয়ে গত ০৪/১২/২০২১খ্রি. তারিখে প্রস্তাব ও সমর্থনের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচনের চেষ্টা করলে সাধারণ মুসল্লীদের পক্ষে গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী আকতার উদ্দিন মামুন সাংবাদিকদের জানান, মোঃ জাহেদুল আলম, রফিকুল আলমসহ বিবাদীগণ সহ-সভাপতি জাফর আহম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কার্যনির্বাহীর কমিটির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিজেদের কমিটির মেয়াদ আরো এক বছর বৃদ্ধি করেন এবং বৈধভাবেই মসজিদ পরিচালনা করেছেন।

এদিকে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে মৃত ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করা নিয়ে। বাদীপক্ষের দাবি যে রেজুলেশনমূলে  মসজিদ কমিটির মেয়াদ ১ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে তা জাল জালিয়াতি করে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে এবং এতে মৃত মানুষের স্বাক্ষর আছে। উক্ত কার্যবিবরণীতে ১২ নং স্বাক্ষরকারী সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোলায়মান মারা যান গত ০৬/১১/২০২০খ্রি. তারিখে। কিন্তু এ কার্যবিবরণীতে উক্ত মৃত ব্যক্তি স্বাক্ষর দেখানো হয়েছে ২১/১২/২০২০ইং তারিখে। তাছাড়া উক্ত সভার সভাপতি মোঃ জাফর আহম্মদের স্বাক্ষর ও জালিয়াতি করে আদালতে জমা দেয়া হয়েছে উল্লেখ করা হয়।

বিবাদীপক্ষের আইনজীবী আকতার উদ্দিন মামুন বলেন তারা আদালতের রায়ে সংক্ষুদ্ধ হয়েছেন। এই আদেশের বিরূদ্ধে তারা আপিল করবেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

4 × five =

Back to top button