খাগড়াছড়ি

খাগড়াছড়ির প্রতীকী জেলা প্রশাসক হলেন কিশোরী সোহা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক হয়েছেন কিশোরী উম্মে হামিমা সোহা! তবে প্রতীকী জেলা প্রশাসক। মূলতঃ আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে এমন ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার বেলা ১২টা ১০ মিনিটে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস বিশেষ এই দিনে উম্মে হামিমা সোহাকে প্রতীকী জেলা প্রশাসকের দ্বায়িত্ব অর্পণ করেন। তিনি নিজের চেয়ার ছেড়ে কিশোরী সোহাকে বসতে দেন। এসময় করতালি ও ফুল দিয়ে সোহাকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের চেয়ারে বসে বাল্যবিবাহ বন্ধ ও নারী অধিকার নিয়ে কথা বলে সোহা।

জেলা প্রশাসক প্রতাপ চন্দ্র বিশ্বাস ছাড়াও এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, আবু সাঈদ ও কেএম ইয়াসির আরাফাত, এনসিটিএফ খাগড়াছড়ি জেলা সভাপতি শচীন দাশ, সদস্য শাহানা হাসান সেতুসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসকের চেয়ারে বসে উম্মে হামিমা সোহা একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে সে জানায়, একজন মেয়েও ডিসির আসনে বসতে পারে। নারীরাও পারে প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের অবদান নিশ্চিত করতে। বাল্যবিবাহ আমাদের জন্য অভিশাপ। এই অভিশাপ পুরোপুরি রোধ করতে না পারলেও নিজেরা আত্মপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে কিছুটা কমিয়ে আনতে পারি। এখানে আসতে পেরে আমার আনন্দ হচ্ছে। আমিও চাইলে জেলা প্রশাসক হতে পারবো তা অনুভব হচ্ছে। আমাকে দেখে অনেকে উৎসাহিত হবে এবং আমিও বড়দের দেখে অনুপ্রাণিত হব।

সোহা খাগড়াছড়ি নতুন কুড়ি ক্যান্টনমেন্ট হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্রী। সে জাতীয় পর্যায়ে শিশু অধিকার বাস্তবায়নকারী সংগঠন ন্যাশনাল চিলড্রেন টাস্কফোর্স (এনসিটিএফ) খাগড়াছড়ির সদস্য। পরে উম্মে হামিমা সোহাকে জেলা প্রশাসকের গাড়িতে করে তার বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়। সোহা জেলা শহরের ন্যান্সি বাজার এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল কাশেমের মেয়ে।

সোহার মা ফারহানা আক্তার রুনা বলেন, আমার মেয়েকে প্রতীকী জেলা প্রশাসক করায় অনেক সম্মানিতবোধ করছি। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় পাওয়া। সোহার জন্য দোয়া করবেন যাতে সে জীবনে এমন চেয়ারে অধিষ্ঠিত হতে পারে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button