নীড় পাতা / পাহাড়ের সংবাদ / খাগড়াছড়ি / খাগড়াছড়িতে ভোটযুদ্ধে লড়বেন কারা ?
parbatyachattagram

আওয়ামীলীগের ‘উন্নয়ন’র বিরুদ্ধে লড়বে ‘গোছানো’ বিএনপি

খাগড়াছড়িতে ভোটযুদ্ধে লড়বেন কারা ?

পাহাড়ের জটিল সমীকরণের মধ্যেই খাগড়াছড়ি ২৯৮ নং আসনে (জেলায় একটিই আসন) আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। আওয়ামীলীগ ও বিএনপি; দুই প্রধান দলের বাইরেও পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোও তৈরি হচ্ছে নির্বাচনের জন্য। উন্নয়নের শ্লোগান নিয়ে আওয়ামীলীগ মাঠে সরব থাকলেও জাতীয় নানা ইস্যুকে পূঁজি করে বিএনপি তৎপর অনেকটা গোছালোভাবে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে আওয়ামীলীগ ও বিএনপিতে জেলা সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে কিছুটা অস্বস্থি রয়েছে। তবে, সব ছাড়িয়ে আগামী নির্বাচনে ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে পাহাড়ের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলসমূহের তৎপরতা।

খাগড়াছড়ি আসনে আওয়ামীলীগ থেকে বর্তমান এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার অবস্থান বেশ সুদৃঢ়। তার বিপরীতে শক্ত মনোনয়ন প্রত্যাশী হতে পারেন সাবেক এমপি যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা। আছেন মনোনয়ন প্রত্যাশী আরো কয়েকজন। আর বিএনপিতে ওয়াদুদ ভূইয়াই একমাত্র শক্তিশালী প্রার্থী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি‘র প্রার্থী সমীরণ দেওয়ানও মনোনয়ন চাইতে পারেন ফের। নতুন মেরুকরণ না হলে সোলায়মান আলম শেঠই মনোনয়ন নেবেন জাতীয় পার্টির। তবে মহাজোটের প্রার্থী হতে মরিয়া শেঠ। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি কখনো প্রার্থী দেয়নি খাগড়াছড়িতে। অন্যদিকে ভোটের হিসেবে খাগড়াছড়িতে মোটামুটি শক্ত অবস্থানে থাকা ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) নির্বাচনে অংশ নেবে; এটা নিশ্চিত। তবে এবার কে হচ্ছেন প্রার্থী তা এখনই বলতে রাজি নয় দলটির নেতারা। একই অবস্থা জনসংহতি সমিতির (এমএন লারমা)। কেউ-ই মুখ খুলছেন না। শোনা যাচ্ছে প্রার্থী দিতে পারে সদ্যগঠিত আঞ্চলিক সংগঠন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)। আঞ্চলিক দলগুলো নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অন্তর্ভূক্ত দল না হলেও তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষনার পর মূলত: দল থেকে সমর্থন দিয়ে থাকে।
আওয়ামীলীগ:
বিশেষত: গেলো ৫ বছরে বিপুল উন্নয়নই আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ভোট প্রার্থনার প্রধান নিয়ামক। ‘বিদ্যুৎ সমস্যা’ নিরসন করাকে বড় বিজয় দেখছে দলটি। আওয়ামীলীগ মনে করে, চোখের পলকেই ঝুঁকিপূর্ন মরনফাঁদ বেইলি সেতুগুলোর বদলে স্থায়ী কংক্রিটের সেতু নির্মান হওয়ায় লাখো মানুষের চিন্তার ভাঁজ দূর হয়েছে। এছাড়াও পিটিআই, বিনা, গুইমারা উপজেলা ও বিজিবি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং খাগড়াছড়ি হাসপাতালকে ২৫০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তর, নার্স ইন্সটিটিউট, পুলিশ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ও প্রকল্প গ্রহনসহ খাগড়াছড়িতে সড়ক যোগাযোগ ও ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নকে নির্বাচনের হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরতে পারে আওয়ামীলীগ। এছাড়াও রামগড়ে বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু নির্মান কাজ শুরু ও স্থলবন্দর নির্মানের প্রচেষ্টাকে আগামী নির্বাচনের শ্লোগান বানাতে পারে তারা। এছাড়াও পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি আওয়ামীলীগের ভোট প্রচারণায় যোগ হতে পারে।

তবে নির্বাচনের আগমূহুর্তে দলের ‘সাধারণ সম্পাদক’ পদ নিয়ে নতুন করে সংকট উঁকি দিতে পারে। সাধারণ সম্পাদক পদে থেকেই ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থী যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরার বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা এবং সর্বশেষ খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে নৌকার বিপক্ষে কাজ করায় সাময়িকভাবে বহিস্কৃত হন জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম। মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন তারই ছোট ভাই রফিকুল আলম।
নৌকার বিপক্ষে কাজ করার পর থেকে আওয়ামীলীগের মূলধারার সঙ্গে জাহেদুল আলমের দ্বন্ধ, বিরোধ বাড়তে থাকে। তার সাথে যুক্ত হন তারই দুই ছোট ভাই জেলা আওয়ামীলীগের ছাত্র ও মানবসম্পদ সম্পাদক দিদারুল আলম ও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচিত মেয়র রফিকুল আলম।
এ নিয়ে তাদের সাথে আওয়ামীলীগের বহুবার সংঘর্ষ, সংঘাত ও হানাহানির ঘটনাও ঘটে। এতে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের বহু নেতাকর্মী ও সমর্থক আহত হন। একজন নিহত হয়। পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন কয়েকজন। এখন পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়টি জাহেদুল আলম পরিবারের দখলেই।
গেলো বছর ঢাকায় দলের এক বৈঠকে কেন্দ্রীয় যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ জাহেদুল আলমকে পদ হারানোর কথা ঘোষনা করেন। পরে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এসএম শফিকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়া হয়। জেলা সাধারণ সম্পাদকের পদ নিয়ে চলমান সংকট ব্যতিত আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আওয়ামীলীগ ভালোভাবেই প্রস্তুত বলে জানালেন আওয়ামীলীগের নেতারা।
এক সময় খাগড়াছড়ি আসনটি নৌকার জন্যই রিজার্ভ ছিল। তখন পাহাড়িদের ভোটের সিংহভাগই পেতো নৌকা। কিন্তু পাহাড়ের আঞ্চলিক দলগুলোর রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরুর পর থেকে সেই প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন ঘটেছে। এই আসনটি ১৯৯১ ও ১৯৯৬ পরপর আওয়ামীলীগের কল্প রঞ্জন চাকমা পেলেও ২০০১ সালে বিএনপি থেকে ওয়াদুদ ভূইয়া জয়লাভ করেন। ওয়ান ইলাভেন পরবর্তী ২০০৮ সালে পুনরায় আওয়ামীলীগের যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা তা পুনরুদ্ধার করেন। সর্বশেষ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা জয় পান।
আ.লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী:
বর্তমান সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা ফের মনোনয়ন পেতে যাচ্ছেন; এমন আলোচনাই বেশি। তিনি ভারত প্রত্যাগ্যত উপজাতীয় শরনার্থী প্রত্যাবাসন ও পূনর্বাসন এবং আভ্যন্তরীন উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পূনবার্সন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স এর প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার চেয়ারম্যান। এছাড়াও আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, কংজরী চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা, অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা। সাবেক সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা ছিলেন ভারত প্রত্যাগত শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স এর চেয়ারম্যান। তিনি আগামী নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। সাময়িক বহিস্কৃত জেলা সাধারণ সম্পাদক জাহেদুল আলম ও পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র রফিকুল আলমসহ আওয়ামীলীগের একটি অংশের নেতা-কর্মীর সমর্থন রয়েছে তার প্রতি। নৌকায় চড়তে চান খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীও। এছাড়া আবারও সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রার্থী হবার দৌড়ে থাকবেন পানছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ সমীর দত্ত চাকমা। বীর মুক্তিযোদ্ধা রণ বিক্রম ত্রিপুরা জেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
জেলা আওয়ামীলীগের নেতা ও মাটিরাঙ্গা পৌরসভার মেয়র সামছুল হক বলেন, উন্নয়ন ও সম্প্রীতির ধারক হিসেবে আগামী নির্বাচনেও কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার বিকল্প নেই। অন্য কাউকে দিলে ভরাডুবি হবে নিশ্চিত। জেলা আওয়ামীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষযক সম্পাদক মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু বলেন, ‘সুখে দু:খে যাকে আমরা কাছে পাই, তিনি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খোকনেশ্বর ত্রিপুরা উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরাকেই চান। জেলা আওয়ামীলীগ নেতা ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সেক্রেটারি জুয়েল চাকমার মতে, যোগ্য প্রার্থীকে নৌকা দিলেই কেবল জয় সুনিশ্চিত করা সম্ভব। দীঘিনালা আওয়ামীলীগের সভাপতি মো: কাশেম বলেন, নেত্রী যাকে নমিনেশন দেবেন, তার পক্ষেই কাজ করবে নেতাকর্মীরা। জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আশুতোষ চাকমা জানান, বর্তমান এমপি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ এখন অনেক সুসংগঠিত ও সুদৃঢ়।
অবশ্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা বলেন, ‘গেলো ৫টি বছরে গোটা পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের বিপ্লব ঘটেছে। বিশেষ করে খাগড়াছড়ি জেলায় বিদ্যুৎ গ্রিড সাব স্টেশন চালু, সেতু ও সড়ক উন্নয়নে মাইলফলক স্থাপিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগনের জন্য আওয়ামীলীগ কাজ করছে। আমি আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করতে কাজ করছি।’ আগামী নির্বাচনে নৌকার মনোনয়নের ব্যাপারে কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা সাফ জানিয়ে দেন ‘সেই বিষয়টি খোদ শেখ হাসিনারই এখতিয়ার। সবই তার নখদর্পনে রয়েছে। তিনি ভালোই জানেন কাকে দেবেন মনোনয়ন। শেখ হাসিনার নির্দেশে জনগনকে সাথে নিয়ে কাজ করছি। নৌকার পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছি।’
আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী কংজরী চৌধুরী জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি। মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি কাজও করছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে জনগণের বিভিন্ন দাবী-দাওয়া পুরণের জন্য তিনি যাচ্ছেন দ্বারে দ্বারে। কংজরী চৌধুরী বলেন, ‘যেহেতু দল করি, তাই দল চাইলে আমিও নির্বাচন করতে প্রস্তুত আছি। তবে দল অন্য কাউকে মনোনয়ন দিলে, তার পক্ষেও কাজ করবো।’
বিএনপি:
খাগড়াছড়ি আসনে বিএনপি অনেকটাই সংগঠিত দল। দু‘বছর আগেও প্রকাশ্য গ্রুপিং দেখা গেলেও ইদানিং তা নেই। ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বে বিএনপি এখন গোছানো দল। এমনকি আগামী সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে তারা।
দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলে জানা গেলো, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলা বিএনপি‘র সভাপতি ওয়াদুদ ভুইয়াই দলের একক প্রার্থী। তার বিপক্ষে বিএনপিতে আর শক্ত প্রতিদ্বন্ধি নেই। বিশেষ ক্ষমতা আইনে দূর্নীতি মামলায় সাজার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া। ওয়াদুদ ভুইয়া দু‘বারের সংসদ সদস্য এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান।
২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী ছিলেন জেলা বিএনপি‘র তৎকালীন সহ-সভাপতি সমীরণ দেওয়াণ। আসন্ন সংসদ নির্বাচনেও ধানের শীষের মনোনয়ন চাইতে পারেন কেন্দ্রীয় বিএনপি‘র কার্যনির্বাহী সদস্য সমীরণ দেওয়ান। তিনি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্সের সাবেক চেয়ারম্যান।
সাময়িক বহিস্কার জনিত কারণে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে জটিলতা থাকলেও বিএনপিতে তেমনটা নয়। মূলত: বিএনপি‘র জেলা সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মিল্লাত এর অকাল মৃত্যুতে সেই পদটিও শূন্য রয়েছে। বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে স্থলাভিসিক্ত করা হয়নি কাউকে। এ নিয়ে দলে ব্যাপক গুঞ্জনের মধ্যেই আগামী সংসদ নির্বাচন করবে বিএনপি। এছাড়া ১৫১ সদস্যের জেলা কমিটির মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষিত হয়েছে।
জেলা বিএনপি‘র যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ চাকমা রিংকু জানান, খাগড়াছড়ি বিএনপিতে ওয়াদুদ ভুইয়ার বিকল্প নেই। তার নেতৃত্বে বিএনপি এখন সবচেয়ে সুসংগঠিত দলে পরিণত হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি‘র সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া জানিয়েছেন, নেত্রীকে জেলে রেখে নির্বাচনের ভাবনা নেই। নেত্রীর মুক্তির পর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই নির্বাচনের চিন্তা করা হবে। তিনি বলেন, সারাদেশের মত খাগড়াছড়িতেও প্রশাসন বিএনপিকে মাঠেই নামতে দিচ্ছেনা। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল সব সুবিধাই নিচ্ছে। তারপরও বিএনপি নির্বাচনের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি‘র জয়রথ থামিয়ে রাখা যাবেনা বলেও মন্তব্য করেন।
দলের পূর্নাঙ্গ কমিটি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন প্রসঙ্গে ওয়াদুদ ভূইয়া জানান, সারাদেশেই আংশিক কমিটি। মূলত: নেত্রীর মুক্তির পরই পূর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনার পাশাপাশি জেলা সাধারণ সম্পাদকের নাম প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।
জাতীয় পার্টি:
খাগড়াছড়িতে জাতীয় পার্টির অবস্থান তেমনটা সুসংহত না হলেও নির্বাচনে বরাবরই প্রার্থী দেয়। ২০১৪ সালের নির্বাচনে পার্টির প্রার্থী ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি সোলায়মান আলম শেঠ। এবার তিনি মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সুযোগ পেলেই সোলায়মান শেঠ খাগড়াছড়ি ছুটে আসেন। ঈদ ও বিভিন্ন পার্বনে জেলার বিভিন্ন স্থানে দরিদ্রদের মাঝে শাড়ি লুঙ্গি বিতরণ করতে দেখা যায়। জেলা জাতীয়পার্টির সদস্য সচিব প্রকৌশলী খোরশেদ আলম জানান, সোলায়মান আলম শেঠ এর নেতৃত্বে খাগড়াছড়ি জাতীয়পার্টির আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।
সোলায়মান আলম শেঠ জানান, ‘গেলো নির্বাচনেও মহাজোটের প্রার্থী ছিলাম। শেষ মূহুর্তের হটকারি সিদ্ধান্তে আমাকে জাপা থেকে ভোট করতে হয়েছে। এবার বোঝাপোড়া ঠিক থাকলে মহাজোটের মনোনয়ন পাবো; এমনটাই আশা করছি। এরশাদের সবুজ সংকেত পেয়েছি।’
ইউপিডিএফ ও জনসংহতি সমিতি:
সন্তু লারমার নেতৃত্বোধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি কখনোই খাগড়াছড়ি আসনে প্রার্থী দেয়নি। এবারও না দেওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে ২০০১ সাল থেকেই জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে বড় ফ্যাক্টর আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ‘ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ (ইউপিডিএফ)। পাহাড়ের সুসংগঠিত সংগঠনটি বরাবরের মতই এবারও নির্বাচন নিয়ে আগাম মুখ খুলতে রাজি হচ্ছেনা। ১৯৯৭ সালে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সাথে সরকারের চুক্তি স্বাক্ষরের বিরোধিতা করে ১৯৯৮ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রসিত খীসার নেতৃত্বে ইউপিডিএফ এর জন্ম হয়।
২০০১ সালের নির্বাচনে দলের শীর্ষনেতা প্রসিত বিকাশ খীসা প্রার্থী হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে খাগড়াছড়িতে দলের মূখ্য সমন্বয়কারি উজ্জল স্মৃতি চাকমা এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালে প্রসিত খীসা দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হয়েছিলেন। প্রতিটি নির্বাচনেই ভালো ভোট আদায় করে আঞ্চলিক দলটি। ইউপিডিএফ কেন্দ্রীয় মূখপাত্র নিরন চাকমা জানান, সময় হলেই সব খোলাসা করে বলা হবে। এখনই দলের প্রার্থীর নাম ঘোষনা করার সময় হয়নি। এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) কেন্দ্রীয় তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সুধাকর ত্রিপুরা জানান, ‘গেলো নির্বাচনে মৃনাল কান্তি ত্রিপুরা আমাদের প্রার্থী ছিলেন। এবার কে হবেন বা দলের কী ভাবনা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’ তবে সামনের নির্বাচনে যোগ্য কোন প্রার্থী অথবা জাতীয় দলকে জনসংহতি সমিতি সমর্থন জানাতে পারে বলে ইংগিত দিয়েছেন তিনি।
পাহাড়ের বিশেষ পরিস্থিতি এবং ভিন্নতর কৌশলের ফলে খাগড়াছড়ি আসনে নির্বাচনী হিসেব নিকেশ যথারীতি জটিল হয়ে উঠে। এবারও তার ব্যতিক্রম হবেনা বলে মনে করেন রাজনীতি সচেতন মহল। এরমধ্যেও সাম্প্রদায়িক উস্কানী ও নেতিবাচক প্রচার প্রচারণাকে ডিঙিয়েই পথ চলতে হতে পারে প্রগতিশীল ধারণার আওয়ামীলীগকে। আর জাতীয়ভাবে সরকারের কিছু নেতিবাচক ইস্যু ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে পূঁজি করে বিএনপি এবার মাঠের প্রচারণায় থাকবে। আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে প্রসিত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ ও এমএন লারমাপন্থী জনসংহতি সমিতি মূলত: পাহাড়ের বিদ্যমান ভূমি জটিলতা, পার্বত্য চুক্তি পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবী, চলমান দ্বন্ধ ও বিরোধিতাকে সামনে রেখে প্রচারণায় সামিল হতে পারে।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

দীঘিনালায় টিসিবি’র পেঁয়াজ বিক্রি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় টিসিবি’র ডিলারের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে পেঁয়াজ বিক্রয় শুরু করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা সদরে …

Leave a Reply