খাগড়াছড়িপাহাড়ে নির্বাচনের হাওয়াবান্দরবানব্রেকিংলিড

খাগড়াছড়িতে বিজয়ী নৌকার নির্মলেন্দু, লামায় জহিরুল

পৌরসভা নির্বাচন

খাগড়াছড়ি ও লামা প্রতিনিধি 
খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর দুর্গে জয় পেলেন নৌকার প্রার্থী নির্মলেন্দু চৌধুরী। অন্যদিকে বান্দরবানের লামায় টানা দু’বারের মতো নৌকার প্রার্থী জহিরুল ইসলাম বিজয়ী হয়েছেন।

খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী মেয়র পদে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ৯০৩২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন। জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার রাজু আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র রফিকুল আলম মোবাইল প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭৪৯ ভোট। এছাড়া ধানের শীষের প্রার্থী ইব্রাহিম খলিল পেয়েছেন ৪৩০৮ ভোট এবং লাঙ্গল ১৮৪ ভোট। নির্বাচনে মোট ভোট পড়েছে ২২৩৪৮। বাদ পড়েছে ৭৫টি ভোট। নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬০ শতাংশ।

এর আগে শনিবার সকাল থেকে দ্বিতীয় ধাপে খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনের ভোট গ্রহন শুরু হয়। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনেকটা শান্তিপূর্ণভাবে প্রথমবারের মতো খাগড়াছড়িতে ইভিএম এ ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। তবে দুপুরের পরে খাগড়াছড়ি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনিস্টিটিউটে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল আলমের সাথে নৌকার সমর্থকদের সাথে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে।

প্রসঙ্গত, টানা দুই মেয়াদে খাগড়াছড়ি পৌরসভায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী মো. রফিকুল আলম মেয়র ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামীলীগের সাথে রফিকুলের সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। শুরু হয় সহিংসতা। সে সময় কিছুটা বিভক্তি দেখা দেয় দলে। তাই এই নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেয় দলটি। যদিও কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী চূড়ান্ত করার জন্য তিনজনের নাম কেন্দ্রে পাঠায়। যেখানে রফিকুলের নাম প্রথমে ছিল। কিন্তু আওয়ীমীলীগের শীর্ষ নেতারা তৃতীয় নাম্বারে থাকা খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দুু চৌধুরীকে মনোনিত করেন। পরে রফিকুল স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।

এবার খাগড়াছড়িতে ৪ মেয়র প্রার্থী ১০জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর এবং ৪০ জন সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। খাগড়াছড়ি পৌরসভায় এবার মোট ভোটার ৩৭ হাজার ৮৭ জন। এরমধ্যে নতুন ভোটার ৩ হাজার ৪শ’ ৮৬ জন।

এদিকে লামা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই বান্দরবানের লামা পৌরসভা নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার রাত আটটায় রিটার্নিং অফিসার ও বান্দরবান জেলা নির্বাচন অফিসার মো. রেজাউল করিম নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফলে বেসরকারিভাবে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম নৌকা প্রতীকে ৯ হাজার ৪০৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. শাহিন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পায় ১ হাজার ৬২ ভোট এবং জাতীয় পার্টি সমর্থিত প্রার্থী এ টি এম শহিদুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

শনিবার সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে একযোগে ৯টি ভোট কেন্দ্র ও ৩৯টি বুথের মাধ্যমে এ ভোট গ্রহণ চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ঘন কুয়াশা আর কনকনে শীত উপেক্ষা করেই প্রতিটি কেন্দ্রে ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট প্রদান করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে লড়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম নৌকা প্রতীক নিয়ে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে লড়েছেন উপজেলা বিএনপির একাংশের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহীন। এ দু’য়ের সাথে ভোটের মাঠে ছিলেন উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এটিএম শহিদুল ইসলাম লাঙ্গল প্রতীকে। এছাড়া সাধারন কাউন্সিলর প্রার্থী ২৬জন এবং সংরক্ষিত পদে ৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

এদিকে সংরক্ষিত ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হন সাকেরা বেগম (প্রতীক- আনারস), ২নং ওয়ার্ডে মরিয়ম বেগম (প্রতীক-জবা ফুল) ও ৩নং ওয়ার্ডে জাহানারা বেগম (প্রতীক-আনারস)। সাধারন কাউন্সিলর পদে ১নং ওয়ার্ডে মো. বশির আহমদ (প্রতীক- চার্জ লাইট), ৩নং ওয়ার্ডে মো. সাইফুদ্দিন (প্রতীক- টেবিল ল্যাম্প), ৫নং ওয়ার্ডে আলী আহমদ (প্রতীক-উট পাখি), ৬নং ওয়ার্ডে মমতাজুল ইসলাম (প্রতীক-ডালিম), ৭নং ওয়ার্ডে মো. কামাল উদ্দিন (প্রতীক-টেবিল ল্যাম্প), ৮নং ওয়ার্ডে মো. ইউছুফ আলী (প্রতীক-ডালিম) এবং ৯নং ওয়ার্ডে উশৈথোয়াই মার্মা (প্রতীক-উট পাখি) নির্বাচিত হয়েছেন। এদিকে কোন প্রতিদ্বন্ধি প্রার্থী না থাকায় ২নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ হোসেন বাদশা ও ৪নং ওয়ার্ডে মোহাম্মদ রফিক বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে প্রতিকেন্দ্রে ১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ৮জন পুলিশ ও আনসার ভিডিপি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে নিয়োজিত ছিলেন র‌্যাব, বিজিবি ও পুলিশের স্ট্রাইকিং ফোর্স। বিকাল ৪টার পর ভোট কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কেন্দ্র্রে কেন্দ্রে ভোট গণনা শুরু হয়। ২৮.৪৯ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের পৌরসভায় ভোটার সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৮৯জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিলেন ৭ হাজার ৩০০ জন ও মহিলা ভোটার ৬ হাজার ৩৮৬জন।

ভোট কেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শনকালে শিলেরতুয়া মার্মা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কের্ন্দের ভোটার চিংহ্লাপ্রু মার্মা, রোজিনা বেগম, আমির হোসেনসহ অনেকে বলেন, এবারে ভোটের পরিবেশ সুন্দর। আমার দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। ভোট দিতে কোন অসুবিধা হয়নি।

লামা পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ও বান্দরবান জেলা নির্বাচন অফিসার মো. রেজাউল করিম জানান, শান্তিপূর্নভাবে লামা পৌরসভার ৯টি কেন্দ্রে এক যোগে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ভোটাররা উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন। কোন কেন্দ্রে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। ভোট গণনায় আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মো. জহিরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দুই সাধারণ কাউন্সিলরসহ ১২ জন সংরক্ষিত ও সাধারণ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button