খাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

খাগড়াছড়িতে চাঞ্চল্যকর রাসেল শেখ হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতার

সাবেক মেয়র রফিকের বিরুদ্ধে ৩ মামলা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
খাগড়াছড়িতে চাঞ্চল্যকর মো: রাসেল শেখ হত্যাকান্ডের আসামী আব্দুল হান্নান প্রকাশ সুমনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম পিবিআই। সোমবার সন্ধ্যায় তাকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলি এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হলে সে ওই হত্যাকান্ডে জড়িত বলে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এই মামলার প্রধান আসামী খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম জামিনে রয়েছেন। রফিকুল আলম দ্বিতীয়দফা পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর কাছে হেরেছেন। মো: রাসেল খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের একনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন।

আগের পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা ২০১৮ সালের ২৪ মার্চ মো: রাসেল শেখ কে ডেকে নিয়ে শহরের পিডিবি এলাকাস্থ ব্রিজের কাছে নিয়ে মারধর ও ছুরিকাঘাত করে ব্রিজ থেকে ফেলে দেয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার সময় মারা যায় সে। ওই ঘটনায় ভিকটিমের মা খোদেজা বেগম বাদী হয়ে রফিকুল আলমকে প্রধান আসামী করে এবং দিদারুল আলমসহ এজাহারনামীয় ১৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১০/১৫ জনের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়ি জেলার সদর থানার মামলা দায়ের করেন।

মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে গত বছরের ২ নভেম্বর পিবিআই এর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পিবিআই এর চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ শাহ আলম সরকারকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোঃ শাহ আলম সরকার জানান, হত্যাকান্ডের ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত পলাতক অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে এবং মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি জাবেদ হোসেন অভিযোগ করেন, পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল আলমের নির্দেশে তাদের ক্যাডাররা এই খুনের ঘটনা ঘটিয়েছিলো।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় নিহত রাসেলের মা খোদেজা বেগমের করা মামলায় প্রধান আসামী হলেন খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম। এছাড়াও তার ছোট ভাই জেলা আওয়ামীলীগের শিক্ষা ও মানব সম্পাদক সম্পাদক দিদারুল আলমসহ ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে আরো অন্তত ১০/১৫ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করা হয়।

দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানোয় রফিকের বিরুদ্ধে ৩ মামলা
খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার শিকার হয়েছেন নেতাকর্মীসহ কয়েকজন আওয়ামীলীগ সমর্থক। এছাড়াও বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল আলমের নেতৃত্বে সন্ত্রাসীরা তাদের বাড়িঘরে হামলা, দলীয় কার্যালয় ভাংচুর ছাড়াও সংখ্যালঘুদের ভয়ভীতি দেখানো করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার শিকার নেতাকর্মীরা এই অভিযোগ করে জানান, বিচার চেয়ে খাগড়াছড়ি সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক নুর হোসেন রাইটার অভিযোগ করেছেন, নৌকার পক্ষে কাজ করায় তার বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল আলম ও তার সন্ত্রাসীরা। তখন তার স্ত্রী মেহেরুন নেছাকেও মারধর করেছে তারা। এই ঘটনায় তার স্ত্রী বাদী হয়ে খাগড়াছড়ি থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে ভোট গ্রহনের শেষ সময়ে শহরের শালবন এলাকায় আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল আলমের নেতৃত্বে একদল নৌকা বিরোধি লোক শালবনে দলীয় কার্যালয় ভাংচুর করেছেন। এসময় কার্যালয়ে থাকা আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্থ করেন। খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রশিদ জানিয়েছেন, পৃথক ৩টি মামলা গ্রহন করে তা তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
এ ব্যাপারে আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রফিকুল আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য বর্তমান মেয়র রফিকুল আলম আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। খাগড়াছড়ি পৌরসভা নির্বাচনে এবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরী।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button