খাগড়াছড়িব্রেকিং

খাগড়াছড়িতে আওয়ামীলীগ ও মেয়র গ্রুপের কর্মসূচি পালিত

আওয়ামীলীগ ও মেয়র গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে খাগড়াছড়ি শহরবাসী প্রায় আড়াই ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিল। যানবাচল চলাচল ছিল বন্ধ। ছিল উত্তেজনা, আতঙ্ক ও উদ্বেগ। সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। দুই গ্রুপের কর্মসূচির কারণে সংঘাত এড়াতে শহরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সকাল সাড়ে ১০টায় খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপির অনুসারীরা শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি শাপলা চত্বর ঘুরে জাহেদুল আলম, তার সহোদর মেয়র রফিকুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এসএম শফি, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক কামাল পাটোয়ারী, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ এনে তাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীমের কাছে স্মারকলিপি দেয়।

তার পর পরই পৌর শাপলা চত্বরে শুরু হয় অপর পক্ষের মানববন্ধন। খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম, জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজসহ নেতৃবৃন্দের নামে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আওয়ামী লীগের অপর অংশ দুপুর ১টায় খাগড়াছড়ি পৌর শাপলা চত্বরে মানববন্ধন শেষে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। ফলে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি শহর অবরুদ্ধ থাকে।

শহরে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সাথে উত্তেজনা, আতঙ্ক ও উদ্বেগ। তবে শেষ পর্যন্ত কোন অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা না ঘটায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে শহরবাসী।

গত ১ আগস্ট রাতে খাগড়াছড়ি শহরের গঞ্জপাড়ায় সন্ত্রাসীরা জেলা শ্রমিক লীগের যুগ্ম আহবায়ক সুরুজ মিয়াকে কুপিয়ে আহত করে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে নিলে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে প্রেরণ করে। এদিকে সুরুজ মিয়ার উপর হামলার ঘটনায় বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা শ্রমিক লীগের আহবায়ক জানু সিকদার বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা চেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে। মামলায় খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র মো. রফিকুল আলম, তার ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক দিদারুল আলম ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন ফিরোজসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আরো ১০/১২ জনকে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষই পৌর শাপলা চত্বরে রবিবার একই সময় একই স্থানে সমাবেশ ও মানববন্ধন আহবান করলে উত্তেজনা দেয়। প্রশাসন শনিবার বিকালে উভয় পক্ষকে ডেকে কর্মসূচি পালনের সময়-সূচি নির্ধারণ করে দেন।

 

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button