খাগড়াছড়িব্রেকিং

খাগড়াছড়িতেও ‘ছেলে ধরা’ গুজবে আতঙ্ক

‘ছেলে ধরা’ গুজবে আতঙ্কিত খাগড়াছড়ির অভিভাবকরা। ইতিমধ্যে জেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে ‘ছেলে ধরা’ আতঙ্কে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে। চিন্তিত অভিভাবকরা নিজের সন্তানকে নিয়ে হাজির হচ্ছেন বিদ্যালয়ে। ইতিমধ্যে স্থানীয়রা ছেলে ধরা সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করলেও বাস্তবে তার সত্যতা না পাওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। এদিকে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে স্থানীয়দের সচেতন করতে নানা ধরনের সচেতনমূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। বিদ্যালয়গুলোতে পুলিশের পক্ষ থেকে সচেতনমূলক সভা করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খাগড়াছড়ির শহরতরীর বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে গত কয়েকদিন ধরে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমছে। মহালছড়ির তবলছড়ি কায়াংঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে আতংকিত পরিবার তাদের সন্তানদের পাঠাচ্ছেননা। একই চিত্র জেলার বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের।

তবলছড়ি কায়াংঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সুমন চক্রবর্তী বলেন, গত দুই দিন ধরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। ছেলে ধরা গুজব আতঙ্কে তারা সন্তানদেরকে পাঠাচ্ছেনা। আমরা তাদের এই বিষয়ে সচেতন করার চেষ্টা করছি।

এদিকে ছেলে ধরা সন্দেহে জেলার মাটিরাঙ্গা, লক্ষীছড়িতে ছেলে ধরা সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে আটক করে স্থানীয়রা। পরে ঘটনার সত্যতা না পেয়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। ছেলে ধরা গুজবে আতঙ্কিত না হতে স্কুল পর্যায়ে সচেতনামূলক সভা করছে খাগড়াছড়ি জেলা পুলিশ। গত সোমবার সকালে খাগড়াছড়ি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক কাটাতে সচেতনমূলক সভা করা হয়েছে।

খাগড়াছড়ি সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রওনক আলম উপস্থিত ছাত্রছাত্রী এবং অভিবাকদের সাথে কথা বলেন। এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শ্রীলা তালুকদারসহ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। এসময় রওনক আলম অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সারাদেশে কিছু স্বার্থান্বেষি মহল ছেলে ধরা গুজব ছড়াচ্ছে। যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এসব মিথ্যে এবং গুজবে আতঙ্কিত না হতে সকলকে আহ্বান জানান।

খাগড়াছড়ির পুলিশ সুপার মোহা. আহমার উজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরা দফায় দফায় বৈঠক করেছি। স্থানীয়দের সচেতন করতে স্কুল, কলেজে সচেতনমূলক সভা করা হচ্ছে। মাইকিং, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও প্রচারণা চলছে। ছেলে ধরার বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। এর কোনো ভিত্তি নেই। যা ঘটছে তা গুজবের কারণে। কাউকে যদি সন্দেহ হয় পুলিশকে খবর দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button