ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

ক্ষত ভুলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাঙামাটির পর্যটন

প্রায় সাড়ে তিনমাস আগে ভয়াবহ পাহাড়ধসে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়া রাঙামাটির পর্যটন শিল্প ক্ষত কাটিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
গত ১২ ও ১৩ জুনের ভয়াবহ পাহাড়ধসে ১২০ জনের মৃত্যু,দুইশত মানুষ আহত এবং শত শত বসবতবাড়ি,স্থাপনা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়ার পর রাঙামাটির সাথে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগও সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে। এতে সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাঙামাটি। গত মাসেই প্রায় ৬৯ দিন পর চালু হয় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কটি। ফলে এই সময়ে দুইটি ঈদের ছুটিতেও পর্যটকের হাহাকার ছিলো এই পর্যটন শহরে। বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিলো শহরের হোটেল মোটেলগুলোর।
কিন্তু সব শংকাকে জয় করে আবারো ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রাঙামাটির পর্যটন। দুর্গাপূজার ছুটি উপলক্ষ্যে ইতোমধ্যেই শহরের প্রায় সবগুলো ভালো ও মাঝারি মানের হোটেলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বুকিং রয়েছে।

রাঙামাটির পর্যটন কর্পোরেশন এর ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা জানিয়েছেন, তার মোটেলে ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর প্রায় আশিভাগ রুম ইতোমধ্যেই বুকিং হয়ে গেছে,যা গত তিনমাসের মধ্যে প্রথমবারের মতোই হয়েছে। অথচ প্রতিবছর দুই ঈদের ছুটির সময় মোটেলে রুম পাওয়াই স্বপ্নের ব্যাপার। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গত তিনমাসের দু:সহ সময় পার হয়ে আমরা আবার আশায় বুক বাঁধছি। আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া পর্যটন মৌসুমকে ঘিরেই সম্ভবত আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে আমাদের পর্যটন।

একই কথা জানালেন বছর খানের আগে চালু হওয়া শহরের অভিজাত হোটেলে নাদিশা ইন্টারন্যাশনাল এর ব্যবস্থাপক শাহীনুর সুলতান। তিনি জানিয়েছেন, ২৭ তারিখ থেকেই মোটামুটি বেশ ভালোই বুকিং আছে,২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর প্রায় আশিভাগ রুমই বুকড হয়ে গেছে। গত তিনমাসের দুর্বিসহ সময়ের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, অবিশ্বাস্যরকম খারাপ সময় কাটিয়েছি আমরা। এবার বোধহয় প্রকৃতি আমাদের দিকে মুখ তুলে চেয়েছে।

এখনো পানির নীচে ঝুলন্ত সেতু
এদিকে রাঙামাটির ‘সিম্বল অফ আইকন’ হিসেবে পরিচিত বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি গত বেশ কিছু ধরেই কাপ্তাই হ্রদের পানির নীচে তলিয়ে আছে। গতকালও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটি এখনো প্রায় দুই ফুট পানির নীচে। গত দেড়মাস ধরেই পানির নীচে সেতুটি। প্রায় প্রতিবছরই বর্ষামৌসুমে পানির নীচে ডুবে থাকা সেতুটিকে নিয়ে বিড়ম্ভনায় পর্যটন কর্তৃপক্ষও। এনিয়ে বিস্তর লেখালেখিও হয়েছে। এবছরও এখন যারা বেড়াতে আসবেন,তারা সেতুটিকে পানির নীচেই দেখবেন।
এই বিষয়ে রাঙামাটি পর্যটনের ব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, বিগত সময়ের আমাদের যে অভিজ্ঞতা তাতে সেতুটি প্রায় তিনমাস পানির নীচেই থাকে। এসময় আসা পর্যটকরা তাই সেতুটি দেখা হতে বঞ্চিত হন। এটি সংস্কারে উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি একটি সমাধান মিলবে। আপাতত: পানি কমার জন্য প্রতীক্ষা করা ছাড়া আমাদের কিছু করার নাই।
গতকাল ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা রেহনুমা পারভীন জানান,রাঙামাটি আসব অথচ এই বিখ্যাত ঝুলন্ত সেতুটি দেখব না এটা কি করে হয়। তাই আসলাম,কিন্তু হতাশা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে।

শুধু রেহনুমাই নন,এমন অনেকেই ফিরছেন হতাশা নিয়ে। কিন্তু সুভলং ঝর্ণার উপচে পড়া জলের উচ্ছাস ভুলে পর্যটকরা এই হতাশাকে ভুলতে পারছেন। আর ধীরে ধীরে মেঘ কেটে গিয়ে সূর্যের সম্ভাবনা উঁকি দেয়ায় খুশি এই জেলার পর্যটন ব্যবসার সাথে সংশ্লিস্টরাও।

 

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button
%d bloggers like this: