করোনাভাইরাস আপডেটক্যাম্পাস ঘুড়িখোলা জানালাব্রেকিংরিপোর্টার্স ডায়রি

ক্যাম্পাসে ফেরার অপেক্ষা

করোনা সংক্রমণ রোধ করতে গত ১৭ই মার্চ থেকেই সরকার প্রাক-প্রাথমিক থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার বিদ্যাপীঠগুলোও বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর একে একে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দোকানপাট ও ব্যবসা-বাণিজ্য। বন্ধ রয়েছে অনেকেরই আয় রোজগারের পথও। আর সেই থেকে অন্য সব ছাত্রের মতো আমাকেও ঘরে বসে কাটাতে হচ্ছে প্রতিটি দিন। নিয়মিত পত্রিকা পড়া, ফেসবুকিং, খাওয়া আর ঘুমের মধ্য দিয়েই পার হচ্ছে এই সময়গুলো। তবুও মন যেন ব্যাকুল। ক্যাম্পাসে ফেলে আসা দিনগুলোর জন্য মন স্থির থাকছে না কিছুতেই। শুধু ফিরে যেতে চায় কলেজগেটের সেই মামার চায়ের দোকানে অথবা সবুজ ক্যাম্পাসের কোনায় কোনায়; যেখানে আড্ডা জমতো বন্ধু-বড় ভাই কিংবা ছোট ভাই-বোনদের সঙ্গেও।

স্নাতক জীবনের শুরু থেকেই আমি ছিলাম একদম মুক্ত পাখির মতো। সবসময় আপন মনেই উড়তে ভালোবাসতাম। ক্লাস না থাকলেও ক্যাম্পাসে যাওয়া, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সংগঠনের জন্য কাজ করা, ছেলে-মেয়েদের সংঘঠিত করা, তাদের সাথে আড্ডা দেওয়া, এসব ছিল প্রধান কাজ আমার।

রাঙামাটি সরকারি কলেজের পেছনের সবুজায়িত পরিবেশ আমাকে শুরু থেকেই সবসময় টানতো। তাই নিজের সাংগঠনিক জীবনের অধিকাংশ কাজই করা হয়েছে এই ক্যাম্পাসকে ঘিরে।

শুধু সাংগঠনিক জীবনই নয় বরং আমার সাংবাদিকতা জগতেরও একটা বিরাট অংশ জুড়ে রয়েছে এই ক্যাম্পাস। সংবাদকর্মী হওয়ার দরুন ক্যাম্পাসের ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের সাথেও ভালো সম্পর্ক ছিল আমার। তাদের সাথেও জমতো চায়ের আড্ডা। চলতো নানা বিষয়ে আলাপ-আলোচনাও। স্বল্পকালের ক্যাম্পাস জীবনটাকে এ রকম নানা রঙে উদযাপন করেছি আমি।
অথচ আজ সবকিছুকেই কেন জানি অতীত মনে হচ্ছে। কখনো ভাবিনি এমন দিন আসতে পারে। যেটা ভাবিনি আজ সেটাই বাস্তব হয়ে সামনে চলে এসেছে। বড্ড মিস করছি এখন ক্যাম্পাসের সবকিছু। মিস করছি প্রিয় স্যারদের। পুরো ক্যাম্পাস যেন থমকে গেছে। সময় যেন ঘড়ির কাঁটায় আটকে গেছে।

সময় যেতেই চাচ্ছে না। মনে হয় কত যুগ ধরে যেন ক্যাম্পাসে যাই না।
ক্যাম্পাসের সঙ্গে গত সাড়ে চার বছরের এই সম্পর্কটা হয়তো ক্যালকুলেটরের হিসাবে খুব বেশি লম্বা নয়, তবুও এই সময়ের মধ্যেই ক্যাম্পাসটার সঙ্গে একটা গভীর মায়ার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে গেছি। কতটা মায়ায় আবদ্ধ হয়ে গেছি, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। এ মায়া খুব গভীর, কঠিনও বটে। তাই তো মুখিয়ে আছি প্রিয় ক্যাম্পাসে ফেরার অপেক্ষায়।

লেখক: অসীম গুপ্ত, সংবাদকর্মী ও শিক্ষার্থী, রাঙামাটি সরকারি কলেজ।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button