নীড় পাতা / ফিচার / খেলার মাঠ / কোচ রেফারি খেলোয়াড় সবই তিনি!

উন্নয়ন বোর্ড প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগ

কোচ রেফারি খেলোয়াড় সবই তিনি!

ভাবুন কোনও ফুটবল টুর্নামেন্ট বা লীগে আপনি কোনও দলের কোচ হয়ে মাঠের কোচ বক্সে দাঁড়িয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন; আবার রেফারি হয়ে মাঠ শাসনে নেমেছেন। শেষঅবধি দলের জার্সি পড়ে মাঠে নেমেছেন খেলার জন্য! অবাক হয়ে হয়তো নিজেকেই প্রশ্ন করছেন কী ভাবে সম্ভব? একজন এতো সব করবে কী করে?

মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে মাঠে লড়ছে ইয়থ স্পোর্টিং ক্লাব। মাঠের কোচ বক্সে দাঁড়িয়ে নির্দেশনা দিচ্ছেন নিজ দলের খেলোয়াড়দের। ম্যাচটি ছিল ৩ নভেম্বর। ঠিক তার পাঁচ দিনের সময় ৮ নভেম্বর জেলা মুকুল ফৌজের সাথে ব্রাদর্স স্পোর্টিং ক্লাবের রেফারির কাজে নিয়োজিত সেই আগের কোচ! ১৬ নভেম্বর মোহামেডান খেলছে রাইজিং ক্লাবের সাথে হঠাৎ ১০ নাম্বার জার্সি পরে মাঠে নামে আগের সেই রেফারি! অবিশ্বাস্য হলেও এমনই ঘটনা ঘটেছে রাঙামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রথম বিভাগ ফুটবল লীগে। এমন ঘটনায় হতবাক হয়ে গেছে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।

একজন খেলোয়ার কী করে রেফারি হয় বা রেফারি কী করে খেলোয়াড় হয়ে মাঠে নামে? এমন ঘটনা টেকনিক্যাল কমিটির নজর এড়িয়ে কী করে ঘটলো তাও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে তাদের কপালে। রেফারি যেখানে নিরপক্ষ থেকে ম্যাচ পরিচালনা করার কথা সেখানে তিনি কী করে মাঠে কোনও দলের হয়ে খেলতে নামে। এতে নিরপেক্ষতা আর টেকনিক্যাল বা রেফারি বাছাই কমিটির ব্যার্থতাকে দায়ী করছে ক্রীড়া সংশ্লিষ্টরা।

একের ভিতরে তিনের কাজ যিনি করেছে তার নাম মো. মঈন উদ্দিন। যিনি এ লীগে একাধারে মোহামেডান ক্লাবের কোচ, রেফারি ও মোহামেডানের হয়ে খেলোয়াড়ের চেহারায় দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে সাবেক জাতীয় দলের সদস্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক বরুন বিকাশ দেওয়ান বলেন, লীগে রেফারি কোনও দলের হয়ে কোচ কিংবা খেলোয়ার হয়ে খেলতে নামতে পারে না। সেটা সম্পূর্ণ অনৈতিক। আমি জানি না কিভাবে এমনটি ঘটলো। তবে এ কাজটি খুবই দুঃখজনক। এমন ঘটনা রেফারির নিরপক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সাবেক রেফারি ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ-সভাপতি সুনীল কান্তি দে বলেন, রেফারি কোনও দলের হয়ে খেলতে মাঠে নামার সুযোগ আছে সেটার প্রশ্নই আসে না। রেফারির কাজ নিরপেক্ষ থেকে খেলা পরিচালনা করা। মাঠে কারও পক্ষ নিয়ে খেলা নয়। তিনি আরও বলেন, আমি মনে এ বিষয়ে আগামী রেফারি নিয়োগ কমিটি আরও সতর্কতার সাথে কাজ করবে।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক শফিউল আজম বলেন, আমরা দ্বায়িত নিয়েছি মাত্র অল্প সময় হয়েছে। কিছু ভূল ত্রুটি থাকতে পারে। তবে তা কোনভাবেই ইচ্ছাকৃত নয়। তাছাড়া রেফারি খেলেছিল তেমনটি আমার জানা নাই। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি আসলে ঘটনাটা কী। তিনি আরও বলেন, আমাদের অবশ্য রেফারি সংকট আছে, সেই অজুহাতেই হয়তো এমন ঘটনা ঘটতে পারে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার যে কোনও কাজে এবং লীগে সুন্দরভাবে শেষ করার জন্য সবার সহযোগীতা কামনা করেন তিনি।

যিনি এমন তিনটি কাজ একসাথে করেছেন সেই মো. মঈন উদ্দিনকে ফোন করে সাংবাদিক পরিচয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে লাইন কেটে দেন।

আরো দেখুন

জেএসএস চুক্তিবিরোধীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলেছে

জনসংহতি সমিতি স্ববিরোধী বক্তব্য দিচ্ছে অভিযোগ করে ২৯৯নং আসনের আওয়ামীলীগের সংসদ প্রার্থী দীপংকর তালুকদার বলেছেন, …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

5 + 11 =