খাগড়াছড়িব্রেকিংলিড

কে হচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ?

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
অনেকটা অভিভাবক ছাড়াই চলছে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। পার্বত্য চট্টগ্রামের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে নব বিক্রম ত্রিপুরার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ গত ১৮ মার্চ শেষ হলেও সরকার নতুন কাউকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করেনি। তবে অন্তবর্তীকালীন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মো: নুরুল আলম নিজামী। যদিও তার চাকুরিকালীন মেয়াদও এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে শেষ হয়ে যাবে। ফলে কে হবেন পবর্তী নতুন চেয়ারম্যান তা নিয়ে জল্পনা কল্পনা চলছে।
অবশ্য এ নিয়ে নাড়াচাড়া নেই পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে। নিয়ম অনুযায়ী এই মন্ত্রনালয় থেকেই সম্ভাব্য চেয়ারম্যানের নামের প্রস্তাব পাঠানোর কথা। পার্বত্য মন্ত্রনালয়ের সচিব মোছাম্মত হামিদা বেগম জানিয়েছেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছুই বলতে পারিনা। বিষয়টি জনপ্রশাসনের।’
বছরে কমপক্ষে দেড়শ কোটি টাকার বরাদ্দ পাওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড হলো দেশের অন্যতম শক্তিশালী উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান। যেটি তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান এর মাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। পার্বত্য অঞ্চলের অনগ্রসর ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে আর্থসামাজিকভাবে এগিয়ে নেয়া, শিক্ষা-সংস্কৃতির বিকাশ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়েই এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলা হয়েছিল।
কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৪৫ বছরের মধ্যে অধিকাংশ সময় ধরে অনির্বাচিতরা চেয়ারম্যান মনোনিত হওয়ায় বোর্ডকে সেভাবে জন আকাংখা পুরণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা যায়নি। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার, সামরিক কর্মকর্তা ও বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তারাই বেশির ভাগ সময় চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির পর তিন দফায় দু‘জন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি বীর বাহাদুর এমপি ও ওয়াদুদ ভূইয়া মাত্র কয়েক বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সম্প্রতি বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নববিক্রম কিশোর ত্রিপুরার চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ শেষ হবার পর সরকার নতুন করে কাউকে নিয়োগ দেয়নি। শোনা যাচ্ছে তিনি ফের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে তদবির করছেন। উল্লেখ থাকে যে, আমলাদের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন ব্যতিক্রমী চেয়ারম্যান যিনি জনপ্রতিনিধি না হয়েও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডকে একটি গতিশীল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে বেশ কিছু ভালো উদ্যোগ গ্রহন করেছিলেন। এর আগেও তাকে উন্নয়ন বোর্ডে দু‘দফায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
এর বাইরেও নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বেশ কয়েকজনের নামও শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শরনার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি, রাঙ্গামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য বাসন্তী চাকমার নাম উল্লেখযোগ্য। এছাড়া সাবেক আমলা সুদত্ত চাকমার নামও আলোচনায় রয়েছে।
বাংলা একাডেমি পুরস্কারে ভূষিত প্রভাংশু ত্রিপুরা জানান, ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের এই প্রতিষ্ঠানটি গঠনের কথা থাকলেও ৭৫ এর ১৫ আগষ্ট স্বপরিবারে শহীদ হবার কারণে তা সম্ভব হয়নি। পরে ১৯৭৬ সালে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। অথচ জন্মলগ্ন থেকেই প্রতিষ্ঠানটি জনপ্রতিনিধির অভাববোধ করে আসছে। যা মঙ্গলজনক নয়।’
জেলা বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট আশুতোষ চাকমা বলেন, ‘জনগুরুত্বপূর্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড’ এর শীর্ষ পদে আমলা থাকায় রাজনৈতিক সরকারের দ্বারা যেভাবে জনস্বার্থ সংরক্ষন করে উন্নয়ন হওয়ার কথা; তাও প্রতিষ্ঠানটি পুরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাতে করে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পুরন হচ্ছেনা বললেই চলে।’
পাহাড়ের বর্ষিয়ান সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানটিতে একজন জনপ্রতিনিধিকেই চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা উচিত। কারণ মনোনিত ব্যক্তিদের ওপর জনগনের দায়বদ্ধতা থাকেনা তেমন।’
পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের প্রকৃত টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানটিকে জনবান্ধব করে গড়ে তুলতে আগামীতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে দেওয়ার দাবী জানিয়েছেন খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার মেয়র নির্মলেন্দু চৌধুরী।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

1 × 3 =

Back to top button