ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

কেবলই পেছাচ্ছে লংগদুর অগ্নিদুর্গতদের বসত নির্মাণ !

রাঙামাটির লংগদুতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর নির্মাণের টেন্ডারে দ্বিতীয় বারেও কেউ অংশ নেয়নি। গত ৪ ফেব্রুয়ারি টেন্ডারের শিডিউল কেনার শেষ দিন ছিল। আর ৫ ফেব্রুয়ারি ছিল টেন্ডার খোলার শেষ দিন। তবে কেউই টেন্ডারের এই কার্যক্রমে অংশ নেয়নি। ফলে আট মাস ধরে আশ্রয়হীন অবস্থায় থাকা পরিবাগুলোর মাথাগোঁজার স্থায়ী কাঠামো পাওয়ার সম্ভাবনাও ম্লান হয়ে গেলো।

৬ ফেব্রুয়ারি রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোসাদ্দেক মেহেদী ইমামসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের প্রতিনিধিদের নিয়ে আলোচনা করেন।

পার্বত্য জনসংহতি সমিতির লংগদু উপজেলার শাখার সাধারণ সম্পাদক মনি শংকর চাকমা জানান, ‘মোট ১৭৬ পরিবারের জন্য ঘর বানাতে দুই বার টেন্ডার দেওয়া হয়, কিন্তু কোনও ঠিকাদার এতে অংশ নেয়নি। আগে চারটি প্যাকেজে ছিল। এখন সেটিকে ১০টি প্যাকেজ করা হয়েছে। ইট ও কাঠের দাম নিয়ে ঠিকাদারদের কিছু অভিযোগ ছিল। সেগুলো আশ্রয়ণ প্রকল্পে সংশোধন করা যায় কিনা সেই বিষয়ে চিঠি লেখা হবে, এরপর সিন্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানি।’

৭নং লংগদু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কুলিন মিত্র আদু বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হতাশ হয়ে পড়েছে। গত আট মাস ধরে গৃহহীন হয়ে কেউ কেউ নিরুপায় হয়ে ছোট্ট টং ঘর বানিয়ে, আবার কেউবা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে আমরা কেউ জানি না।’

১নং আটারকছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো একেবারে ভেঙে পড়েছে। বর্ষা গেলো, শীতও প্রায় শেষ। আবার বর্ষা শুরু হবে কয়েক মাস পর। এই পরিবারগুলো কোথায় যাবে বর্ষায়? টেন্ডারের কিছু বিষয়ে স্থানীয় ঠিকাদাররা কিছু অসঙ্গতির কথা বলেছে। সেগুলো সংশোধন করা না হলে কোনও ঠিকাদার এই কাজে অংশ নেবে না বলেই মনে হয়। সবাই কাজে কিছু লাভ করতে চায়। তাই তাদের লাভের কথা মাথায় রেখে টেন্ডার দিলে তারা অংশ নিতে পারে।’

লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম জানান, ‘আমরা প্রধামন্ত্রী কার্যালয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা যে সিদ্ধান্ত দেবে সেভাবে আমরা কাজ করবো।’

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান বলেন, ‘এসব এলাকায় এত কাজ করার মতো ঠিকাদার নাই। কিছু জিনিসের দাম নিয়ে অভিযোগও ছিল। এসব বিবেচনা করে চার প্যাকেজ বাদ দিয়ে ১০ প্যাকেজ করা এবং ইটসহ অন্যান্য জিনিসের দাম সংশোধনের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্পে আবেদনের মাধ্যমে জানানো হবে। আশা করছি ১০/১২ দিনের মধ্যে ফের নতুন করে টেন্ডারের আহ্বান করা যাবে।’

উল্লেখ্য, গত ১ জুন লংগদুর মোটরসাইকেল চালক ও লংগদু ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়নকে খাগড়াছড়ির চার মাইল এলাকায় দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। পরের দিন ২ জুন বাইট্টাপাড়া থেকে তার লাশ নিয়ে লংগদু উপজেলা মাঠের দিকে আসার সময় বিক্ষোভ মিছিল থেকে পাহাড়ি তিনটি গ্রামে হামলা চালানো হয়। এসময় দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে অন্তত ২১৫ বাড়ি ও দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারে পক্ষ থেকে প্রায় ৮শ’ লোককে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button