পাহাড়ের রাজনীতিব্রেকিংরাঙামাটিলিড

কেন খুন হয়েছিলেন ইউপি সদস্য হেমন্ত চাকমা?

মৃত্যুর একদিন আগে নিজের ফেসবুক ওয়ালে বাংলা সিনেমার একটা গানের ভিডিও শেয়ার দিয়েছিলেন তিনি। `জীবনের নৌকা চলে,হেলে দুলে পাল তুলে…. আমাকে ঘুম পাড়াবে ঘুম ভাঙানি গান গেয়ে…ভোর হলে পরে ঘুম ভাঙ্গাব পাখি হয়ে…’ লিরিকের গানটির মতোই ঘুমিয়ে পড়েছেন মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যেই, অবশ্য এই ঘুম থেকে কেউ আর জাগাতে পারেনা ! এমনই দুর্ভাগা এক তরুণ জনপ্রতিনিধি হেমন্ত,যে ফুল ফোটার আগেই নিভে গেছে,পাহাড়ের অজস্র ফুলের মতো,স্থানীয় রাজনীতির জিঘাংসায়।

রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় বনযোগীছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হেমন্ত চাকমার গুলিবিদ্ধ লাশ গত ১০ এপ্রিল রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ জানায়, ইউপি সদস্য হেমন্ত চাকমা উপজেলার তার পানছড়ি গ্রামের বাড়িতে কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে রাতের খাবার শেষে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এসময় কয়েকজন মুখোশপরা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে তাকেয় গুলি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। হেমন্ত চাকমা পানছড়ি গ্রামের লোকবিধু চাকমার ছেলে।

ঘটনার পরদিন রাঙামাটি হাসপাতালে লাশের ময়নাতদন্ত শেষে ঐদিন দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এর পরদিন ১২ এপ্রিল হেমন্ত চাকমার বাবা ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে জুরাছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করে বলে জানায় থানার ওসি মাহমুদুল হাই। তিনি বলেন, এখনো কি কারণে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে তা জানা না গেলেও আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুরাছড়ি উপজেলা সন্তু লারমা নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবেই পরিচিত। তবে হেমন্ত এক সময় ইউপিডিএফ’র রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ইউপিডিএফের রাজনীতি থেকে সরে যায়। এরপর নিজের ছোটখাট ব্যবসা আর জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব নিয়ে এলাকায় কাজ করছিলেন। তবে এলাকাবাসীর অনেকেরই ধারণা তিনি ইউপিডিএফের রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কারণেও খুন হয়ে থাকতে পারেন। আবার অনেকে পুরোনো ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে হত্যার বিষয়টিও জানাচ্ছেন। তবে ঘটনা যাই হোক না, এই হত্যাকান্ডের পেছনে যে আঞ্চলিক দলগুলোর আধিপত্যের রাজনীতির যোগসাজস আছে,সেটা মানছেন সবাই,বুঝছেনও।

বনযোগীছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, হেমন্ত চাকমা খুবই ভালো লোক ছিল। আমার ইউপি সদস্যদের মধ্যে সে আমার খুবই অনুগত ছিল। সবার সাথে খুব সহজেই মিশে যেতে পারতো। তাকে হারিয়ে সত্যিই আমি মর্মাহত। তবে কি কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, সেটা আমি নিজেও বুঝতে পারছি না। কোন ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি সামাজিক শত্রুতা সেটা আমিও এখনো পরিষ্কার নই। তবে তিনি জানান, গত সংসদ সদস্য নির্বাচনে হেমন্ত চাকমা জেএসএসের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছিলেন।

এদিকে হত্যাকান্ডের পর থেকেই আসামিদের ধরতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ কাজ করছে বলে জানা গেছে। হেমন্তের খুনিরা ধরা পড়বে কিনা কিংবা তাদের আদৌ খুঁজে পাওয়া যাবে কিনা জানেনা কেউই।  তবে পাহাড়ের মানুষ বড় বেশি স্বাভাবিক হয়ে গেছে, এইসব মৃত্যু আর হেমন্ত চাকমাদের অকাল বিদায়ে।  পাহাড়ে হেমন্ত চাকমাদের জীবন যে দোয়েল ফড়িং এর চেয়েও মূল্যহীন….

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button