ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

কেন এক বছরেও রাঙামাটিতে হলো না অক্সিজেন প্লান্ট ?

শংকর হোড়

দেশে গতবছর করোনা মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে হাজার হাজার মানুষ। তখন দেশের সব হাসপাতালে অক্সিজেন সঙ্কট দেখা দেয়। বিশেষ করে হাইফ্লো অক্সিজেনের অভাবে এসময় প্রচুর রোগীকে মৃত্যুবরণ করতে হয়। পার্বত্য জেলায় এই সঙ্কট আরো প্রবল হয়ে দেখা দেয়। দুর্গম অঞ্চলের মানুষকে স্বাস্থ্য সেবা দিতে এসময় হিমশিম খেতে হয় হাইফ্লো অক্সিজেনের অভাবে। বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরে গত বছর পার্বত্য মন্ত্রণালয় থেকে তিন জেলা পরিষদের মাধ্যমে ৫০ লক্ষ টাকা করে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় অক্সিজেন প্লান্ট স্থাপনের জন্য। ইতোমধ্যে বান্দরবানে অক্সিজেন প্লান্টের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। খাগড়াছড়িতেও প্লান্ট বসানোর কাজ শেষ, এখন উদ্বোধনের প্রহর গুনছে। ব্যতিক্রম শুধুই রাঙামাটিতে। এক বছরেও অক্সিজেন প্লান্টের কাজ হয়নি। মাত্রই দু-তিনদিন আগে শুরু হয়েছে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে প্লান্ট বসানোর কাজ। এদিকে প্লান্ট বসানোর কাজ শুরু করতে দেরি হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়েছেন রাঙামাটির সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. বিপাশ খীসা বলেন, জেলা পরিষদের অনুকূলে ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পাওয়ার পর স্বাস্থ্যবিভাগ থেকেও রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর অনুমোদন পাওয়া যায়। রাঙামাটিতে অক্সিজেন প্লান্টের কাজ শুরু হয়েছে। বর্তমানে রাঙামাটিতে লিকুইড মেডিকেল অক্সিজেন(এলএমও) স্থাপন করা হচ্ছে। জেলা পরিষদের অর্থায়নে যেটা স্থাপন করা হতো, তার চাইতে এর কার্যক্রমতা আরো বেশি ও উচ্চতর। এজন্য সেসময়ে আমরা জেলা পরিষদের অর্থ এই প্লান্টের জন্য খরচ করেনি। যেটা দিয়ে অন্য কিছু করা হবে। তিনি আরো জানান, স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন, টেন্ডার সব বিষয় মিলে একটু সময় লাগলেও বর্তমানে কাজ শুরু হয়েছে। আশা করছি আগামী দেড় থেকে দুই মাসের মধ্যে কাজ সম্পন্ন হবে। তারপরই আমরা প্লান্টটি চালু করতে পারবো।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী বলেন, অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর জন্য জেলা পরিষদ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে অক্সিজেন প্লান্ট বসানোর উদ্যোগ নেয়ার পর পরিষদের অর্থ আর প্লান্টের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে না। ওভারলেপিংয়ের জন্য এই খাতে খরচ না করে এই অর্থ দিয়ে করোনা ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি।

এই বিষয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির(দুপ্রক)এর সাধারণ সম্পাদক ললিত সি. চাকমা বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে প্লান্ট বসানোর কাজ দেরি করা উচিত হয়নি। জেলা পরিষদ প্রাথমিকভাবে টাকা বরাদ্দ দেয়ার পর কাজ শুরু করে দেয়া উচিত ছিল। এখন সেকেন্ড ঢেউ শুরু হওয়ার পর তাড়াহুড়ো করে না করে তখন যদি কাজটি শুরু করা যেত তাহলে একটি প্রাণও ঝরে যেতো না। অক্সিজেনের জন্য চট্টগ্রামে রোগী পাঠিয়ে দিতে হতো না। তারপরও কাজটি যত দ্রুত সম্ভব শেষ করে কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানান তিনি।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button