ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

‘কুফা’ জুন !

জুন মাস যেনো বেদনা আর বিষাদ বয়ে নিয়ে আসে পার্বত্য রাঙামাটির জন্য। ২০১৭ সাল থেকেই শুরু এই প্রবণতার। রাঙামাটিতে স্মরণকালের ভয়াবহ পাহাড়ধস,জাতিগত জিঘাংসায় লংগদুতে যুবলীগ নেতাকে হত্যা ও দুই শত পাহাড়ী বসতবাড়িতে আগুনের পর এবার জুনের শুরুতেই রাঙামাটি শহরে মাটিচাপা পড়ে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনা এই মাসকে বেদনা বিষাদ কিংবা কুফা মাস হিসেবেই পরিচিতি করছে।

২০১৭ সালের ১৩ জুন ভয়াবহ পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছিল দেড় শতাধিক মানুষ। অথচ এই ঘটনার দুদিন আগেই শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় মাটি চাপায় মারা যায় শিশু মাহিমা আকতার। গৃহহীন হয়ে পড়ে বেশ কয়েকটি পরিবার। ১৩ জুনের পাহাড়ধসের ঘটনায় আহত হয়েছিল দুই শতাধিক এবং বাস্তুহারা হয়েছিল সহ¯্রাধিক মানুষ। ঘর বাড়ি হারিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রেই ঠাঁই নিয়েছিল শত শত মানুষ। কঠিন সেই সময়ে উদ্ধার কাজে অংশ নিতে গিয়ে প্রান হারিয়েছিলেন চার সেনা সদস্য। রাঙামাটির সাথে সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। বিদ্যুৎবিহীন ছিল রাঙামাটি শহর। সেই ধকল কাটিয়ে উঠতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল রাঙামাটিবাসীকে। এখনো রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন স্থানে সেদিনের ভয়াবহ ধসের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। বিশ^ মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সাথেই প্রচার হয়েছিল রাঙামাটির আলোচিত পাহাড় ধসের খবর।
পাহাড় ধসের ঘটনার পরের বছর আগাম সতর্কতা অবস্থান নেন প্রশাসন। বর্ষার আগেই ব্্যাপক প্রচারনায় নামেন তারা। আগেবাগেই খোলা হয় আশ্রয় কেন্দ্র। ফলে যখনই আবহাওয়া খারাপ দেখা যেত ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হত।
২০১৭ সালের জুনের ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনা রাঙামাটি সদর, কাপ্তাই, কাউখালী, বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি মোট এই পাঁচটি উপজেলায় ঘটেছিল। কিন্তু নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড়ধস কিংবা হতাহতের মত কোনো ঘটনা সেসময় ঘটেনি। অথচ ২০১৮ সালের ১২ জুন সেই নানিয়ারচর উপজেলার একাধিক স্থানে ঘটে ভয়াবহ পাহাড়ধস। আর ১১জনের প্রানহানি ঘটে। আহত হয়েছিল বেশ কয়েকজন।
২০১৬ থেকে বিভিন্ন সময় বেশ কয়েকটি মাটি চাপা ও ভবন ধসের ঘটনা ঘটেছিল রাঙামাটি শহরে। এতে একাধিক প্রানহানিও ঘটেছিল। ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর শহরের মহিলা কলেজ এলাকায় ভবন ধসে বাবা-মেয়ে সহ ৫জন নিহত হয়েছিল। সেই ঘটনার পর স্বাক্ষী হিসেবে ভবনটি এখনো ওভাবেই পড়ে আছে। ঘটনার পর মামলা হয়েছিল কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

২০১৭ সালের ২ জুন লংগদুতে যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নকে অপহরণের পর হত্যার ঘটনাকে ঘিরে সেখানে ক্ষুদ্ধ বাঙালীদের দেয়া আগুণে পুড়ে ছাই হয়ে যায় প্রায় দুইশত পাহাড়ী বসতঘর। এই ঘটনাটি দেশে বিদেশে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। উদ্ধাস্তু হয় শতাধিক পাহাড়ী পরিবার।

এবছর আবারো এসেছে জুন মাস। আবারো ঘটলো প্রাণহানি। ২ জুন শহরের মহিলা কলেজ এলাকায় নির্মানাধীন ভবনের মাটি চাপায় মারা যায় তিন শ্রমিক, আহত হন একজন।
এভাবে জুন মাস যেনো রাঙামাটিবাসীর জন্য আতঙ্কের মাস হিসেবে ঘুরেফিরে আসে। জুন মাস মানেই কি তবে কুফা রাঙামাটির জন্য!

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button