ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

কিশোরী শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনায় ‘সমঝোতা’র চেষ্টা !

রাঙামাটি শহরের রিজার্ভ মুখ এলাকায় রাঙামাটি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর পরিবারকে সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে এই প্রস্তাবে ‘নাখোশ’ ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার, প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে পরিবারটি।

রাঙামাটি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান বলেছেন, ‘ছাত্রীটি আমাদের বিদ্যালয়ের, ঘটনাটি আমাদের কারো কাম্য ছিল না। আমরা সবাই মেয়েটিকে দেখতে বাসায় যাই। সেখানে আমাদের বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ তোফায়েল উদ্দিনও ছিলেন। ঘটনাটি আর যাতে লম্বা না হয় যে জন্য সমঝোতার কথা উঠে আসে। সহজ একটার পন্থার মাধ্যমে সমাধান হউক আমরা এটি চাই। তিনি আরো বলেন, এই ঘটনায় তৃতীয় একটি পক্ষ বিষয়টি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে। এটি ওনিও (মেয়েটির বাবা) মনে করছেন, আমরাও মনে করছি।’

তবে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর পিতা ও মামলার বাদী আলী আহম্মদ জানিয়েছেন, ‘আমার বাসায় আমার মেয়েকে দেখতে অধ্যক্ষসহ কিছু শিক্ষক এসেছিলেন। তখন অধ্যক্ষ আমাকে বলেন, যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন আমরা চিকিৎসার যা খরচ লাগে, তা আমরা দিব। চলেন আমরা একটু বসি, বসে কোন সমাধান করা যায় কিনা। আমিও বলেছি বসতে তো সমস্যা নাই, আগে আমার মেয়েকে আমি সুস্থ করি,পরে বসার ব্যপারে দেখা যাবে।

সমঝোতার কোন আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই মুহুর্তে এর কোন সম্ভাবনাই নেই। কারণ আমার মেয়ে বিছানায় শুয়ে কষ্ট পাচ্ছে। তাদের সাথে কিসের আপোষ। টাকা যত লাগে আমার মেয়ের জন্য আমি খরচ করবো, দরকার হলে ভিক্ষা করব, তারপরও তাদের কোন সাহায্য নিব না। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

এদিকে রাঙামাটি প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে, ৮ আগস্ট সব স্কুলের পরীক্ষা শেষ হলে তারপর ঈদের ছুটি দেয়ার কথা থাকলেও, নিয়মের তোয়াক্কা না করে গতকাল (৭ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে সকাল ১১ টায় বিদ্যায়টি বন্ধ পাওয়া গেছে এই ঘটনায় আলোচিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। কি কারণে দুইদিন আগেই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি,সেই বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। আকস্মিক বিদ্যালয় বন্ধ দেয়ার ঘটনায় হতবাক অভিভাবক ও এলাকাবাসিও। তবে বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা দূরের বাড়ীঘরে যাবে,তাই আগাম ছুটি দেয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুলাই রাঙামাটি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির এক কিশোরী শিক্ষার্থীকে আপত্তিকরভাবে বেত্রাঘাত করায় ও বিভিন্ন অপবাদ দেয়ার এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীটি বিদ্যালয়ের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায় এবং গুরুতর আহত হয়। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকসহ আরো দুইজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে শিক্ষার্থীর বাবা। মামলার পর পুলিশ আসামিদের ধরতে মাঠে নামে। এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচাতে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গত ৪ আগস্ট অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করলেও পরেরদিন একই স্থানে অভিযুক্ত শিক্ষককে বাঁচাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে মানববন্ধন করে বিদ্যালয়টি। আত্মহত্যার চেষ্টা চালানো শিক্ষার্থীর পক্ষে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবস্থান না নিয়ে উল্টো নিপীড়কের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাঙামাটির সচেতন মানুষ। এই ঘটনা তদন্তে ইতোমধ্যেই কমিটি করার কথা জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলার মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা উত্তম খীসা।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button
Close