ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

কাপ্তাই হ্রদ রক্ষার দাবিতে জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি

দূষন ও বেদখল থেকে বাঁচানোর তাগিদ নাগরিক সমাজের

নিজস্ব প্রতিবেদক
দূষণ ও বেদখলের হাত থেকে দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন লেক,কাপ্তাই হ্রদকে রক্ষার দাবিতে জেলা প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়েছে রাঙামাটির একদল নাগরিক।

বুধবার বিকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের হাতে স্মারকলিপির কপি তুলে দেয়া হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্মারকলিপিতে সাক্ষর করা নাগরিকদের পক্ষে রাঙামাটি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটি সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক এজিএস ওমর ফারুক,জেলা নদীরক্ষা কমিটির সদস্য ও রাঙামাটি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস জাহাঙ্গীর আলম মুন্না, জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারন সম্পাদক ও উন্নয়নকর্মী ললিত সি চাকমা, নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য সচিব জিসান বখতেয়ার,দৈনিক পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পাদক ও পরিবেশবাদি সংগঠন গ্লোবাল ভিলেজ’র নির্বাহী পরিচালক ফজলে এলাহী,বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশন এর উদ্যোক্তা পরিচালক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক লেখক ইয়াছিন রানা সোহেল,সংবাদকর্মী শংকর হোড় এবং জিয়াউল হক। স্মারকলিপিতে আরো সাক্ষর করেছেন সংবাদকর্মী হেফাজত উল বারি সবুজ,জেলা খেলাঘর আসর ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সাধারন সম্পাদক সৈকত রঞ্জন চৌধুরী,জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক প্রান্ত দেব নাথ এবং শিক্ষক,সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মী লিটন দেব।

স্মারকলিপিতে বলা হয়,‘আমরা গভীর বেদনার সাথে লক্ষ্য করছি যে, সাম্প্রতিক সময়ে রাঙামাটি শহরের চারদিকে ব্যাপকভাবে হ্রদের পাড় ও সংলগ্ন ভূমি বেদখলের মাধ্যমে পুরো জলাধারটিকে ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে। এতে জলাধারের আয়তন যেমন ছোট হয়ে আসছে,তেমনি এইসব অবৈধ স্থাপনার বর্জ্য হ্রদের পানিতে ফেলার কারণে পানিও দূষিত হয়ে খাবার ও ব্যবহারের অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক গবেষনায়ও কাপ্তাই হ্রদের পানির মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।’

স্মারকলিপিতে আরো বলা হয়, ‘ পুরো শহরজুুুরে কম বেশি বিস্তৃত পরিসরে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে, হ্রদের উপর। এর মধ্যে ব্যক্তি মালিকানাধীন বসতবাড়ি ও বাণিজ্যিক ভবন যেমন আছে,তেমনি আছে সরকারি কিছু প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতায় নির্মিত ও নির্মিতব্য ভবন। যা সত্যিই বেদনাদায়ক। অবিলম্বে কাপ্তাই হ্রদ দখলকারিদের তালিকা প্রস্তুত করে এইসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ,উচ্ছেদ,দূষণ ও বেদখল বিরোধী শক্তিশালী মনিটরিং টীম গঠন করে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে কাপ্তাই হ্রদকে বাঁচান। এর অন্যথা হলে,ভবিষ্যতে এই হ্রদই শুধু নয়, হ্রদের উপর নির্ভরশীল পুরো জনগোষ্ঠিই গভীর সংকটে নিপতিত হবে,যা আমাদের সবার জন্যই হবে ভীষণ বেদনার।’

এসময় উপস্থিত নাগরিকরা জেলা প্রশাসকের কাছে এই সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত তুলে ধরেন। জেলা প্রশাসক সবার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং বলেন যে, ‘আমার খুব ভালো লাগছে যে, রাঙামাটির মানুষ নিজেরাই কাপ্তাই হ্রদের দু:খ,সংকট এবং প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন। এই হ্রদ রক্ষায় মূল দায়িত্ব পালন করতে হবে স্থানীয়দেরই। আমরা চাকরির প্রয়োজনে আসি, আবার চলে যাই। এই হ্রদ আপনাদের সম্পদ। আপনাদের জীবন ও জীবিকার সাথেই জড়িয়ে আছে হ্রদ। সুতরাং রাঙামাটিবাসির সচেতনতাই হ্রদটিকে বাঁচাতে পারবে।’

 

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button