রাঙামাটিলিড

কাপ্তাই হ্রদ ‘বেদখলের মহোৎসব’ চলছে

ফি বছর শুকনো মৌসুমেই বাড়ে দখল প্রবণতা

সৈকত বাবু
শুকনো মৌসুমে পানি কমার সাথে সাথে কাপ্তাই হ্রদ দখলের মহোৎসবে নেমেছে হ্রদ খেকোরা। পানি কমে যাবার কারণে হ্রদে ভেসে উঠা জলেভাসা জমি যে যার মত দখল করার চেষ্টা করছে দখলদাররা। এসব জমি দখল করতে কেউ কেউ বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা দিয়েছে আবার অনেকে সিমেন্টের পিলার দিয়ে বাউন্ডারি দিচ্ছে। এমনকি অনেকে হ্রদের মাঝখানে ওয়াল তুলে দিচ্ছে ফলে হ্রদের পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।

রাঙামাটি শহরে বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেদভেদী, কলেজ গেইট, বনরূপার মূল সড়কের পিছনে, ফরেস্ট কলোনী, হাসপাতাল এলাকা, পাবলিক হেলথ এলাকা, চম্পকনগর এলাকা, রিজার্ভ বাজার, তবলছড়ি, মাঝের বস্তি, পর্যটন এলাকা, ওয়াপদা কলোনী, আসামবস্তি, স্বর্নটিলাসহ প্রায় সব জায়গায় রীতিমতো হ্রদ দখলের মহোৎসব চলছে। যে যার মত পারছে দখল করে নিচ্ছে। অনেক এলাকায় দেখা যায়, হ্রদের দুই পার থেকে দুইদিকের দখলদার দখল করতে করতে দুজনের সীমানা গিয়ে শেষ হয়েছে করেছে হ্রদের মাঝখানে!

এমনকি দখল নিয়ে অনেক সময় দেখা যায় বিভিন্নজনের সঙ্গে বিবাদেও জড়াতে। কিছু দখলদার আবার সবকিছু ছাড়িয়ে যেন অপেক্ষায় থাকে পানি কমার জন্য। শুকনো মৌসুমে এমন জায়গায় বাড়ি তোলার কাজ চালাচ্ছে যা বর্ষা মৌসুমে বা স্বাভাবিক সময়ে ভবনটি হ্রদের মাঝেই হবে।

দিনদিন কাপ্তাই হ্রদ দখলের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে পৌর নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সদস্য সচিব এম জিসান বখতেয়ার বলেন, এভাবে আসলে একটি শহর চলতে পারে না। যেভাবে হ্রদ দখল হচ্ছে তা দেখে মনে হয় এ শহরের কোন অভিভাবক নেই। অনেককে দেখা যায় নিজের জায়গা ফেলে পানির মধ্য থেকে ঘর তুলে। যা খুবই দুঃখজনক। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ছাড়া বেদখল মুক্ত করা সম্ভব নয়।

রাঙামাটি দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির (দুপ্রক) সাধারণ সম্পাদক ললিত চন্দ্র চাকমা বলেন, মূলতঃ শহর এলাকায় হাটবাজার বসিয়ে, অগ্রসর জনগোষ্ঠীর মানুষজন বসবাস শুরু করে হ্রদ দখল হচ্ছে। দুর্গম এলাকাতে কিন্তু হ্রদ দখল হয় না। রাঙামাটি শহরে অগ্রসর জনগোষ্ঠীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, জায়গার দামও বেশি তাই হ্রদের পার দখলও বেশি হয় এখানে। রাঙামাটি শহরে সবচেয়ে বেশি বিবেকবান মানুষ থাকে, সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষ থাকে, সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষ থাকে, সবচেয়ে রাজনৈতিক প্রজ্ঞাবান লোক থাকে সেখানে এমন দখল খুবই দুঃখজনক। আবার অন্যদিকে হ্রদটা দেখভাল করার দায়িত্বটা কার সেটাও মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়।

রাঙামাটি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পুলক দে বলেন, আমরা আসলে অনেক বাধা দিয়েও কিছু করতে পারি না। নানা অজুহাতে এই শুকনো মৌসুমে হ্রদ দখলের চেষ্টা করে দখলদাররা।

এ প্রসঙ্গে জেলা নদী রক্ষা ও কাপ্তাই হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি এবং রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমি আসলে এসব জানতাম না ফেসবুকে একটি বিষয় জানার পর আমি সাথে সাথে সেটির কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। এখন দখলের বিষয়ে জানলাম। হ্রদ দখলের বিরুদ্ধে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নিব।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button