নীড় পাতা / ব্রেকিং / কাপ্তাই হ্রদে বিলুপ্তির পথে নানান প্রজাতির মাছ
parbatyachattagram

কাপ্তাই হ্রদে বিলুপ্তির পথে নানান প্রজাতির মাছ

কাপ্তাই হ্রদে নানান প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে। বিশেষ করে ছোট মাছ বেড়ে যাওয়ায় কার্প জাতীয় মাছের উৎপাদন কমেছে। চিতল মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ এখন এই হ্রদে নেই বললেই চলে। এসব বিলুপ্ত প্রজাতির মাছ আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। এই হ্রদ বিএফডিসির অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যই কেবল নয়, এটি একটি মাছের ভারসাম্য রক্ষার জলাধারও। শুক্রবার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু এমপি এসব কথা বলেন।

সকালে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশন রাঙামাটি কার্যালয়ে এ উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা শেষে হ্রদে কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করেন অতিথিরা। অনুষ্ঠানে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদ’র সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আশরাফ আলী খান খসরু এমপি। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) দিলদার আহমদ, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহা-পরিচালক ইয়াহিয়া মাহামুদ প্রমুখ।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, কাপ্তাই হ্রদে চাপিলা ও কাঁচকি মাছ বেড়ে গেছে। যে কোনো জলাধারে চাপিলা ও কাঁচকি মাছ বেড়ে গেলে সেখানে বড় মাছ কমে যাবে। আমরা বিশেষ করে বদ্ধ জলাশয়ে মাছ চাষ করলে সেখানে গুড়া (ছোট) মাছের সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে জলাধার শুকিয়ে ফেলি। কিন্তু যা এই কাপ্তাই হ্রদে সম্ভব হবে না। চাপিলা ও কাঁচকিসহ ছোট প্রজাতির মাছ যাতে কমে যায়, সে ব্যাপারে আমাদের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এখানে আগে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো, কিন্তু এখন অনেক মাছ বিলুপ্তির পথে।

তিনি আরও বলেন, কাপ্তাই হ্রদ একটি বিশাল জলাধার, এটি বাংলাদেশের সম্পদ। এই হ্রদে মাছ উৎপন্ন হয় এবং এর পানি বিভিন্ন উপকারে আসে। তাই এই কাপ্তাই হ্রদকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এই কাপ্তাই হ্রদ যদি ধ্বংস হয়ে যায়, পানির প্রবাহ যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে আমাদের মাটির নিচের পানির স্তর আরও নিচে নেমে যাবে এবং ওই পানিতে আয়রণ, আর্সেনিকের উপস্থিতিতে আমাদের ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে যাবে। এখানে এসে আমি জানতে পেরেছি, কাপ্তাই হ্রদের ওপর অবৈধ ভাবে আবাসিক বসতি গড়ে উঠছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানকে আমি অনুরোধ করবো, এই হ্রদের ওপর কোনো আবাসিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যাবে না। যে কোনো মূল্যে আমাদের হ্রদকে সংরক্ষণ করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, স্থানীয়রা জেলেরা এখানে আরও একটি ল্যান্ডিং স্টেশন করার জন্য আমার কাছে দাবি জানিয়েছেন। আমি যতটুকু জানি এই ল্যান্ডিং স্টেশনের দাবি অনেক পুরনো। আমাদের কথা হলো এই কাপ্তাই হ্রদ যেমনি সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে তেমনি এর সাথে সম্পৃক্তদেরও উপকারে আসতে হবে। এ ব্যাপারে শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) চেয়ারম্যান দিলদার হোসেন বলেন, কাপ্তাই হ্রদের মৎসজীবী মানুষের জীবন মানের উন্নতিসহ সার্বিকভাবে কীভাবে এই হ্রদের উন্নয়ন করা যায় আমরা সেভাবেই চিন্তা করছি। আগে আমরা কোটি টাকার পোনা ক্রয় করে এই হ্রদে ছাড়তাম। কিন্তু এবছর আমরা এই প্রথম নিজস্ব উৎপাদিত পোনা হ্রদে ছাড়লাম। এই জন্যই লংগদুর মারিশ্যার চরে আমরা বড় একটি হ্যাচারি স্থাপন করেছি। ভবিষ্যতে এই হ্যাচারি পোনা হ্রদে ছাড়ার পরও প্রাইভেট ভাবে যারা নিতে চান তারাও নিতে পারবেন। আপনাদের দাবির প্রেক্ষিতে হয়ত ডিসেম্বরেই এখানে একটি নতুন পল্টুন বসানো হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহা-পরিচালক ইয়াহিয়া মাহামুদ বলেন, বাংলাদেশের বন্ধ জলাশয়ের ২০ শতাংশ বা ৬৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জলাশয় আছে এই কাপ্তাই হ্রদে। কিন্তু উৎপাদনের দিক দিয়ে কাপ্তাই হ্রদ অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। যেমন বন্ধ জলাশয় পুকুরে এখন মাছের উৎপাদন হেক্টর প্রতি ৪ হাজার সাতশ’ কেজি আর কাপ্তাই হেক্টর প্রতি উৎপাদন প্রায় তিনশ’ কেজি। তাই এই হ্রদের মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। আরেকটি আশঙ্কার বিষয় হলো ষাটের দশকে কাপ্তাই হ্রদে ৮০-৯০ শতাংশ ছিলো কার্প জাতীয় মাছ। এখন ৪০ বছর পর কার্প জাতীয় মাছ হলো ৫ শতাংশ, অন্যদিকে গুড়া মাছের (ছোট মাছ) সংখ্যা হয়েছে ৮০ শতাংশ।

বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা কাপ্তাই হ্রদে অতীতের মাছ আহরণ ও আয়ের রেকর্ড ভেঙে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছি। প্রতি বছর মাছ আহরণ বন্ধকালীন সময়ে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব ও ভূ-প্রাকৃতিক বিশিষ্টের কারণে এই হ্রদে শতভাগ মাছ আহরণ কোনো ভাবেই বন্ধ করা যায় না। তিনি জানান, কাপ্তাই হ্রদে বিগত বছরের চেয়ে এবছর রাজস্ব আয় আরও বেড়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে আমাদের এই হ্রদ থেকে ১০ হাজার ১৫২ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়েছে যা ১৩ কোটি ৩৫ লক্ষ টাকা। ২০১৮-২০১৯ বছরে তা ১০ হাজার ২৪৫ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে যা ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা।

Micro Web Technology

আরো দেখুন

রাঙামাটিতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ শুরু

‘মৎস্য সেক্টরে সমৃদ্ধি, সুনীল অর্থনীতির অগ্রগতি ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নানান কর্মসূচীর মাধ্যমে জাতীয় …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

fifteen + 9 =