ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

‘কাপ্তাই হ্রদে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে’

রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, রূপের রানী খ্যাত পর্যটন নগরী রাঙামাটির ঐতিহ্য রক্ষার্থে সবাইকে আরো আন্তরিক হতে হবে। হ্রদ বেষ্টিত এলাকায় দিন দিন যেসব অবৈধ বসতি গড়ে উঠছে এবং হ্রদে বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে পারিপাশির্^ক পরিবেশের যে অবনতি হচ্ছে তা বন্ধ করতে হবে। এ জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি প্রশাসন ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, পৌরসভা কর্তৃক বনরূপা এলাকায় যেসব কাজ চলছে তা আগামী ঈদের আগে সম্পন্ন হবে।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা উন্নয়ন কমিটির মাসিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমার সভাপতিত্বে ও পরিষদের জনসংযোগ কর্মকর্তা অরুনেন্দু ত্রিপুরার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটি পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহাঙ্গীর আলমসহ পরিষদের হস্তান্তরিত বিভাগের কর্মকর্তা, জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক কমান্ডার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, আগামী ০১মে থেকে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণ ও বিপণন ৩ মাস পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ জেলার বসবাসরত নৃগোষ্ঠীদের সামাজিক উৎসব বিজু ও পরবর্তীতে পহেলা বৈশাখ অনুষ্ঠান সুন্দর ও সুষ্ঠ পরিবেশে সম্পন্ন করতে পেরেছি পরিষদ, জেলা প্রশাসন, পৌর প্রশাসন ও এ এলাকার জনগণের সহযোগিতায়। তিনি বলেন, বাঘাইছড়িতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে যে দুর্ঘটনা হয়েছিল এবং বিলাইছড়ি আওয়ামীলীগ নেতা হত্যার ঘটনায় পুলিশ বাঘাইছড়ি এবং বিলাইছড়ি থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছে এবং এখনো পুলিশ তৎপর রয়েছে। সন্ত্রাস ও মাদকের বিষয়ে যে কোন তথ্য থাকলে তা পুলিশকে অবহিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

সভায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী সুমন চাকমা বলেন, জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে বরকল বিলছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় ৯০ভাগ, রাগিব রাবেতা কলেজ ৯৮ ভাগ, বাঘাইছড়ির উলুছড়ি মৌজা উচ্চ বিদ্যালয় ৯৮ভাগ, শিজকমুখ উচ্চ বিদ্যালয় ৯৮ভাগ, লংগদুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৬০ভাগ, সদর উপজেলার বড়মহাপুরম উচ্চ বিদ্যালয় ৬০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার কাজ চলমান রয়েছে ।

পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহকারী প্রকৌশলী মোঃ খোরশেদ আলম জানান, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী কোড নং ১১০০ অনুযায়ী ৯১টি স্কিম চলমান রয়েছে এবং নতুন স্কিম ১৭১টি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি স্কিম সম্পন্ন হয়েছে যার বাস্তব অগ্রগতি ৭০ভাগ। অন্যদিকে বোর্ডেও উন্নয়ন সহায়তা প্রকল্পের মধ্যে ৪০টি প্রকল্প চলমান এবং ১৩টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সমাপ্ত লক্ষ্যমাত্রা ১১টি যার বাস্তব অগ্রগতি ৬৫ভাগ।

ইসলামী ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মোঃ গোলাম উদ্দীন জানান, জেলার ১০টি উপজেলায় ১১টি মডেল মসজিদ নির্মাণে কাজ চলছে। পাশাপাশি মসজিদ ভিত্তিক লাইব্রেরীর কর্মচারীদের জন্য সাইকেল প্রদান করা হয়েছে। যা শীঘ্রই বিতরণ করা হবে। তিনি বলেন, জনগণের মাঝে বিতরণের জন্য রোজা ও ইফতারের সময়সূচি প্রিন্টের কাজ চলছে। প্রিন্টিংয়ের কাজ শেষ হলে বিতরণ করা হবে।

এছাড়া উত্তর, দক্ষিণ বন বিভাগ, ঝুম নিয়ন্ত্রণ, ইউএসএফ ও পাল্পউড বাগান বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তাগণ জানান, বর্তমানে স্থানীয় গাছের চারাগুলো রোপন ও চারা কলম করা হচ্ছে। আগামী বর্ষা মৌসুমে চারাগুলো প্রদান করা হবে।

সভায় উপস্থিত অন্যান্য বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ স্ব স্ব বিভাগের কার্যক্রম উপস্থাপন করেন।

জেলার সার্বিক উন্নয়নে পরিষদের হস্তান্তরিতসহ সকল প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা। তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসেবামূলক মনোভাব নিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলো আমাদের বাস্তবায়ন করতে হবে। এ জন্য উন্নয়ন কমিটির সকলকে প্রতিটি সভায় উপস্থিত থেকে সমস্যা-সম্ভাবনামূলক পরামর্শ প্রদানের আহবান জানান তিনি।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button