ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

কাপ্তাই হ্রদে নামছে সিভাসু গবেষনা তরী

দক্ষিন পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদের প্রাণ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে গবেষনার জন্য চট্টগ্রামে ভেটেনারি ও এনিমেল সায়েন্স বিশ্বিবিদ্যালয়ের উদ্যোগে নির্মিত ‘গবেষনা তরী’ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আগামী ২৮ নভেম্বর সকাল সাড়ে নয়টায় গণভবন থেকে সরাসরি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই তরীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ।

এই জাহাজের মাধ্যমে লেকের মাছ কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান ও সংরক্ষণে নানা পরিকল্পনা, উদ্যোগ এবং সিভাসুর এমএস ও পিএইচডি লেভেলের শিক্ষার্থীরা সারা বছর গবেষণা কার্যক্রম চালাতে পারবেন।

এই ভ্রাম্যমাণ জাহাজ নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে কাপ্তাই লেক ও এর জীববৈচিত্র্যকে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিভাসু) উদ্যোগে এ তরী নির্মাণ করা হয়। এই জাহাজের মাধ্যমে লেকের মাছ কমে যাওয়ার কারণ অনুসন্ধান ও সংরক্ষণে নানা পরিকল্পনা, উদ্যোগ এবং সিভাসুর এমএস ও পিএইচডি লেভেলের শিক্ষার্থীরা সারা বছর গবেষণা কার্যক্রম চালাতে পারবেন। চলতি মাসের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর তরীটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করার কথা। সিভাসুর মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম নুরুল আবছার খান বলেন, ‘আমাদের মৌলিক কাজ দুটি- শিক্ষা ও গবেষণা। এই তরীতে বসে সিভাসুসহ সারা দেশের ফিশারিজ বিভাগের এমএস ও পিএইচডি লেভেলের শিক্ষার্থীরা ইন্টার্নি এবং গবেষণা করতে পারবেন। এ ছাড়া লেক ব্যবস্থাপনা, লেকের সার্বিক পরিস্থিতির উন্নয়ন, কোন উদ্যোগ নিলে লেকের মাছ বৃদ্ধি পাবে, লেক নিয়ে জরিপ পরিচালনা, মাছ কমার কারণ, প্রতিকারসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করা হবে। পূর্ণ জোয়ারে তরীটি ৬৮ হাজার হেক্টর আয়তনের লেকে চলাচল করবে।’

সিভাসুর উপপরিচালক (জনসংযোগ) খলিলুর রহমান বলেন, ‘মালয়েশিয়া তাদের কৃত্রিম হ্রদ ‘লেক কেনিয়র’ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিচালনা করে। পরে তারা ওই লেকে বিপন্ন প্রজাতির মাছের অভয়ারণ্য গড়ে তোলে। তাদের সেই হ্রদের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে কাপ্তাই লেকে নামানো হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ সিভাসু গবেষণা তরী। এ তরী ১৫ ধরনের কাজ করবে। বর্তমানে তরীটি ব্যবস্থাপনায় সাতজন কর্মরত আছেন।’

সিভাসুর মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে নারায়ণগঞ্জের একটি জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান রাঙামাটির পুরনো হেলিপ্যাড এলাকায় এ জাহাজ তৈরির কাজ শুরু করে। চলতি বছর জানুয়ারিতে পরীক্ষামূলকভাবে এ জাহাজ লেকে নামানো হয়। ৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত জাহাজের অভ্যন্তরে ল্যাব তৈরি করা হয়। এ তরীতে প্রায় ১৫টি বিষয় নিয়ে গবেষণার কাজ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে লেকের বিভিন্ন প্রজাতির মাছের হার বের করা, মাছের অভয়াশ্রম সৃষ্টির জন্য স্থান নির্বাচন, সময়ের সঙ্গে লেকের বিভিন্ন ভৌত রাসায়ানিক পরিবর্তন বিশ্লেষণ করা, বিলুপ্তপ্রায় মৎস্য প্রজাতি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা, লেকে চাষযোগ্য সম্ভাব্য প্রজাতি বের করা, বিভিন্ন মাছের প্রজনন ক্ষেত্রের বাস্তব অবস্থা নিরূপণ, প্রজনন ক্ষেত্র নষ্ট হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ ও পদক্ষেপ গ্রহণ, স্থানীয় জনশক্তিকে খাঁচায় ও পেন কালচারের মাধ্যমে মাছ চাষে উদ্যোগী করা, ঘোনায় মাছ চাষের সুবিধা-অসুবিধাগুলো যাচাই করা, লেকের মাছের প্রাকৃতিক খাদ্যের বিস্তৃতির অবস্থা নিরূপণ, প্রাকৃতিক খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে করণীয় নির্ধারণ, লেক ভরাট হওয়ার কারণ উদ্্ঘাটন, বিশ্লেষণ ও নিরূপণে উদ্যোগ এবং লেকের দূষণ দূরীকরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button