নীড় পাতা / ব্রেকিং / কাপ্তাই হ্রদের স্পীডবোট ভাড়ায় নৈরাজ্য !
parbatyachattagram

বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ যাত্রীদের,মালিকদের অস্বীকার !

কাপ্তাই হ্রদের স্পীডবোট ভাড়ায় নৈরাজ্য !

রাঙামাটি জেলা শহরের সাথে উপজেলাগুলোর নৌ যোগাযোগে নতুন দিগন্ত উম্মোচিত করা স্পীডবোটগুলোর বিরুদ্ধে ঈদে ঘরমুখো মানুষের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক অভিযোগ ও লেখালেখি করেছে বিশেষত লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার যাত্রীরা। অনেকেই অভিযোগ করেছেন খোদ জেলা প্রশাসককেও। তবে স্পীডবোট চালক ও মালিকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন,দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার জন্য ঢালাওভাবে সব স্পীডবোট মালিকদের দায়ি করা উচিত নয়। লঞ্চ মালিকদের একাধিপত্যের মধ্যেও স্পীডবোট সেবাকে স্বাগত জানানো স্থানীয়রা তাই এবার ক্ষুদ্ধ বিকল্প এই যানটির পরিচালনাকারিদের উপর। ঈদ উপলক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৫০০ টাকার নিয়মিত ভাড়াকে ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হলেও অভিযোগ উঠেছে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের। যদিও বোট চালক ও মালিকরা বলছেন, এই ১০০ টাকার বেশি ভাড়া নেননি তারা।

রাঙামাটি-লংগদু নিয়মিত যাতায়াত করেন,এমন একজন চাকুরিজীবি অভিযোগ করেছেন, রাঙামাটি-লংগদু স্পীডবোটের সাধারন ভাড়া ৫০০ টাকা। সাধারনত যাত্রী কম থাকলে এবং কোন যাত্রীর জরুরী কোন কাজ থাকলে আলোচনা সাপেক্ষে এই ভাড়া কমবেশি হয়। কিন্তু দ্বিগুণ বা তিনগুণ কখনই হয় না। কিন্তু ঈদের সময় জনপ্রতি ১০০০/১২০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেয়া হয়েছে !’

তবে অভিযোগ মানতে নারাজ স্পীডবোট মালিকরা। তারা কেউ বলছেন, ‘ সাধারনত স্পীডবোটগুলোতে ঈদের সময় যত যাত্রী হয়েছে সবাই সদর থেকে উপজেলামুখিই ছিলো। কিন্তু উপজেলা থেকে শহরমুখি যাত্রী ছিলো অনেক কম। ফলে উপজেলামুখি যাত্রী পরিবহন নির্বিঘœ করতে স্পীডবোটগুলোকে শহর থেকে যাত্রী পরিবহনে কোন সমস্যা না হলেও উপজেলা থেকে ফেরার সময় খালিই ফিরতে হয়েছে স্পীডবোটগুলোকে। ফলে কেউ কেউ হয়তো বাড়তি ভাড়া নিতে পারে। তবে সেটা আমাদের নির্ধারিত ঘাটে নয়। আমাদের ঘাটে নির্ধারিত ভাড়াই নেয়া হয়েছে।’

৩৫৬ বর্গমাইলের কাপ্তাই হ্রদের রাঙামাটি অংশে প্রায় শতাধিক স্পীডবোট চলাচল করে,যার মালিক অন্তত ৬০ জন। এইসব মালিকদের এখনো কোন সমিতি বা সংস্থা গড়ে উঠেনি। তবে সমিতি করার চেষ্টা হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাঙামাটির ১০ টি উপজেলার মধ্যে ৬ টির সাথেই যোগাযোগের মূল মাধ্যম নৌ যোগাযোগ। কিন্তু গত কয়েকমাসের খরায় কাপ্তাই হ্রদের পানি ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় এখন এসব স্পীডবোট এবং ছোট্ট ছোট্ট ইঞ্জিনচালিত বোটই যাতায়াতের প্রধান ভরসা উপজেলাগুলোর মানুষের। সবচে দুরবর্তী দুই উপজেলা লংগদু ও বাঘাইছড়ি। যাত্রীবাহি লঞ্চে লংগদুতে সাধারনত সময়লাগে ৪ ঘন্টা এবং ভাড়া ১৫০ টাকা,অন্যদিকে স্পীডবোটে ভাড়া ৫০০ টাকা,সময় লাগে ১ ঘন্টা। স্পীডবোটে যাত্রীধারণ ক্ষমতা আকারভেদে ৬ থেকে ১২ জন। আর সবচে দূরের উপজেলা বাঘাইছড়ির ভাড়া ও দুরত্ব লংগদুর ঠিক দ্বিগুণ।

কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারি বেশ কয়েকটি স্পীডবোটের মালিক আব্দুল কুদ্দুছ। তিনি জানিয়েছেন, ‘জেলা প্রশাসন যে ভাড়ার হার নির্ধারন করে দিয়েছে আমাদের স্পীডবোট ঘাট থেকে চলাচলকারি একটি স্পীডবোট থেকেও এর বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়নি। এখন কোন স্পীডবোট যদি বাইরে থেকে যায় এবং বাড়তি ভাড়া নেয়,তার দায়তো আমরা নিতে পারবনা। যেহেতু এখনো কোন সমিতি বা সংগঠন নেই এবং সবগুলো স্পীডবোট একই ছাতার নিচে আসেনি,সেহেতু কিছুটা অব্যবস্থাপনা হয়তো এখনো আছে। তবে সংগঠন হলে সব ঠিক হয়ে যাবে। তবুও যাত্রীদের যদি কোন অসুবিধা হয় তবে এর জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে আমরা দু:খ প্রকাশ করছি এবং ভবিষ্যতে বিষয়টি আমরা নজরে রাখবো।’

স্পীডবোট চালক জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে আমি জানিনা। তবে জেলা প্রশাসনের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে ৫০০ টাকার ভাড়া ঈদ উপলক্ষ্যে ৬০০ টাকা নেয়া হচ্ছে এবং সেটা রবিবার পর্যন্তই। সোমবার থেকে ভাড়া আবার ৫০০ টাকাই হবে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ জানিয়েছেন, ‘ আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথেই এনডিসিকে পাঠিয়েছি এবং সতর্ক করে দিয়েছি বাড়তি ভাড়া নেয়ার বিষয়ে। পরে আর এমন হওয়ার কথা নয়। তবুও আমি ওদের ডাকব,ওদের সাথে কথা বলব। মানুষকে বিপদে ফেলে বাড়তি ভাড়া আদায় কখনই ভালো কাজ হতে পারে না।’

Micro Web Technology

আরো দেখুন

বান্দরবানে অপহৃত ৬ পাহাড়ি মুক্ত

অপহরণের ২৪ ঘন্টা পর মুক্তি পেয়েছে বান্দরবানের রুমা থেকে অপহৃত ৬ পাহাড়ী। সোমবার বিকাল ৪টার …

Leave a Reply