ব্রেকিংরাঙামাটিলিড

কাপ্তাইয়ে পাহাড়ধসে ২ পথচারী নিহত

রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলায় ভারী বর্ষণের ফলে আবারও পাহাড়ধসে দুই পথচারী নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল এগারোটায় উপজেলার ২নং রাইখালী ইউনিয়নের কারিগরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- অটল বড়ুয়া (৫২) ও সুইহ্লাউ মারমা (৪৫)। এদের মধ্যে নিহত অটল বড়ুয়ার বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার কেওটিয়া গ্রামে এবং সুইহ্লাউ মারমা কারিগর পাড়ার বাসিন্দা।

২নং রাইখালী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এনামুল হক জানিয়েছেন, ‘শনিবার সকালে কারিগর পাড়ায় নিজের ফলের বাগান দেখতে চট্টগ্রামের রাউজানে থেকে কারিপাড়ায় আসেন অটল বড়ুয়া। এসময় তিনি বাগান দেখার জন্য তার বাগানের কর্মচারী সুইহ্লাউ মারমাকে নিয়ে বাগান পরিদর্শনে যান। বাগানের দূরত্ব কারিপাড়া থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। বাগান থেকে ফেরার পথে সকাল এগোরোটায় সড়কের পাশের একটি পাহাড়ধসে পড়ে তাদের ওপর। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান বাগান মালিক অটল ও তার কর্মচারী।’

ইউপি চেয়ারম্যান আরও জানান, ‘এসময় তাদের পেছন দিক থেকে আসা একটি সিএনজি অটোরিকশাও পাহাড়ধসের ঘটনায় আক্রান্ত হয়। অটোরিকশায় চালকসহ আরও চারজন যাত্রী ছিলেন। স্থানীয়রা ওই সময় তাদের উদ্ধার করেন। তবে কেউ তেমন বেশি হতাহত হয়নি। আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই তারা স্থান ত্যাগ করায় অটোরিকশা চালক রুবেল ছাড়া অন্যদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।’

এদিকে খবর পেয়ে ঢংছড়ি বিজিবি ক্যাম্প হতে বিজিবির দল, কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ ও স্থানীয়দের সহযোগীতায় নিহত দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া রাঙামাটি-বান্দরবান সড়কের রাইখালীর কারিগর পাড়া, সন্দ্বীপ পাড়া ও বড়খোলা পাড়ায় পাহাড়ধসের ফলে বন্ধ রয়েছে বান্দরবানের সাথে রাঙামাটি-কাপ্তাইয়ের সড়ক যোগাযোগ। সকালে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কাপ্তাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মফিজুল হক, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশ্রাফ আহমেদ রাসেল, চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশ্রাফ উদ্দিন।

চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উদ্দিন জানিয়েছেন, ‘রাইখালীর কারিগর পাড়ায় পাহাড়ধসে দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই পরিবারের কাছে লাশ দুইটি হস্তান্তর করা হয়েছে।’

রাইখালী ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এনামুল হক আরও জানান, বিকেলে ইউএনও স্যার আমাকে জানিয়েছেন, দুই জন নিহতের ঘটনায় বাগান কর্মচারী সুইহ্লাউ মারমার পরিবারকে জেলা প্রশাসন ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। রোববার নিহতের পরিবারের কাছে এ অর্থ তুলে দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশ্রাফ আহমেদ রাসেলের মুঠোফোনে একাধিবার চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১২০ জনের প্রানহানি ঘটে। এর পরের বছর ২০১৮ সালের ১২ জুন রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড়ধসে ১১ জনের মৃত্যু হয়। সবশের্ষ গত সোমবার (৮ জুলাই) দুপুরে জেলার কাপ্তাইয়ের কেপিএম কলাবাগান এলাকার মালি কলোনী পাহাড়ধসে সূর্য মল্লিক (৫) নামে এক শিশু ও তাহমিনা বেগম নামের এক নারী মারা গেছে।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button