রাঙামাটি

কাউখালি  স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যুৎ স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে আরো তিনদিন

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটির কাউখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে রোগীদের অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ওষুধের টেম্পারেচার ঠিক রাখতে টানা হয়েছে অস্থায়ী বিদ্যুৎ লাইন। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হতে আরো ৩-৪দিন সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি সিভিল সার্জন।
ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আরেফিন আজিজ বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। চট্টগ্রাম থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের অভিজ্ঞ প্রকৌশলী এসেছেন। তারা সেখানে বিদ্যুৎ লাইন স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।  তাদের সাথে কথা বলে তদন্ত কমিটি বেশকিছু অসঙ্গতি দেখতে পেয়েছে। যা তদন্ত রিপোর্টে তুলে ধরা হবে।  বিদ্যুৎ লাইনে ক্রটি থাকায় এমনটা হয়েছে। বিদ্যুৎ লাইনের বেগারগুলো  তার ও বেগারের পাওয়ারের তারতম্যের কারণে সঠিক সময়ে পরেনি। বিদ্যুৎ বিভাগের প্রকৌশলীরা কোন কোন স্থানে ত্রুটিগুলো আছে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ইতিমধ্যে পুড়ে যাওয়া তারগুলো বের করে নতুন তার সংস্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে।  আর বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষজ্ঞ টিমের পরামর্শ অনুসারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নতুন করে বিদ্যুৎ লাইন সংস্থাপন কাজ করে দিবে বলে আমাদের আস্বস্ত করেছেন।  পুরো কাজ শেষ করতে আরো ৩-৪দিন সময় লাগতে পারে। এছাড়াও চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক রাখতে বাইরে থেকে বিদ্যুৎ লাইনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে পাকা চলছে না, কিন্তু লাইট জ্বালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
গত ২৭ ও ২৮ অক্টোবর দুই দফায় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে অভ্যন্তরীণ লাইন পুড়ে গিয়ে এ অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পাঁচ দিনেও মেরামত করে বিদ্যুৎ ফেরাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
২৭ অক্টোবর দুপুরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনের নিচ তলার নিয়ন্ত্রণ বক্সে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন ধরে যায়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এর মধ্যেই অভ্যন্তরীণ লাইন পুড়ে যায়। পরে বিদ্যুৎ বিভাগের সহযোগিতায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোক গিয়ে একাংশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সচল করে।
গত ২৮ অক্টোবর আবার শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে যায়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন কর্মচারীরা। এরপর থেকে পুরো স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিদ্যুৎহীন হয়ে পরে। এতে গরমে ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীসহ দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের ওষুধ নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দেওয়ায় বিকল্প বিদ্যুৎ লাইনের ব্যবস্থা করে ওষুধের টেম্পারেচার ঠিক রাখা ও শুধু কয়েকটি লাইটের ব্যবস্থা করে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।  স্থানীয়দের অভিযোগ, গত বছর ডিসেম্বরে নির্মাণ শেষ হওয়া নতুন ভবনে এই বিদ্যুৎ বিভ্রাট   নিম্নমানের কাজের জন্য দায়ী।
এ ঘটনায় রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চার সদ্যসের ও উপজেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। দুই কমিটি মঙ্গলবারের মধ্যে প্রতিবেদন জমা কথা থাকলেও,  মঙ্গলবার দুপুর তিনটা পর্যন্ত কোন কমিটিই রিপোর্ট জমা দেইনি বলে জানা গেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সুইমিপ্রু রোয়াজা বলেন,  আমরা বিকল্প ব্যবস্থায় জরুরি সেবা প্রদান করে যাচ্ছি। বিশেষজ্ঞ টিম বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। কাউখালি উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করেছি, কেন এমনটা হলো তা জানার জন্য। তারা রিপোর্ট দিলে তা জানা যাবে। আর বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি টিম কাজ করছে। উল্লেখ্য: বর্তমানে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেটিতে ২০জনের মতো রোগী ভর্তি আছেন।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

seventeen − one =

Back to top button