ব্রেকিংরাঙামাটি

কলেজছাত্রীর ‘শ্লীলতাহানি’র বিচার চাওয়ায় ‘চক্রান্তে’ পড়লেন শিক্ষানবিশ আইনজীবী

রাঙামাটিতে

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে বিভিন্ন কর্মসূচিতে ভূমিকা রাখায় আসামিদের ‘চক্রান্তের’ ফাঁদে পড়েছেন এক ব্যক্তি এমন অভিযোগ উঠেছে। রাঙামাটি জেলা শহরের স্বর্ণটিলা এলাকার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ‘চক্রান্তের’ আদ্যোপান্ত তুলে ধরেছেন।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় জেলা শহরের বনরূপায় এক রেস্তেরাঁয় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ অভিযোগ করেন, ‘রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি মামলার পলাতক আসামি ও তাদের সহযোগীদের প্রত্যক্ষ প্ররোচণায় জনৈক ইব্রাহিম ও তার স্ত্রীর নিগার সুলতানা আমার ও পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আমার মানহানি করেছে। আমি আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রত্যাহার না করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করবো।’

জাহিদ আরও জানান, ‘সম্প্রতি রাঙামাটি সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণীর এক ছাত্রীকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শ্লীলতাহানির প্রতিবাদ জানিয়ে আমি বেশ কয়েকটি সভা-সমাবেশে অংশগ্রহন করেছি। মূলত: এ কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে মামলার আসামিরা আমার বিরুদ্ধে এই চক্রান্ত শুরু করেছে। আমার বিরুদ্ধে ভূমিদস্যু, মাদক ব্যবসায় জড়িত ও ভূয়া আইনজীবীর অভিযোগ আনা হয়েছে; এটি আমার জন্য অত্যন্ত মানহানি ও বিব্রতকর। সংঘবদ্ধ অপরাধীদের যোগসাজশে ইব্রাহিম ও নিগার দম্পতি এসব কথিত অভিযোগ আনলেও তাদের সঙ্গে আমার কোন সম্পর্ক কিংবা কোন ধরণের বিরোধ নেই।’

সংবাদ সম্মেলনে রাঙামাটি জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কল্যাণ মিত্র চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ জিনহা, বাঙালিভিত্তিক সংগঠনের নেতা কাজী জালোয়া, স্বর্ণটিলা এলাকার বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ, রাঙামাটি জেলা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলাল হোসেন সুমন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এসময় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কল্যাণ মিত্র চৌধুরী বলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদে সামিল হওয়ায়, নারীবিদ্বেষী ও কলেজছাত্রীকে শ্লীলতাহানির বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জের ধরে একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবীর বিরুদ্ধে অপরাধীরা সংঘবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্রে মেতেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, গত ১৯ সেপ্টেম্বর অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার হুমকিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘আশালীন’ ও ‘রুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্যের অভিযোগ এনে রাঙামাটির চার গণমাধ্যমকর্মীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন কলেজছাত্রী ও ইংরেজি দৈনিক অবজারভারের স্থানীয় প্রতিনিধি ইমতিয়াজ কামালের স্ত্রী। এ মামলায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি জাহেদা বেগম (৪০), এশিয়ান টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মো. আলমগীর মানিক (৩৮) এবং মানিকের দুই সহযোগী মাসুদ পারভেজ নির্জন (২৪) ও শহিদুল ইসলাম হৃদয়কে (২৫) আসামি করা হয়েছে।

মামলা পরবর্তী সময়ে আসামিদের গ্রেফতার এবং ন্যায়বিচার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। এসব কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানান মো. জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। এসব কারণে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র তার বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে বলে জাহিদের অভিযোগ।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button