করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

করোনা সচেতন দুর পাহাড়ের পাংখোয়া’রা

দূর পাহাড়ে বসবাস তাদের । পার্বত্য জনপদের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর চেয়ে তাদের জীবনধারণ বরাবরই ব্যতিক্রমি। ধর্মীয় পরিচয়ে এই জনগোষ্ঠী খ্রিস্টানধর্মাবলম্বী হওয়ায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, সংস্কৃতিও ভিন্ন। বলা হয়ে থাকে, পার্বত্য জনপদের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর চেয়ে পাংখোয়ারা অনেক অগ্রসর। পুরোনো সেই কথার মিল পাওয়া গেলো যেনো করোনা পরিস্থিতিতেও। দূর পাহাড়ের এই বাসিন্দারা করোনাভাইরাসের এই ক্রান্তিকাল মোকাবিলায় বেশ স্বাস্থ্য সচেতনতার পরিচয় দিচ্ছে। পাড়ার লোকেরা পাড়া থেকে বের হলেও পড়ছেন মাস্ক। জনসচেতনতায় পাড়ার ঘরে ঘরে পৌঁছানো হয়েছে জনসচেনতনতামূলক লিফলেট। পাড়ায় টাঙানো হয়েছে সচেতনতামূলক নানান পোস্টার। এছাড়া ঘাটে ঘাটে রয়েছে সাবান-পানির ব্যবস্থা।

নিজেদের ঐতিহ্যবাহি সাজে পাংখোয়া তরুণী

পাড়াবাসী জানিয়েছেন, নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তারা পাড়ার মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে এ সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে উপজেলার সদরের সঙ্গেও এই সময়টাতে করোনার ঝুঁকি এড়াতে পাড়াবাসীর আসা-যাওয়ার পরিমাণ কমেছে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই পাড়ার বাহিরে যাচ্ছেন না নিজেকে ও পাড়ার মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে।

বিলাইছড়ি পাংখোয়া পাড়ার বাসিন্দা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য চৌয়াল্লেই পাংখোয়া জানিয়েছেন, আমরা সবসময় নিজেদের সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করি। বিশ^ব্যাপী নভেল করোনাভাইরাস বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এই ভাইরাস থেকে রক্ষা পেতে পাড়ায় সর্বাত্মক জনসচেতনতা তৈরি করেছি। পাড়ার প্রতিটি ঘরে ঘরে জনসচেতনতা অভিযান চালানো হয়েছে। ইতিমধ্যে যারা পাড়ার বাহিরে যাচ্ছেন সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন।

স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য দীলিপ পাংখোয়া জানিয়েছেন, আমাদের জীবনধারণ পাহাড়ের অন্যান্য জনগোষ্ঠীর থেকেই কিছুটা হলেও ভিন্ন। আমরা পাংখোয়ারা সবসময় স্বাস্থ্য সচেতন থাকার চেষ্টা করি। বর্তমানে সারাবিশ্বে যে মহামারী রোগ ছড়িয়ে পড়ছে সেটি থেকে পাড়ার মানুষকে মুক্ত রাখতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। পাড়ার প্রতিটি মানুষের ঘরে গিয়ে আমরা সবাইকে সচেতন করেছি। পাড়াবাসীকে ঘনঘন হাত ধোয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। যারা কোনো কাজে পাড়ার বাহিরে যাচ্ছেন তারা সবাই মুখে মাস্ক পড়ে বের হচ্ছেন।

তিনি বলেন, আমাদের পুরো পাংখোয়া পাড়ায় মোট ১১৫টি পরিবার বসবাস করে আসছে। পাড়ার লোকসংখ্যা ৫৬৫ জনের মত। এরমধ্যে পাড়ার অনেক মানুষ দিনমজুর ও কৃষি কাজের ওপর নির্ভর। এখন করোনাভাইরাসের প্রভাবে অনেকেই অলস সময় কাটাচ্ছেন। সবাই ঘরে মজুদ রাখা খাদ্যশস্য ও টাকা পয়সা খরচ করছেন। তবে এভাবে না হয় আর আট-দশ দিন চলা যাবে। কিন্তু এর পরে পাড়ার নিন্ম আয়ের মানুষগুলো সংকটে ভুগবে। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো অতীব জরুরি।

১২০ নং (এ) তিনকুনিয়া মৌজাধীন পাংখোয়া পাড়ার কার্বারি (গ্রামপ্রধান) সঙ্কীপসাম পাংখোয়া জানিয়েছেন, পাড়ার প্রতিটি ঘাটে বালতি ভরে পানি ও সাবান রাখা হয়েছে। পাড়াবাসীকে ঘনঘন হাত ধোয়ার কথা বলা হয়েছে। করোনাভাইরাস থেকে পাড়াবাসীকে মুক্ত রাখতে পাড়ায় কাউকে এখন প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। পাড়ার মানুষও কেউ এখন পাড়ার বাহিরে কোথাও যাচ্ছেন না।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য ও পাংখোয়া পাড়া বাসিন্দা রেমলিয়ানা পাংখোয়া জানিয়েছেন, নভেল করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পাড়ার সর্বাত্মক সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হয়েছে। পাড়াবাসী প্রত্যেকটি ঘরে ঘরে গিয়ে জনসচেতনতা করেছেন। এলাকার বেশিরভাগ মানুষ দিনমজুর ও কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িতরা। এখন তারা কর্মক্ষম হয়ে আছেন। তাদের ইউনিয়নভিত্তিক সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া আমি সার্বক্ষণিক এলাকার খোঁজখবর রাখছি। প্রয়োজনে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকেও তাদের সহায়তা করা হবে।

প্রসঙ্গত, পার্বত্য জনপদের রাঙামাটি জেলার সাত উপজেলাতে পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর বসবাস। জেলার বিলাইছড়ি, জুরাছড়ি, বরকল, লংগদু, বাঘাইছড়ি, কাপ্তাই ও বিলাইছড়ির প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রায় ৬ শতাধিক পাংখোয়া পরিবার বাসবাস করেন। ৬ শতাধিক পরিবারের জনসংখ্যা প্রায় ৪ হাজারের মত। এর মধ্যে বেশির ভাগ বিলাইছড়ি উপজেলাতে বসবাস করেন। খ্রিস্টানধর্মাবলম্বলী হওয়ায় পার্বত্য জনপদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাস করলেও এই জনগোষ্ঠীর জীবনধারণ পাহাড়ের অন্যান্য নৃ-গোষ্ঠীর চেয়ে অনেকটাই ব্যতিক্রমী।

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button