করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

করোনা মোকাবেলায় মাঠে রাঙামাটির পৌর কাউন্সিলররা

সেই শুরু থেকেই যারা প্রতিটি ওয়ার্ডের অলি-গলি চষে বেড়াচ্ছেন তারা হলেন পৌরসভার কাউন্সিলররা। দিনের শুরু থেকে রাত অব্দি মানুষের সেবায় নিজেদের সঁপে দিয়েছেন। যেই ডাকছেন সেই দিকেইে দৌঁড়াচ্ছেন জনগণের সবচেয়ে কাছে থাকা এসব জনপ্রতিনিধিরা। করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় গত ২৫ মার্চ থেকে পৌরসভার গৃহীত কর্মসূচির বাইরেও নিজ এলাকা পরিষ্কার রাখার জন্য প্রাণপণ কাজ করে যাচ্ছেন এসব কাউন্সিলররা। মাঠ পর্যায়ে সরকারের সব ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ডাক পড়ে কাউন্সিলরদের।

তারাও হাসিমুখে সেসব কাজ করে যাচ্ছেন, সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ওএমএস কর্মসূচি, প্রধানমন্ত্রী উপহার বাস্তবায়নসহ পৌরসভার খাদ্যশস্য বিলি করতে দৌঁড়াচ্ছেন ওয়ার্ডের এক গলি থেকে অন্য গলিতে। তারপরও কেউ বাদ গেলে তারা নিজেরাই পকেট থেকে সাহায্য দিয়ে সাধারণ মানুষের এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার অনবরত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এমনকি করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে কেউ মৃত্যুবরণ করলে তাকে কবর দেয়ার জন্য কোনও কোনও জনপ্রতিনিধিকেও জেলা প্রশাসনের কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়া এসব মানুষগুলোও সমলোচনার বাইরে যেতে পারেনি। এতে তারা হয়েছেন ব্যথিত। প্রত্যাশিত খাদ্যশস্য বিতরণ কিংবা সব মানুষের কাছে খাদ্যশস্য বিতরণ করতে না পারায় সাধারণ মানুষের গালি-গালাজও কম শুনতে হচ্ছে না মাঠপর্যায়ের এসব জনপ্রতিনিধিদের। তারপরও বৈষ্ণিক এই সমস্যায় তারা সেই সমালোচনাকে অগ্রাহ্য করে কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। নিজেদের পকেট থেকে দিয়ে হলেও সাধারণ মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর অনবরত চেষ্টা করে যাচ্ছেন কাউন্সিলরগণ।

১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন বলেন, আমরা জনগণের কাছে থেকেই করোনা মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের দুই ভাবে কাজ করতে হচ্ছি। প্রথমত করোনা ঝুঁকি মোকাবেলায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতা, দ্বিতীয়ত সাধারণ মানুষের কাছে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া। প্রথম থেকেই আমরা এলাকায় এলাকায় জীবাণুনাশক পানি ছিটানো, লিফলেট বিলি, হাত ধোয়ার বেসিন বসিয়েছি। পরবর্তীতে পৌরসভা থেকে বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য সকলের নিকট বন্টন করা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের অন্যান্য স্থানে খাদ্যশস্য বিতরণ নিয়ে কথা উঠলেও আমি ১০০% গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, অন্তত আমাদের এখানে সেই সম্ভাবনা ১ পারসেন্টও নেই। বরঞ্চ যাদের কাছে খাদ্যশস্য পৌঁছাতে পারিনি কিংবা যাদের বাসায় খাবার শেষ হয়েছে, এমন প্রচুর পরিবারকে আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে খাদ্যশস্য দিয়েছি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সংস্থাকেও ত্রাণ বিতরণের জন্য অর্থ দিয়ে যাচ্ছি। আমরা চাই, এই দুর্ভোগে যেন কেউ না খেয়ে না থাকে।

৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পুলক দে বলেন, করোনা মোকাবেলায় কাউন্সিলররা সার্বক্ষণিক মাঠেই রয়েছে। কারো ডাক পড়লেই দৌঁড় দিতে হতে হচ্ছে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনাসহ খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিও পালন করতে হচ্ছে কাউন্সিলরদের। তিনি জানান, এ পর্যন্ত তাঁর ওয়ার্ডে ১০৮৮ মানুষকে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে এবং ৪৮ শিশুকে শিশু খাদ্য দেয়া হয়েছে।

৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বাবু পৌর এলাকায় ৩১টি হাত ধোয়ার বেসিন বিতরণ করা হয়েছে জানিয়ে বলেন, করোনা ঝুঁকি মোকাবেলার প্রথম থেকে ছয় ধাপে জনগণের মাঝে খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া মাস্ক, লিফলেট বিতরণও করা হয়েছে বলে জানান তিনি। একই সাথে রাঙামাটিতে কেউ করোনা রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করলে কবর দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসন থেকে যে কমিটি করা হয়েছে, তার প্রথম নামটি এই কাউন্সিলরের রয়েছে।

৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীন বলেন, পৌরসভা থেকে যেসব সহায়তা করা হয়েছে কাউন্সিলরদের মাধ্যমে সেগুলো ছাড়াও আমি আমার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেশ কিছু কাজ করেছি। আমার ওয়ার্ডে দুই হাজার মাস্ক বিতরণ করেছি। এছাড়া পৌরসভা থেকে হাত ধোয়ার জন্য অস্থায়ীভাবে তিনটি বেসিন দিলেও, আমিও আরো আটটি বেসিন নিজ উদ্যোগে বসিয়েছি। এছাড়া স্প্রে মেশিন ও বোতল স্প্রে’র মাধ্যমে আমার ওয়ার্ডটি করোনা মুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাশাপাশি ব্যক্তি উদ্যোগেও ত্রাণ বিতরণ করেছি।

৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা বলেন, আমরা পৌরসভার যেসব কাজ সেসবের পাশাপশি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মসূচিও সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছি। সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগে তাদের পাশে থেকে তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথাও প্রশাসনকে জানানো চেষ্টা করছি। পাশাপাশি পৌরসভার খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিসহ সচেতনতামূলক কাজ করে যাচ্ছি। তিনি বলেন, এছাড়া বিদেশ ফেরত কিংবা জেলার বাইরে থেকে কেউ আসলে তার হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিতের জন্যও কাউন্সিলদের কাজ করতে হচ্ছে।

রাঙামাটি পৌরসভার কাউন্সিলদের পাশাপাশি সংরক্ষিত ওয়ার্ডের তিন মহিলা কাউন্সিলরও তাদের সীমিত সামর্থ্যরে মধ্যে জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যেতে দেখা গেছে। ২ নং ওয়ার্ডের করিম আকবর,৫ নং ওয়ার্ডের বাচিং মারমা,৬ নং ওয়ার্ডের রবিমোহন চাকমা,৯ নং ওয়ার্ডের বিল্লাল হোসেন টিটু এবং তিন নারী কাউন্সিলর রূপসী দাশ গুপ্তা,সোমা বেগম পূর্ণিমা এবং জুবাইতুন নাহারকেও কমবেশি সক্রিয় দেখা যাচ্ছে নিজ নিজ ওয়ার্ডে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

এই সংবাদটি দেখুন
Close
Back to top button