করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

করোনা নিয়ে কি ভাবছে রাঙামাটির মানুষ ?

পুরো পৃথিবীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে একটি মাত্র অনুজীব। নেই কোলাহল, নেই কর্মচাঞ্চলত্য। যেন এক ভীতিকর পরিবেশ সবদিকে। করোনা নিয়ে কি ভাবছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শিক্ষক প্রশিক্ষক ও চিন্তাবিদ শামসুদ্দিন শিশিরের মতে-‘করোনা বিশ্বব্যাপী যে তান্ডব চালাচ্ছে তা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ ব্যক্তি সচেতনতা। যুদ্ধটা নিজের সাথেই। মনকে বলতে হবে আমি ঘরের বাইরে যাবো না। স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলবো। তাহলে মুক্তি মিলতে পারে। তবে কতদিনে এ মুক্তি মিলবে তা বলা মুশকিল।’

রাঙামাটি জেলার বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক শাওন ফরিদের মতে, ‘মানবকূলের এই কঠিন সংকটময় মুহুর্তে যার যার সাধ্যমতো মানবতার হাত বাড়িয়ে দিন। সাবধানতা অবলম্বন করুন, নিজে বাঁচুন নিজ পরিবারকে বাঁচান এবং দেশের মানুষকে রক্ষা করুন। সর্বনাশা এই মহামারী থেকে আমরা যেন শিক্ষা গ্রহণ করি। অর্থবিত্ত, ধনদৌলত, ক্ষমতা, জীবনের সবকিছু নয়। ত্রানচোর, অতিলোভ, অতি ভোগবিলাসী, খুনখারাপিদের সামাজিকভাবে বর্জন ও ঘৃনা করুন। সংকট এসেছে, চলছে আর কতোদিন চলবে জানিনা। আমাদের ধৈর্য সহ্য সহমর্মিতায় মোকাবিলা করতে হবে। সাবধান হতে হবে, নিয়মশৃঙ্খলা ও আইন মেনে চলতে হবে। নয়লে অনেক বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে “সবার উপর মানুষ সত্য, তার উরে কিছু নাই”।

উন্নয়নকর্মী ললিত সি চাকমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লিখেছেন-‘ক‌রোনা ভাইরাস: মানুষ‌কে ব্য‌ক্তি স্বাতন্ত্র্যবাদ শিক্ষা দেওয়ার এক অদম্য হা‌তিয়ার যার সুচনা হ‌য়ে‌ছে সমাজতা‌ন্ত্রিক দেশ থে‌কে!’ আসুন, কিছু দি‌নের জ‌ন্যে অসামা‌জিক হয়ে ক‌রোনা ভাইরা‌সের সংক্রমন প্র‌তি‌রো‌ধে সামিল হই।’

রাঙামাটি শহরের স্বেচ্ছাসেবিদের মধ্যে পরিচিতমুখ বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের সমন্বয়ক শহীদুল ইসলাম রাসেলের মতে, ‘বর্তমান বৈশ্বিক এই মহামারি করোনা ভাইরাসের কারনে বিশ্বব্যাপী সবাই তটস্থ। বাংলাদেশেও এই সংকট মোকাবেলায় খুব হিমশিম খাচ্ছে। এই পর্যন্ত দেশে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে। এইটা দিনের পর দিন দ্বিগুণ হারে বাড়বে বোঝায় যায়। এই সংকট মোকাবেলায় সর্বপ্রথম ব্যক্তিগত সচেতনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি আমি নিজে সচেতন না হলে কখনো এই সংকট সরকারও মোকাবেলা করতে পারবেনা। করোনায় তাই আতংক নয় সচেতন হোন। সামাজিক এবং শারিরীক দূরত্ব বজায় রাখুন। এখনি সময় দেশপ্রেমে উদ্ভুদ্ধ হয়ে এ মাতৃভূমি এ জাতিকে রক্ষা করতে সবার এক হয়ে কাজ করা। আমাদের সামান্য ভুলত্রুটি এ দেশকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। তাই সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন। ঘরে থাকুন…।’

রাঙামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মোছাম্মৎ রুবি আকতারের মতে, ‘এই করোনা তুমি যাও এবার বিদায় হও তুমি আর এসো না। সকলের হয়েছে মহান শিক্ষা, দাও তুমি এবার আমাদের ক্ষমার দিক্ষা।’

রাঙামাটি শহরের তরুন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা নিজাম উদ্দিন সোহাইলের মতে, ‘ঘুম থেকে উঠেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দিন রাত এক করে করোনা নিয়ে প্রশাসন কি কি কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে, ডাক্তার রা চরম ঝুঁকি নিয়ে কিভাবে সেবা দিচ্ছে, সংবাদকর্মীরা রোদে পুড়ে পুঁড়ে কিভাবে খবর সংগ্রহ করে আমাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে, পাড়া-মহল্লার, বাজারের, দেশের পরিস্থিতি দেখতে নিজেরাই বেরিয়ে পরবো। এটাই হলো আমাদের স্বভাব, এখনই স্বভাব না পাল্টালে দেশ ও জাতির জন্য ভয়ংকর বিপদ অপেক্ষা করছে।’

গৃহিনী ও শিক্ষানবিশ আইনজীবি উমা দত্ত বলেন, ‘সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ, মানুষের সচেতনতাব জনপ্রতিনিধিদের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানো … যাদের সার্মথ‍্য আছে তাদের পাশের প্রতিবেশীর একটু সহায়তা… এগুলো এই মুহূর্তে জরুরী…. সর্বোপরি আমাদের ব‍্যক্তিগত সচেতনতাই পারে আমাদের এই মহামারী থেকে অনেকাংশে রক্ষা করতে…..’

দেশের সীমান্তবর্তী বাঘাইছড়ি উপজেলার সমাজকর্মী ও ছাত্রনেতা শাহজাদা সৈয়দ আবদুল বারির মতে, ‘চীন থেকে প্রথম আক্রান্ত হওয়া এই ভাইরাস দেশের মধ্যেও প্রতিদিন শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। এমতাবস্থায় কঠিন বিপদের সম্মুখীন হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমি আপনার মাধ্যমে রাঙামাটিতে করোনা টেস্ট ল্যাব ও কৃত্রিম শ্বাস যন্ত্র ভেন্টিলেটর দ্রুত স্থাপনের দাবি জানাচ্ছি। যার দরুণ করোনা টেস্টের রিপোর্ট দ্রুততার সাথে পাওয়া যায়। আমরা লক্ষ্য করেছি যে, রাঙামাটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে এটা মানুষের জন্য খুবই বিরক্তিকর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

MicroWeb Technology Ltd

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button