করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

করোনার টিকা বঞ্চিত গুরুসুতাং পাহাড়ের বাসিন্দারা

আরমান খান, লংগদু
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচির পাশাপাশি সারাদেশে ৭৫ লাখ মানুষকে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন টিকা দেয়ার কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গণটিকা প্রদানের এই কর্মসূচিতে এবারও টিকা নিতে পারেনি রাঙামাটির লংগদু উপজেলার দুর্গম গুরুসুতাং পাহাড়ের দুই গ্রামের বাসিন্দারা। এখানে লুংথাই পাড়ায় ১২ পরিবার এবং তাংপুই পাড়ায় ১৬ পরিবারের বসবাস।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫০ দশমিক ৮৩ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে লংগদু উপজেলার পূর্বপাড়ে গুলশাখালী ইউনিয়নের অবস্থান। এই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের শেষ সীমানায় গুইছড়ি ও গুরুসুতাং গ্রামের পাহাড়চূড়ায় বসবাস করে ত্রিপুরা ও পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর কিছু পরিবার। যারা সবাই পাহাড়ে পাহাড়ে জুমচাষ আর প্রাকৃতিক বনের ওপর নির্ভর কারে জীবনযাপন করে। এখানে নেই কোনো বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা। প্রকৃতির ওপর নির্ভর করা এই মানুষগুলো শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। করোনাভাইরাসের ভয়াবহতা ও টিকাগ্রহনের সুবিধার কথা জানলেও যোগাযোগের দুর্গমতার কারণে ভ্যাকসিন নেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত তারা।

স্থানীয় যুবক লালা পাংখোয়া জানান, আমরা অনেক কষ্ট করে এখানে বসবাস করি। তবে প্রয়োজনে পায়ে হেঁটে হাটবাজারে যাই। করোনাভাইরাসের কথা শুনি, কিন্তু কিভাবে ভ্যাকসিন নিবো সেই বিষয়ে কোনো পরামর্শ পাইনি।

স্থানীয় পাড়াকেন্দ্রের শিক্ষক মনি পাংখোয়া বলেন, আটাশ পরিবারের এই ছোট্ট দুটি গ্রামে সব মিলিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ আছেন। যাদের ভ্যাকসিন প্রদান করার জন্য একদিনের একটি কর্মসূচি নিলে পাড়ার সবাই একসঙ্গে মিলিত হতে পারে। এবং ইউনিসেফের শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পাড়াকেন্দ্রেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা সম্ভব।

স্থানীয় মৌজা প্রধান (হেডম্যান) বিয়াকথাং পাংখোয়া জানান, আমরা এখানে যারা বসবাস করি সবাই জুম চাষী। সবাই নিজের কাজে ব্যস্ত। তবে করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে ভ্যাকসিন নেয়া দরকার। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা আমাদের পাড়ায় একদিন কষ্ট করে আসলে সবাইকে এই ভ্যাকসিনের সুবিধা দেয়া যাবে। আমরা সবাই সরকারের এই উদ্যোগকে সমর্থন জানাই।

গত ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এরপর গত সাত আগস্ট প্রথম দফায় গণটিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়। যার দ্বিতীয় ডোজ গত ৮ সেপ্টেম্বর এবং মঙ্গলবার তৃতীয় বারের মত আবারো গণটিকা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে গণটিকার এই কর্মসূচিতে দূর্গম গুরুসুতাং এলাকার পাংখোয়া পাড়ার কোনো বাসিন্দাই নিবন্ধন করেননি।

এ বিষয়ে গুলশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু নাছির বলেন, দুর্গম পাংখোয়াপাড়া এবং ত্রিপুরা পাড়ার বাসিন্দারা এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিনের আওতায় আসেনি। তারা পাহাড়ের এমন গহীনে বসবাস করে যেখানে যাতায়াত কষ্টসাধ্য। তবে শীঘ্রই স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ নিয়ে তাদেরকে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. অরবিন্দ চাকমা জানান, আমাদের কাছে তথ্য আছে দুর্গম কিছু এলাকার মানুষ টিকার আওতায় আসেনি। তবে এখনো যেহেতু পর্যাপ্ত টিকা মজুদ নেই তাই তাদের বিষয়টি পরে বিবেচনা করা হবে। টিকা প্রদানের চাপ কিছুটা কমে আসলে তাদের এলাকায় গিয়ে ক্রাশ পোগ্রামের মাধ্যমে ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা আছে।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button