করোনাভাইরাস আপডেটব্রেকিংরাঙামাটিলিড

করোনাকালে রাঙামাটিবাসীর পাশে একজন মঈনউদ্দিন সেলিম

মরণব্যাধি কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস যখন বিশ্বজুড়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে, তখন পুরো আপতকালিন সময়ে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে রাঙামাটির নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের পাশে থাকতে চান মঈন উদ্দিন সেলিম। সারাদেশে সাধারণ ছুটি ও অঘোষিত লকডাউনের কারণে খেটে খাওয়া নিম্নবিত্ত ও মধ্যমআয়ের মানুষের ভাগাঢ়ে পড়েছে টান। তাই দেশে অন্যস্থানগুলোর মত পার্বত্যজেলা রাঙামাটিতেও সরকারি, বেসরকারি ত্রাণ কার্যপরিচালিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
রাঙামাটির নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের পাশে সরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন, তার পাশাপাশি এইসব সাময়িক বেকার হয়ে পড়া মানুষের পাশে বেসরকারি ভাবে ত্রাণ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে আওয়ামী পরিবার খ্যাত হাজী মো. ইউসুফ আলী কোম্পানীর পরিবারের পক্ষে তার কনিষ্ঠ পুত্র বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল(যাত্রী পরিবহন) সংস্থা, রাঙামাটির জোনের সভাপতি মো. মঈন উদ্দিন সেলিম।
সদ্যবিদায়ী বাস মালিক সমিতির এই সভাপতি বলেন, ১লা এপ্রিল থেকে ইতিমধ্যে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় ৮শত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেছি, বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত আছে। প্রচার নয় নিতান্তই খেটে খাওয়া মানুষগুলোর দুসময়ে পাশে থাকার জন্যই ত্রাণ বিতরণ করছি। প্রধানমন্ত্রীর জনগণের পাশে থাকার বক্তব্য থেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে আমি ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে হাত দিয়েছি, আমিও চাই সামজের মানুষের পাশে থেকে এই মানুষগুলোর সুখ দু:খ ভাগাভাগি করে নিতে। এই রকম বৈশি^ক দুর্যোগের সময় আমরা ব্যবসায়ীরা যদি এগিয়ে না আসি তাহলে কে আসবে। আমরা এত টাকা পয়সা উপার্জন করে যদি তার কিছু অংশ মানবকল্যাণে ব্যয় করতে না পারি সেটাতো আমাদের ব্যর্থতা।
প্রথমদিকে আমি ৩ শত মানুষকে ত্রাণ বিতরণ করি, কিন্তু তখন দেখি ত্রাণের প্রয়োজনে মানুষে মাঝে হাহাকার রয়েছে। সে সময় আমি আমাদের নেতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারের সাথে কথা বলি। তখন তিনিও আমাকে উৎসাহিত করেন, প্রতিদিন ৩০-৫০ পরিবার করে মানুষকে ত্রাণ সহায়তা প্রদান করতে। প্রয়োজনে পাশে থাকারও কথা জানান তিনি। তখন থেকে আমি মনস্থির যতদিন এই বৈশ্বিক দুর্যোগ না কাটবে ততদিন দৈনিক ৩০-৫০পরিবার করে ত্রাণ বিতরণ করবো। এই খাদ্য সামগ্রী দিয়ে একটি পরিবার যাতে অন্তত ১০ দিন চলতে পারে সে চিন্তা মাথায় রেখে প্রতিটি ত্রাণের প্যাকেট করা হয়েছে।
ত্রাণ বিতরণে আমি নিম্নআয়ের খেটে খাওয়া মানুষকে যেমন প্রাধান্য দিচ্ছি তেমনিভাবে যেসব মধ্যমআয়ের মানুষ কখনো লাইনে দাড়িয়ে ত্রাণ নেয়নি, কিন্তু বর্তমানে কষ্টে আছে, তাদেরও বাসায় ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি যতটুকু সম্ভব। ত্রাণ বাড়িতে পৌঁছে দিতে আমার ব্যক্তিগত একটি গাড়ি ব্যবহারেরও অনুমতি দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
ইতিমধ্যে শহরের চেঙ্গীমুখ কিছু, জুলিক্কা পাহাড়, তিন জালিয়া পাড়া, সাওতাল পাড়া, রিজার্ভমুখ, ভেদভেদীসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং বাঘাইছড়িতে আমাদের গ্রামের বাড়ি এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করেছি।
যেকোন মধ্যবিত্ত ও খেটে খাওয়া মানুষ তার প্রয়োজনীয় ত্রাণ সহায়তার কথা আমাকে জানালে আমি সহায়তার করতে প্রস্তুত আছি। এই দুর্যোগ সবাইকে মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাটিয়ে উঠতে হবে। তার জন্য সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।
সেলিমের দেয়া ত্রাণ সামগ্রী সাধারণ মানুষের হাতে তুলে দিতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার, রাঙামাটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশিদও।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

2 × 1 =

Back to top button