রাঙামাটি

কমিউনিটি পুলিশিং ডে’তে র‌্যালি-আলোচনা রাঙামাটিতে

জিয়াউল জিয়া
সারা দেশের ন্যাায় রাঙামাটিতেও বর্ণাঢ্য আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং ডে পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও শিল্পকলা একাডেমীতে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাঙামাটির পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নের বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। অনুষ্ঠানে বিশিষ অতিথি হিসেবে রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. তরিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, এক হাজার চারশত মানুষের নিরাপত্তা দিচ্ছে মাত্র একজন পুলিশ। এই ১জন পুলিশ এতো মানুষের নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব না। এই জন্য কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে এলাকার নিরাপত্তা এবং অপরাধ কমিয়ে আনা সম্ভব। আমি মনে করি স্কুল কলেজে শিক্ষার পাশাপশি ছাত্র-ছাত্রীদের এসব বিষয়ে আরও সচেতন করা গেলে ভবিষ্যতে আরও সুন্দর দেশ গড়া সম্ভব।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অংসুই প্রু চৌধরী বলেন, পুলিশকে সহযোগিতা দেয়ার জন্য এই কমিউনিটি পুলিশিং এর কার্যক্রম সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। এসব কাজের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে পুলিশের ধারনা অনেক অংশে পাল্টে যাচ্ছে। অনেক সময় কোন মামলা হলে যেখানে কোন কোন ক্ষেত্রে নিরাপরাধ মানুষ এজাহারভূক্ত আসামী হয়ে যান, এসব ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ যেন কোনভাবে হয়রানি না হয় সেদিকে পুলিশকে আরও যতœবান হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা ভালো থাকলে উন্নয়ন করা সম্ভব।
জেলা প্রাশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দেশে যখন জঙ্গিবাদ মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চেষ্টা করেছিল তখনি পুলিশ এসব জঙ্গি দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। পুলিশ রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। জনগনের আরও কাছাকাছি যেতে পুলিশ নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ৯৯৯ সাধারণ মানুষের বিপদের বন্ধু হিসেবে কাজ করছে। আমিও একবার এই সেবা গ্রহণ করি। কিভাবে সমাজে অপরাধ কমানো যায় এই লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং কাজ করছে।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মীর আবু তৌহিদ বলেন, পুলিশ মানুষের বন্ধু। সেই লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। মানুষ যেন ঘরে বসে পুলিশের সেবা পায় সে জন্য অনলাইনে জিডি সহ নানা ধরনের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। সারা দেশে ইউনিয়ন পর্যায়ে এই কমিউনিটি পুলিশিং সেবা চালু আছে। এর মধ্যমে সাধারণ মানুষ নানা ধরনের সেবা গ্রহণ করতে পারছে একইভাবে নানা ধরনের অপরাধও কমে আসছে। আমরা এর কাজের গতি আরও বাড়াতে কাজ করছি।
এছাড়াও সভায় বক্তারা বলেন, মাদক-জঙ্গী-সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়তে সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সেই লক্ষ্যে সরকার বাংলাদেশে কমিউনিটি পুলিশিং প্রথা চালু করেছেন। স্থানীয় জনগনই এলাকার সমস্যা পুলিশকে জানাবে এবং পুলিশকে সাথে নিয়ে সমস্যার সমাধান করা হবে। করোনার সময় কমিউনিটি পুলিশিং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতনতার কারনে পার্বত্য জেলা রাঙামটিতে করোনা সেভাবে ছড়াতে পারেনি। জঙ্গিবাদ আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে চাচ্ছে। কোন এলাকায় এই ধরনের কোন ঘটনা দেখলে অবশ্যই পুলিশকে জানতে আহ্বান জানানো হয় কমিউনিটি পুলিশিং সভা থেকে।
আলোচনা সভার আগে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মোটরযান র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমী প্রাঙ্গনে শেষ হয়।

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

17 + seven =

Back to top button