রাঙামাটিলিড

কচুরিপানায় আটকে হাসফাঁস কাপ্তাই হ্রদে

সুহৃদ সুপান্থ

ফি বছর বর্ষা মৌসুমে কচুরিপানায় নাকাল হতে হয় পার্বত্য জেলা রাঙামাটিবাসিকে। জেলার দশটি উপজেলার মধ্যে সাতটির সাথেই মূলত যোগাযোগ নৌপথেই। ৭৩০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সুবিশাল কাপ্তাই হ্রদে জালের মতো ঘিরে রেখেছে এই জেলাকে,যা এই জনপদের যোগাযোগের প্রধানতম মাধ্যমও। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে হ্রদের জলে বিপুল পরিমাণের কচুরিপানার উপস্থিতির কারণে বিপাকে পড়তে হয় হ্রদে চলাচলকারি নৌযানগুলোকে। এনিয়ে বছর বছর নানান আলোচনা হলেও সমাধান মিলেনি বহুবছরেও।

এই বছর ইতোমধ্যেই একাধিক দূর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে। তিনদিন আগে,হ্রদের সুভলং চ্যানেলে কচুরিপানায় আটকে পড়েন বেশ কয়েকটি পর্যটকবাহি বোট। দীর্ঘ সময় চেষ্টা চালিয়েও তারা কচুরিপানার জঞ্জাল থেকে নিজেদের মুক্ত করতে না পেরে ৯৯৯ এ ফোন করে পুলিশী সহায়তায় উদ্ধার হন। কচুরিপানায় শুধু যে পর্যটকবাহি নৌযানই নাকাল হচ্ছে তা নয়, হ্রদে চলাচলারি ছোট বড় সব নৌযানই ব্যাপক সমস্যায় পড়ছে,নষ্ট হচ্ছে নৌযানের যন্ত্রপাতি,নষ্ট হচ্ছে অনেক সময়। বড় বড় লঞ্চগুলো কোন কারণে কচুরিপানা কাটিয়ে চলে যেতে পারলেও পোহাচ্ছে দীর্ঘসময় ক্ষেপন ও প্রপেলার নষ্টের দুর্ভোগ।

রাঙামাটি ফায়ারসার্ভিস জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে একাধিকবার জরুরী কল পেয়ে সুবলং চ্যানেলে কচুরিপানায় আটকে থাকা বেশ কয়েকটি নৌযান উদ্ধারে অভিযান চালাতে হয়েছে তাদের। বর্তমানে যে স্থানটিতে কচুরিপানা বেশি ভোগাচ্ছে যাতায়াতকারিদের সেটি হলো সুবলং চ্যানেল। পাহাড়ে ঘেরা এই স্থানটি পাড় হয়েই যেতে হয় বিখ্যাত সুবলং ঝর্ণায়,যেটি রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের অবশ্যাম্ভাবি গন্তব্য।

রাঙামাটি পর্যটন ঘাটের ট্যুরিষ্ট বোট চালকদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা রমজান আলী বলেন, ‘ প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে এই কচুরিপানার দুর্ভোগ পোহাতে হয় আমাদের। এই বছর করোনার কারণে দীর্ঘ লকডাউন শেষে যখন পর্যটকরা আসতে শুরু করেছে,তখনই কচুরিপানার কারণে পর্যটক পরিবহন সমস্যা শুরু হয়েছে কচুরিপানার কারণে। এই সমস্যার স্থায়ী সুরাহা করা না হলে আমাদের ব্যাপক ক্ষতি হবে।’

রাঙামাটি লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি মঈনদ্দিন সেলিম বলেন-‘ আমাদের বড় লঞ্চগুলো তো সময় নষ্ট হলেও কোন কারণে যাতায়াত অব্যাহত রাখতে পেরেছি,কিন্তু ছোট ও মাঝারি বোটগুলোর খুবই সমস্যা হচ্ছে । আমাদের বড় লঞ্চেরও বাড়তি সময় লাগছে,প্রপেলার নষ্ট হচ্ছে। সুবলং,কাইন্দারমুখ,ফোরেরমুখ এলাকায় সবচে বেশি সমস্যা হচ্ছে।’ কচুরিপানা নিয়ন্ত্রন করা অতীব জরুরী বলে মন্তব্য করেছেন এই লঞ্চ ব্যবসায়ি।

রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মোঃ বিল্লাল হোসেন জানিয়েছেন, গত দুইদিনেই জরুরী কল পেয়ে আমরা সুবলং চ্যানেলে গিয়ে দুই দফায় ১৩/১৪ টি বোট ও যাত্রীদের উদ্ধার করে আনতে হয়েছে। বিষয়টি খুবই ঝামেলার ও ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ শহর থেকে এতদূরে গিয়ে রাতে কিংবা ঝড়বৃষ্টি হলে উদ্ধার করাটা আসলেই কঠিন। এই বিষয়ে আমরা প্রশাসনকেও অবহিত করেছি। এই বিষয়ে পর্যটক এবং বোট চালকদের সচেতন করতে হবে এবং কচুরিপানা নিধনে পদক্ষেপ নিতে হবে।’

কাপ্তাই হ্রদের মৎস সম্পদ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ মৎস উন্নয়ন কর্পোরেশন( বিএফডিসি)র রাঙামাটির ব্যবস্থাপক কমান্ডার তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি স্থানে কচুরিপানার কারণে চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনগুলোর সাথে কথা বলছি,কি করা যায়।’ তিনি বলেন, সম্ভবত উজান থেকে আসছে এসব কচুরিপানাগুলো। কচুরিপানার কারণে মাছের কোন সমস্যা হচ্ছেনা, যাতায়াত ও যোগাযোগেই সমস্যা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই কর্মকর্তা।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও ভাবছি,কি করা যায়,সেই ব্যাপারে শীঘ্রই পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

এই বিভাগের আরো সংবাদ

Leave a Reply

Back to top button